নূরানী ডায়িংয়ের আইপিও অর্থ এখনো অব্যহৃত

0
479

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত তহবিলের অর্ধেকের বেশি অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যয় করতে পারেনি নূরানী ডায়িং অ্যান্ড সোয়েটার লিমিটেড। এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটি আইপিও তহবিলের ৪৩ দশমিক ৪২ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে।

অব্যবহূত রয়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ অর্থ। কোম্পানিটির আইপিও তহবিল ব্যবহার-সংক্রান্ত নিরীক্ষক আহমেদ জাকির অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের ১ জুন আইপিও তহবিল হাতে পাওয়ার ১৮ মাস অর্থাৎ এ বছরের ১১ নভেম্বরের মধ্যে পুরো অর্থ ব্যয় করতে হবে। এর মধ্যে নতুন যন্ত্রপাতি আমদানি বাবদ ২৪ কোটি ৩৩ লাখ, স্টিলের কাঠামো ও ভবন নির্মাণ বাবদ ৫ কোটি, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ১১ কোটি ৮০ লাখ ও আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা খরচ করার কথা ছিল।

তবে সর্বশেষ এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্টিলের কাঠামো ও ভবন নির্মাণ, ব্যাংকঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খাতের জন্য বরাদ্দকৃত পুরো অর্থই ব্যয় করেছে কোম্পানিটি। এর বিপরীতে নতুন যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপন বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থের পুরোটাই অব্যবহূত রয়েছে। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট আইপিও তহবিলের ৪৩ কোটি টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ৬৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। অব্যবহূত রয়েছে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

আইপিও তহবিল ব্যয়ের বিষয়ে কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, এলসি খুলে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করার বিষয়টি কিছুটা সময়সাপেক্ষ। এ কারণে অন্যান্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা হয়ে গেলেও যন্ত্রপাতি বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। তাই কোম্পানির আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএমে) আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যয়ের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ২ শতাংশ নগদ ও ১১ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে নূরানী ডায়িংয়ের পর্ষদ। সমাপ্ত হিসাব বছরে এর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ১৩ টাকা ১০ পয়সা।

২০ ডিসেম্বর হোটেল পেনিনসুলা চিটাগংয়ে বেলা ১১টায় কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন একই স্থানে সকাল ১০টায় অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) আয়োজন করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে নূরানী ডায়িং। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০১৭ এর এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১২ টাকা ৭৬ পয়সায়।

নূরানী ডায়িং ২০০৫ সালে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে যাত্রা করে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তারা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়। কোম্পানিটি নিজ কারখানায় আমদানি করা সুতা রঙ করে তা থেকে সোয়েটার বোনে। রঙ করা সে সুতা রফতানিমুখী বন্ডেড পোশাক কারখানাগুলোতেও বিক্রি করে তারা।

বর্তমানে নূরানী ডায়িংয়ের পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রিজার্ভ ১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের ৩৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালকের কাছে, ২০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪২ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৩১ দশমিক ৩৬। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ১২ দশমিক ৩৩।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here