নিরীক্ষা বিভাগে কাজ করতে চান না ৪০ শতাংশ ব্যাংকার

0
235

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাংকিং খাতে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগে কাজ করার আগ্রহ খুবই কম। ১০০ জন ব্যাংকারের মধ্যে ৪০ জনই নিরীক্ষা বিভাগে কাজ করতে আগ্রহ দেখান না। অনাগ্রহী এসব ব্যাংকাররা মনে করেন, নিরীক্ষা বিভাগে কাজ করলে তুলনামূলক সময় দিতে হবে বেশি। ফলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেশি সময় দেয়া সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে মাত্র ১৯ শতাংশের প্রথম পছন্দ নিরীক্ষা বিভাগ। আগ্রহী ব্যাংকাররা মনে করেন, শাখাপর্যায়ে কাজ করলে টার্গেট পূরণের অস্বাভাবিক চাপ রয়েছে। এ জন্য অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগে কাজ করলে চাপমুক্ত থাকা যাবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘ইন্টারন্যাল অডিট এন্ড পারফরমেন্স অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী।

বক্তব্য দেন পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ড. সামসুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অনুষদ সদস্য এবং বেসিক ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম মোহাম্মদ কিবরিয়া। গবেষণা দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মহব্বত হোসেন, বিআইবিএমের প্রভাষক মাকসুদা খাতুন এবং আল্-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের প্রধান কামাল হোসেন-এসিএ।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্ল্যায়েন্স বিভাগে (আইসিসিডি) জনবল সংকট প্রকট। এ কারণে এ বিভাগের কর্মীদের ওপর চাপ বেশি থাকে। মোট কর্মীর মাত্র ১ দশমিক ৫২ শতাংশ আইসিসিডি বিভাগে কর্মরত। একজন কর্মীর ওপর চারটির বেশি শাখা নিরীক্ষার দায়িত্ব থাকে। আর ২২টির মতো শাখার দায়িত্ব থাকে একটি অডিট টিমের ওপর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসিসিডির জন্য আলাদা গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা সঠিকভাবে হলে জনগণের আমানতের অর্থ সুরক্ষিত থাকবে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকগুলোর নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। এতে ব্যাংকে ঋণ-সংক্রান্ত ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ড. সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রত্যেক ব্যাংকের শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার জন্য অডিট বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। কিন্তু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তা চায় না।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা আরো শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষ জনবল নিয়োগ করতে হবে। বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যাংকিং খাতের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

সমাপনী বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানই সফলতা অর্জন করতে পারে না। অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যাংকের নিরীক্ষা আরো জোরদার করা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here