নতুন ১১টি দেশে পোশাক রপ্তানি, আয় বেড়েছে ৩৭ শতাংশ

0
894

garments pic-2স্টাফ রিপোর্টার : তৈরি পোশাকখাতে একের পর এক ঝড় এসেছে। সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনের ঘা শুকাতে না শুকাতেই অর্থনীতির ঘাড়ে চেপে বসে রানা প্লাজা ধস। রানা প্লাজা ধসের পর বর্হিবিশ্বে দেশের পোশাকখাত নিয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

২০১২ সালের শেষ দিকে এবং সদ্য সমাপ্ত বছরের শুরুতে পোশাক খাতে বড় ধরনের দুটি ধাক্কা লাগে। বাংলাদেশের পোশাকের বড় ক্রেতা ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের গুরু পোপ বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের ক্রীতদাসের সঙ্গে তুলনাও করেছেন ওই দুটি ঘটনার পর। বছরজুড়ে গতি পেয়েছে ইউরোপের ‘ক্লিন ক্লোথ’ আন্দোলন। বিশ্বের প্রায় সব পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিল বাংলাদেশের পোশাক খাত। এতকিছুর পরও পোশাক খাতকে দমিয়ে রাখা যায়নি। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ভাগে এ খাতে প্রায় ২০ শতাংশ হারে রপ্তানি আয় বেড়েছে।

যত সমালোচনাই হোক না কেন, ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনা বাদ দিতে পারেনি। তার প্রমাণ ইউরোপের দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানিতে ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করলেও পোশাক খাতে রপ্তানি কমেনি। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.২৫ শতাংশ। অন্যদিকে নতুন নতুন বাজারেও তরতরিয়ে বাড়ছে পোশাক রপ্তানি। পুরনো বাজারগুলোর বাইরে নতুন ১১টি দেশে পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৭.২৭ শতাংশ হারে।

পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, রপ্তানি আয় বেশ ভালো হলেও পোশাক খাতের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। গত কয়েক মাসে তাঁরা ‘কমিটমেন্ট’ রক্ষার জন্য বাড়তি খরচ দিয়ে পোশাক রপ্তানি করেছেন। তবে আগামী কয়েক মাসে রপ্তানি আয়ে এত প্রবৃদ্ধি থাকবে না।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ক্রেতারা বাংলাদেশে স্থিতিশীল রাজনীতি দেখতে চায়। গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর তারা চোখ বন্ধ করে আমাদের আর পোশাকের অর্ডার দেবে না।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সম্প্রতি গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সেই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ বিভিন্ন দেশে পোশাক রপ্তানির একটি হিসাব তৈরি করেছে। হিসাবে দেখা যায়, ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরের নতুন নতুন বাজারে রপ্তানির বাড়তি ধারা ধরে রেখেছে পোশাক খাত। ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের তুলনায় গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ‘নন-ট্রাডিশনাল মার্কেট’ অর্থাৎ নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি ৩৭.২৭ শতাংশ বেড়েছে। বাড়ার এ হার আগের বছরের তুলনায় বেশি। ২০১২-১৩ পুরো অর্থবছরে নতুন বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৮.৭৫ শতাংশ।

অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, ভারত, জাপান, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, মেক্সিকো, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তুরস্ককে নতুন বাজার হিসেবে ধরা হয়। ওই ১১ দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান ও তুরস্কতে বাংলাদেশের রপ্তানি ভালো হয়। গত ছয় মাসে অস্ট্রেলিয়ায় ২০.৮৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। প্রবৃদ্ধি তেমন ভালো নয় (৪.০৯ শতাংশ।) কিন্তু চীনে প্রায় ১১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। বেড়েছে ৬০.৪৯ শতাংশ হারে। জাপানে ২৯.৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ হারে। তুরস্কতে ৩৩.৪৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০৬.৫৭ শতাংশ হারে।

ইউরোপ বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। আলোচ্য ছয় মাসে সেখানে প্রায় ৭০৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১.১০ শতাংশ হারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৫৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.২৫ শতাংশ হারে।

একক দেশ হিসেবে কানাডায় বাংলাদেশ বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। ছয় মাসে সেখানে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পোশাক। তবে প্রবৃদ্ধি তেমন ভালো হয়নি। ওই দেশে ৪.১৩ শতাংশ হারে বেড়েছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এক হাজার ১৯৩ কোটি ২২ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে ছয় মাসে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

পাশাপাশি পোশাক রপ্তানি থেকে পাওয়া মোট আয়ে নতুন বাজারে অংশের পরিমাণও বাড়ছে। ফলে ধীরে ধীরে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারছে বাংলাদেশের পোশাক খাত। মোট পোশাক রপ্তানির এখন ১১.৪৭ শতাংশ নতুন বাজার থেকে আসছে। আগের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যা ১০.০২ শতাংশ ছিল।

আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, তাজরীন ও রানা প্লাজার ধাক্কার পরও ভালো প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে উদ্যোক্তাদের সাহস ও শ্রমিকদের পরিশ্রমে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আসছে মৌসুমে বাংলাদেশের বাজার সংকুচিত হয়ে যাবে। আমরা এত ভালো হয়তো করতে পারব না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here