সিনিয়র রিপোর্টার : ২০১৪ সালে তালিকাভুক্তির পর সবচেয়ে নিন্দিত প্রতিষ্ঠান ছিল শাহজিবাজার পাওয়ার লিমিটেড। কারসাজির অভিযোগে শেয়ার লেনেদেন স্থগিতসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ছিল তুমুল বিতর্ক। এরপরে ২০১৬ সালে ব্যবসা সফল, নতুন-নতুন পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন ও অনুমোদন, বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিতর্ক এড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের তুলনামূলক ভালো (নগদ ও বোনাস) লভ্যাংশ প্রদান করে।

কোম্পানির উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণের চিত্র

দ্রুত পট বদলে ২০১৭ সালে হয়েছে জননন্দিত এবং দেশের প্রথম সারির কোম্পানিগুলোর মধ্যে অবস্থান নেয় শাহজীবাজার পাওয়ার। তুলনামূলকভাবে চলতি বছরে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করায় প্রভাব পড়ে শেয়ারপ্রতি দরেও। চরম নিন্দিত থেকে অনেক পরে নন্দিতহয় কোম্পানিটি।

তবে পরিসংখ্যান বলে, নতুন করে নতুন অর্থ বছরে আরো এগিয়ে যাবে কোম্পানিটির আয়। কোম্পানির শেয়ারপ্রতি (ইপিএস) আয় গত বছরের (৫ টাকা ১৪ পয়সা) তুলনায় চলতি বছরে বেড়ে হয়েছে ৬.২৮ টাকা। নতুন প্রকল্পগুলোর আয় শিগগিরই যোগ হলে উত্থানে যাবে।

নন্দিত হওয়ার পেছনের গল্পটি হলো- এরকম। চলতি বছরে যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেই কোম্পানিগুলোর ৯৫ শতাংশ কোম্পানির কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ‘চতুরতা’ বা ‘চালাকি’ করেছে। কর্তৃপক্ষ লভ্যাংশ দেয়োর নামে ‘বোনাস শেয়ার’ ঘোষণা করে কোম্পানির মূলধন বাড়িয়েছে। কয়েকদিন পরে শেয়ার বন্টন হলে পুঁজিবাজারে শুরু হবে ‘কারেকশন’। কারেশনে শেয়ারপ্রতি দর পড়তে থাকলে হায়.. হায়.. করবেন অনেকে। যা সব বিনিয়োগকারীদের জন্য আগাম বিপদের আভাস।

বিভিন্ন সালে লভ্যাংশ প্রদানের হার

তবে যে সব কোম্পানি বোনাস এবং নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে সেগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থান নেবে। তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে শাহজীবাজার। অন্যান্য বছরের তুলনায় ব্যাতিক্রমী লভ্যাংশ প্রদানের চিত্র এটি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ, ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে ৩০ শতাংশ নগদ ও ৩ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে শাহজিবাজার পাওয়ার। বছর শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৫ টাকা ১৪ পয়সা। এর আগে ২০১৫ সালে ২৮ শতাংশ নগদ ও ৩ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। সে বছর বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর ইপিএস ছিল ৬ টাকা ৯২ পয়সা।

চলতি বছরের লভ্যাংশ প্রদানের পরিমাণ

চলতি বছরে লভ্যাংশ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে ৩০ শতাংশ। এরমধ্যে ১৬ শতাংশ নগদ এবং ১৪ শতাংশ বোনাস। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) গত বছরের তুলনায় বেড়ে হয়েছে ৬.২৮ টাকা এবং শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৩৪.৪৯ টাকা।

কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি এবং রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ ডিসেম্বর।

ইতোমধ্যে পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন ও উৎপাদনে ফেরা নিয়ে যেসব মেগা প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, নতুন বছরের আর্থিক প্রতিবেদন তার প্রতিফলন মিলবে।

চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর চুক্তি সই অনুষ্ঠানে চীনের সিআরআরসি জিয়াংকো -এর মহাব্যবস্থাপক জিয়াং তাইয়াং এবং শাহজিপাওয়ার কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিডল্যান্ড পাওয়ারের পরিচালক রেজাকুল হায়দার। ছবি : সংগৃহিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিডল্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মেয়াদ হবে ১৫ বছর। এ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের কিলোওয়াট ঘণ্টা ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮.২৫৯৩ টাকা। আরো অনেক প্রকল্প চলমান রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here