নাভানার এলপিজি প্রকল্পের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু

0
681

সিনিয়র রিপোর্টার : নাভানা সিএনজি লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান নাভানা এলপিজি লিমিটেডের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হচ্ছে আজ। দুই বছরের বেশি সময় ধরে প্লান্ট স্থাপনের কাজ শেষে বৃহস্পতিবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় ১৮ নভেম্বর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি।

জানা গেছে, সিএনজি (কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) খাতের ব্যবসায় ধীর প্রবৃদ্ধির কারণে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে এলপিজি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) খাতের ব্যবসায় বিনিয়োগে যায় নাভানা সিএনজি। এজন্য নাভানা এলপিজি লিমিটেড নামে একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করা হয়। দুই বছরেরও বেশি সময় পর আজ থেকে মংলার দিগরাজে অবস্থিত নাভানার এলপিজি কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।

কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ কমে আসায় সরকার যানবাহনে সিএনজি ব্যবহারকে নিরুত্সাহিত করছে। এ পরিস্থিতিতে সিএনজি খাতের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাবের চিন্তা করে বিষয়টি আগেই আঁচ করতে পেরে কোম্পানির পর্ষদ নাভানা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও নাভানা ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোড লিমিটেড নামে দুটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে ব্যবসা বহুমুখীকরণের পরিকল্পনা নেয়।

পাশাপাশি এলএনজির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে ২০১৫ সালের শেষের দিকে নাভানা এলএনজি লিমিটেড নামে আরো একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের উদ্যোগ নেয়। দুই বছরের কর্মযজ্ঞ শেষে আজ এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে। নতুন এ প্রকল্প কোম্পানির বিক্রি ও মুনাফা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে কোম্পানির কর্মকর্তারা আশা করছেন।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, নাভানা সিএনজির সমন্বিত বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২৫৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা; আগের বছর যা ছিল ২৬০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সিএনজি ব্যবসা থেকে আয় হয়েছে ১৫৯ কোটি, যা আগের বছর ছিল ১৬৮ কোটি টাকায়। এছাড়া সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে ১২৩ কোটি, সিএনজি কনভার্সন ওয়ার্কশপ থেকে ১৫ কোটি এবং সার্ভিস ওয়ার্কশপ ও স্পেয়ার পার্টস বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ২১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

অন্যদিকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে নাভানা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড থেকে ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে আয় হয়েছে ৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৬১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আরেক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি নাভানা ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোড লিমিটেডের বিক্রি থেকে আয় দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৯০ লাখ টাকায়, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। দুই সাবসিডিয়ারি কোম্পানি থেকে ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে নিট মুনাফা হয়েছে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এর আগে চলতি বছরের আগস্টে এলপিজি ব্যবসার সব সম্পদ ও দায় সাবসিডিয়ারি নাভানা এলপিজি লিমিটেডের নামে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় নাভানা সিএনজি। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে নাভানা সিএনজির এলপিজিসংশ্লিষ্ট সব সম্পদ ও দায় সাবসিডিয়ারিটির নামে হস্তান্তর করা হবে বলে জানায় তারা। তবে আসন্ন সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের পাশাপাশি রেগুলেটরি সব কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানায় কোম্পানিটি। এরই মধ্যে ১১ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আয়োজনের তারিখ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি।

গত ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুসারে নাভানা সিএনজির এলপিজি ব্যবসার সব সম্পদের মূল্যমান ৩০০ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৩১ টাকা, দায় ২৩১ কোটি ৯৩ লাখ ৪১ হাজার ৩২২ টাকা। অর্থাৎ নিট ৬৮ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০৯ টাকার সম্পদ হস্তান্তর করবে কোম্পানিটি।

৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে নাভানা সিএনজির পরিচালনা পর্ষদ। তবে কোম্পানির উদ্যোক্তারা এ লভ্যাংশ নেবেন না। সর্বশেষ হিসাব বছরে এর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরে ছিল ২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। কোম্পানির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৩ পয়সা। ২০১৬ সালের ৩০ সমাপ্ত বছরে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৩৬ পয়সা। অবশ্য সে বছর ১৫ মাসে হিসাব বছর গণনা করে কোম্পানিটি।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৬৯ পয়সা ইপিএস দেখিয়েছে নাভানা সিএনজি, যেখানে আগের বছর একই সময়ে তাদের ইপিএস ছিল ৭৮ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৪ টাকা ৩১ পয়সায়।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। ডিএসইতে গতকাল সর্বশেষ ৬৯ টাকা ৫০ পয়সায় নাভানা সিএনজির শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে এর সর্বোচ্চ ৮৩ টাকা ও সর্বনিম্ন ৫৩ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে আসা নাভানা সিএনজি মূলত যানবাহনের জ্বালানি ব্যবস্থা রূপান্তরের কাজ করে থাকে। এর বাইরে তারা সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের যন্ত্রপাতি আমদানি, বিক্রি, স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিক্রয়োত্তর সেবাও দিয়ে থাকে।

কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৬৮ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে আছে ১৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৮৫ লাখ ২৮ হাজার ৫৯২, যার মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২২ দশমিক ২৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৩৫ দশমিক ২৪ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ এজিএমে অনুমোদিত নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ১৬ দশমিক ৪১, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ২৪ দশমিক ৮৬।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here