‘নির্ভয়ে বিনিয়োগ করতে পারছিনা’

0
943

হোসাইন আকমল : ‘বাজার কি আর ভাল হবেনা? কোম্পানির শেয়ার দর উঠবে না? নির্ভয়ে তো কোন খাতেই বিনিয়োগ করতে পারছিনা’ -এমন আক্ষেপ অনেক বিনিয়োগকারীর। কারণ গত ১ মাসে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর পড়েছে।

এর মধ্যে বিবিধ এবং কাগজ ও মূদ্রণ খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ারদরে পতন হয়েছে গত এক মাসে। এরপরে বীমা খাতের ৯৩.৪৭৮ শতাংশ, আর্থিক খাতের ৯১.৬৬৬ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ডের ৮৮.৬৩ শতাংশ, ব্যাংক ও চামড়া খাতের ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে গত ১ মাসে।

চলমান বাজার পরিস্থিতিতে শোচনীয় অবস্থা বিরাজ করছে বিবিধ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে। এ খাতে শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত রয়েছে ১১টি কোম্পানি। ১১টি কোম্পানিরই শেয়ারদর কমতে শুরু করেছে। কোম্পানিগুলোর গত ১ মাসের  শেয়ারদরের চিত্র বিশ্লেষণে দরপতনের বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে।

দরপতনের ধারা অনুযায়ী বিবিধ খাতের শীর্ষে রয়েছে- বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। গত ১ মাসে এর শেয়ারদর কমেছে ১৪.০১ শতাংশ। এরপরে রয়েছে- সাভার রিফ্যাক্টরিজ ১৩.২৪ শতাংশ, ন্যাশনাল ফিড মিল লিমিটেড ১২.৬৯ শতাংশ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ৮.৫৩ শতাংশ, মির‌্যাকল ইন্ডাস্ট্রিজ ৭.৮৬ শতাংশ, জিকিউ বলপেন ৬.৮৩ শতাংশ, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ ৬.০৭ শতাংশ, উসমানিয়া গ্লাস ৫.০৬ শতাংশ, আরামিট ৪.০৫ শতাংশ, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২.৯৭ শতাংশ ও বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড ১.৮৩ শতাংশ।

miscellaneousllবিনিয়োগকারীদের অনেকেই মনে করছেন, অবরোধ না থাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নয়ন হলেও এখনো স্থিতিশীলতার অভাব রয়েছে। এমন পরিবেশে অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস ফিরে আসেনি। ফলে কেবল বিবিধ খাতের কোম্পানিই নয়, পুঁজিবাজারের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে।

তারা আরো বলেন, এ পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন করে আর বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেনা । বিনিয়োগ-নিরাপত্তা অনকূলে না আসা পর্যন্ত তারা হয়তো বাজার-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তবে তারা আশা করেন, বাজার-পরিস্থিতি ভাল হবে। বিবিধ খাতের মতো আরো যে খাতের দর কমতে শুরু করেছে- শীঘ্রই এমন দুর্যোগ থেকে তারা বেরিয়ে আসবেন।

নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক উসমানিয়া গ্লাসের এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি অনেক কোম্পানি আইপিওতে এসেছে। ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ আইপিও’র দিকে চলে গেছে। সেকেন্ডারি মার্কেটে তুলনামূলক লোকসান হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা প্রাইমারি মার্কেট অর্থাৎ আইপিও’র দিকে ঝুঁকেছেন।

এতে বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে সেকেন্ডারি মার্কেটে (পূর্ব থেকে তালিকাভূক্ত কোম্পানি)। তাই অনেক কোম্পানির ক্ষেত্রে দরপতনের এমন অবস্থা বিরাজ করছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY