নভেম্বরেই বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাচ্ছে আমান ফিড

0
1247

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থে সম্প্রসারিত নতুন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে আমান ফিড লিমিটেড। চলতি মাসের মধ্যেই এ প্রকল্পের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা।

এতে কোম্পানির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতায় নতুন করে ৪৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন যোগ হবে, যা তাদের বিক্রি ১৪৫ কোটি টাকা বাড়াতে সক্ষম।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ভবন নির্মাণ, গ্যাস-বিদ্যুত্ সংযোগসহ অবকাঠামো উন্নয়ন শেষ করে বর্তমানে ফ্লোটিং মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে নারায়ণগঞ্জের কারখানায়। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এসব যন্ত্রাংশ স্থাপনের কাজ শেষ করে চলতি মাসেই বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে আমান ফিডের সম্প্রসারিত প্রকল্প।

চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম

আমান ফিডের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালে তালিকাভুক্তির পরই ওই অর্থ ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রসপেকটাসে উল্লেখিত খাত অনুসারে আইপিওর অর্থে কারখানা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ব্যবহূত হচ্ছে।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব কাজ এরই মধ্যে শেষ করে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই উৎপাদনে যেতে পারব বলে আমাদের বিশ্বাস। এটি হলে কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতায় বার্ষিক প্রায় দেড়শ কোটি টাকা যুক্ত হবে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের জুনে আইপিও মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ৭২ কোটি টাকা উত্তোলন করে আমান ফিড। এর মধ্যে কারখানা সম্প্রসারণে ২০ কোটি টাকা, চলতি মূলধন বৃদ্ধি ও কারখানা আধুনিকায়নে ২৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ৫ কোটি ৬ লাখ টাকা ও আইপি বাবদ ২ কোটি ২ লাখ ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়।

প্রাক্কলিত অর্থে নতুন প্রকল্পের জন্য ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হলেও তাতে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি। পরবর্তীতে বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন সাপেক্ষে অর্থ ব্যবহারে আরো একবছরের জন্য সময় নেয় কোম্পানিটি। বর্ধিত সময় অনুসারে চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর অর্থ ব্যয়ের সময় শেষ হয়েছে আমান ফিডের।

এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া কোম্পানির সর্বশেষ আইপিও তথ্যানুসারে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২০ শতাংশ বা প্রায় ১৫ কোটি টাকা পিছিয়ে আমান ফিড। এর মধ্যে নতুন প্রকল্পেই ১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা অব্যবহূত রয়েছে তাদের।

কোম্পানির কর্মকর্তারা এ প্রসঙ্গে বলছেন, পুরনো কারখানায় আধুনিকায়ন ও ব্যাংক ঋণের জন্য নির্ধারিত অর্থ সঠিক সময়েই খরচ করে আমান ফিড। তবে কারিগরি সমস্যার কারণে নতুন প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ করতে পারেনি তারা।

এ প্রসঙ্গে আমান গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মুক্তার হোসেন তালুকদার বলেন, যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অর্থ প্রকাশিত না হওয়ায় আইপিওর অর্থ ব্যবহার কিছুটা কম পরিলক্ষিত হচ্ছে। যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষে চলতি মাসের মধ্যেই আমরা উৎপাদনে যেতে পারব।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে আমান ফিডের পরিচালনা পর্ষদ। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য ২৭ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় সিরাজগঞ্জের কারখানা প্রাঙ্গণে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করবে কোম্পানিটি। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ নভেম্বর।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ হিসাব বছরে আমান ফিডের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৫৪ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৪ টাকা ৪৮ পয়সা। ৩০ জুন এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৩৩ টাকা ৯৬ পয়সায়।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ২০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় দিয়েছে কোম্পানিটি। ২০১৫ হিসাব বছরে ১০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পান কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে আসা বিবিধ খাতের এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ৫৬ লাখ। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৩ দশমিক ৯৫ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার।

ডিএসইতে বুধবার সর্বশেষ ৭৩ টাকা ৫০ পয়সায় আমান ফিডের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৬৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৮৯ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ১৭ দশমিক ৯৯, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ১৬ দশমিক ১২।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here