নির্ধারিত সময়ের আগেই ওইমেক্সের কারখানা সম্প্রসারণ

0
442

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসা ওইমেক্স ইলেকট্রোড লিমিটেডের সক্ষমতা সম্প্রসারণের কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি এনে কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বাজারে সাড়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করে ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করতে চায় কোম্পানিটি।

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আইপিওর অর্থ পাওয়ার এক বছরের মধ্যে তা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এর ছয় মাস আগেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছে কোম্পানিটি।

জানতে চাইলে ওইমেক্স ইলেকট্রোডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ইকরামুল ইসলাম বলেন, আইপিওর টাকায় আংশিক ব্যাংক ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি বেশকিছু যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে। এতে আমাদের খুব বেশি সময় না লাগায় নির্ধারিত সময়ের আগেই আইপিওর পুরো অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, কারখানায় নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের ফলে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও এখনই এর পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। কাঁচামালের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে বর্ধিত উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ওইমেক্সের আইপিও তহবিল ব্যবহার-সংক্রান্ত নিরীক্ষকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চে কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত ১৫ কোটি টাকার পুরোটাই ব্যয় করেছে। এর মধ্যে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম বাবদ ৮ কোটি ৫০ লাখ, ব্যাংকঋণ বাবদ ৫ কোটি এবং আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহে ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কোম্পানিটির আইপিও প্রসপেক্টাস অনুসারে আজকের মধ্যে আইপিওর অর্থ ব্যয়ের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।

এদিকে, এ বছরের মার্চের মধ্যেই আইপিওর অর্থে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায় সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের শেষ প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক প্রতিবেদনে এর কিছুটা সুফল দেখা যাবে বলে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুযায়ী, নন-কনভার্টেবল প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওইমেক্স ইলেকট্রোড। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বাজারে সাড়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করে ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করতে চায় তারা। মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতেই এ অর্থ উত্তোলন করবে তারা।

এর আগে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৩ কোটি ৫০ লাখ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩৫ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল কোম্পানিটির। কিন্তু কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের এর পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত বিএসইসির নির্দেশনা পরিপালনের জন্য প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু পরিকল্পনা কিছুটা সংশোধন করেছে ওইমেক্সের পর্ষদ। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুমোদনে শেয়ারহোল্ডার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি চাইবে তারা।

তাছাড়া অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১২০ কোটি টাকা করার পাশাপাশি প্রেফারেন্স শেয়ারের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওইমেক্স ইলেকট্রোডের পরিচালনা পর্ষদ। এজন্য কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধির কিছু ধারা সংশোধনের প্রস্তাবে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য এ বছরের ৬ মে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) আয়োজন করে কোম্পানিটি। রেকর্ড ডেট ছিল ৫ এপ্রিল।

সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই ১৭-মার্চ ১৮) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ২৪ পয়সা, যা এর আগের বছর একই সময় ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ওইমেক্স। গেল হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৯ পয়সা। ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৬ টাকা ৯৬ পয়সায়।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ওইমেক্স ইলেকট্রোড ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর একটি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে যাত্রা করে। ২০১০ সালের মার্চে কোম্পানিটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৪ সালের আগস্টে তারা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়। কোম্পানিটি ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোড, জিআই তার ও তারকাঁটা প্রস্তুত করে।

বর্তমানে তাদের পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার টাকা ও অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মধ্যে ৪১ দশমিক ৭১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ও ২৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here