নর্দান জুটের ব্যবসায় চমক

0
1542

স্টাফ রিপোর্টার : পাটের সুতার নতুন ইউনিট পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উত্পাদনে আসায় ব্যবসায় চমক দেখিয়েছে নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। মুনাফা প্রবৃদ্ধি ৬১৫ শতাংশ। বিশ্ববাজারে পাটের সুতার চাহিদা বাড়ায় আলোচ্য সময়ে কোম্পানির উত্পাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারও নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

নর্দার্ন জুটের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) উজ্জ্বল কান্তি ধর বলেন, বিশ্বব্যাপী পাট সুতার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে উত্পাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে নর্দার্ন জুট। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে নতুন ইউনিট চালু করার পরও উত্পাদন সক্ষমতার প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে কোম্পানি, যেখানে ২০১৬ সালে উত্পাদন সক্ষমতার ৬৫ শতাংশও ব্যবহারের সুযোগ ছিল না।

রফতানি বৃদ্ধির এ সময়ে আমরা পরিচালন দক্ষতার দিকেও মনোযোগী ছিলাম। এ কারণে বছর শেষে ভালো মুনাফা হয়েছে। ব্যবসায়ের প্রতিকূল সময়ে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছে কোম্পানি। এ কারণে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য তাদের মোট ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সুপারিশ করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে নর্দার্ন জুটের সুতা রফতানি হয়েছে ৪৩ কোটি ৮৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকার, যা আগের বছর ছিল ২৭ কোটি ৮৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা। সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৯২ লাখ ৫১ হাজার টাকা, আগের বছর যা ছিল ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৫ টাকা ১৩ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৭২ পয়সা। ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯১ টাকা ৩ পয়সা।

এদিকে গতকাল সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে নর্দার্ন জুটের পরিচালনা পর্ষদ। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনে ২২ অক্টোবর রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন হলে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। এজন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর।

এর আগে ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় নর্দার্ন জুট। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকার পর দুই বছর আগে মুনাফায় ফিরলেও গত হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে মুনাফা বাড়তে দেখা গেছে কোম্পানিটির। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে তৃতীয় প্রান্তিকে। সর্বশেষ হিসাব বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে নর্দার্ন জুটের ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৭৬ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যেখানে শেয়ারপ্রতি ৩৪ পয়সা লোকসানে ছিল কোম্পানিটি।

উল্লেখ্য, দেশী-বিদেশী উদ্যোগে ১৯৮৪ সালে যাত্রা করে নর্দার্ন জুট। ব্যবসায় অংশীদার হিসেবে শুরু থেকেই তাদের সঙ্গে রয়েছে উন্নয়ন সহযোগী ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)। কোম্পানিটি পাটের সুতা প্রস্তুত ও রফতানি করে। তখন থেকে এটি একটি ইউনিটে উত্পাদন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ২০১৬ সালের জুলাই থেকে দ্বিতীয় ইউনিটে পুরোপুরি বাণিজ্যিক উত্পাদনে যায়।

নর্দার্ন জুট ১৯৯৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে বর্তমানে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, বিদেশী ৩০ ও বাকি ৫৪ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ডিএসইতে সর্বশেষ ৬৬৩ টাকা ৬০ পয়সায় নর্দার্ন জুটের শেয়ার লেনদেন হয়। রোববার সমাপনী দর ছিল ৬৬৬ টাকা ৯০ পয়সা। গত এক বছরে এ শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ৭১৪ টাকা ৫০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ১৯৪ টাকা ৯০ পয়সা।

২০১৫-১৬ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ৯২৬ দশমিক ২৫, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ৯৪৩ দশমিক ৭৩।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here