নিষিদ্ধ তবুও সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি, অতপর…

0
1396
সিনিয়র রিপোর্টার : যদিও অনুমোদন নেই তবুও প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি! কোম্পানি শেয়ার বিক্রির টাক‍া নিয়েও বিনিয়োগকারীকে দিচ্ছে না প্লেসমেন্ট শেয়ার। শেয়ার না দিয়ে উল্টো বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার ফেরত চেয়েছে। এমনি অভিযোগ ওঠেছে সম্প্রতি আইপিতে আসা  সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে।
শেয়ার দিতে টালবাহনা করায় কয়েকজন বিনিয়োগকারী  বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিএসইসি বলেছে- আমরা কখনও প্লেসমেন্ট বিক্রির অনুমোদন দেই না। তারপরও বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে যদি সত্য প্রমাণ হয় তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর গত ১৯ জুন সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগ করেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে আছেন- মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া ও মো. শাহ জামান।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) শেষে সুহৃদ ইন্ডাষ্ট্রিজের লটারির ড্র আগামী ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে লটারি আয়োজন করা হয়েছে।
মাহফুজুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছে দুটি আবেদনের মাধ্যমে এক লাখ করে মোট দুই লাখ প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ চান তিনি। এর বিপরীতে কোম্পানির নামে প্রতিটি শেয়ার মূল্য  ১০ টাকা হিসেবে মোট ২০ লাখ টাকা জমা দেন। তিনি দুটি চেকের মাধ্যমে ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ টাকা জমা দেন বলে জানিয়েছেন।

ইস্টার্ন ব্যাংকের চেক নম্বর দুটি হলো- এসবি ৭৪০৭৪২৯ এবং এসবি ৭৪০৭৪৩০। ইস্টার্ন ব্যাংক মতিঝিল শাখার মাধ্যমে ২০১০ সালের ১১ আগস্ট কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক ধানমন্ডি শাখায় পাঠানো হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ডাকযোগে আবেদনকারীর নামে এসবি ৭৪০৭৪২৯ চেকের বিপরীতে মাত্র ১ লাখ শেয়ার ইস্যু করে। এরপরে ২০১১ সালে লভ্যাংশ বাবদ আরও ১০ হাজার শেয়ার ইস্যু করে। তবে এসবি ৭৪০৭৪৩০ চেকের বিপরীতে আজ পর্যন্ত কোনো শেয়ার ইস্যু করা হয়নি। তাই তিনি কোম্পানির বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন বিএসইসিকে।

এ বিষয়ে মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্লেসমেন্ট শেয়ার নেওয়ার জন্য টাকা জমা দেওয়ার পর আমি কয়েকবার কোম্পানিতে যাই। এছাড়া ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর বাকি ১০ লাখ টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার দেওয়ার আবেদন করেছিলাম। পরবর্তীতে কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাহমুদুল হাসান দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের জন্য আমাকে আশ্বাস দেন। কিন্তু আজও তার সমাধান হয়নি।

অভিযোগের ব্যাপারে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্ল্যাক মেইলিং। আমাদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য কেউ এসব অভিযোগ করে থাকতে পারে। তিনি  বলেন, তবে কেউ যদি কোম্পানি বরাবর টাকা জমা দেওয়ার রশিদ (মানি রিসিট) দেখাতে পারেন, তাহলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে একই নামে ২ লাখ শেয়ারের কোনো আবেদন আসেনি। তাছাড়া আমরা যদি কাউকে তার আবেদন অনুযায়ী প্লেসমেন্ট বরাদ্দ না দিয়ে থাকি তবে তিনি গত তিনটি বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) কেন অভিযোগ করেননি?

তবে সুহৃদ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও আমলে নেওয়া হয়নি। বিনিয়োগকারীদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

মো. শাহ জামান নামের আরেক বিনিয়োগকারীর অভিযোগ, ২০১০ সালের ৯ আগস্ট কোম্পানি বরাবর ১ লাখ ২০ হাজার প্লেসমেন্ট শেয়ার নেওযার আবেদন করেন তিনি। এর বদলে তাকে মাত্র ৬০ হাজার শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অথচ তিনি উত্তরা ব্যাংকের ফুলবাড়িয়া শাখায় দুইটি চেকের মাধ্যমে মোট ১২ লাখ টাকা কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছিলেন।

শাহ জামান বলেন, এখন কোম্পানির পক্ষ থেকে বিভিন্ন মারফত আমাকে বরাদ্দকৃত শেয়ার ফেরত দিয়ে টাকা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও কমিশন মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, আমরা কখনও প্লেসমেন্ট বিক্রির অনুমোদন দেই না। তারপরও বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়াকে ডেকেছিলাম। সবকিছু শুনে কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগটি পাঠিয়ে দিয়েছি। তদন্ত করে যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পেছনের খবর : সুহৃদ ইন্ডাষ্ট্রিজে ৪২ গুণ আবেদন, লটারি ১০ জুলাই

আরো খবর : আইপিওতে আসা সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের ‘আমলনামা’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here