নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদনে বিলম্ব

0
859

সিনিয়র রিপোর্টার : চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াকিন পলিমার লিমিটেডের (ওয়াইপিএল) নতুন কারখানায় শতভাগ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে ফেরার কথা ছিল। তবে নতুন কারখানায় বিদ্যুৎসংযোগ স্থাপন করতে না পারায় বিলম্ব হচ্ছে। যে কারণে উৎপাদনে ফেরার এখনো নির্ধারিত দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারছে না কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশ করা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াকিন পলিমার লিমিটেড তার কারখানায় শতভাগ উৎপাদনে ফিরবে। নতুন কারখানায় নতুন মেশিনারী স্থাপন এবং পুরাতন কারখানায় কিছু সংস্কারের কারণে ৭৫ শতাংশ উৎপাদন কমিয়ে ২৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয় ডিএসই। যার ফলে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় ইপিএস এবং এনএভি কমেছে।

২৬ ডিসেম্বর ডিএসই প্রকাশিত প্রতিবেদন

কোম্পানি থেকে এমন ঘোষণার পরে গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ উৎপাদনে ফেরার আভাস দিয়ে কর্মতৎপর হয়ে ওঠে। বিদেশে থেকে যন্ত্রাংশ আমদানী এবং কারখানায় স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এর কর্মকর্তারা। উৎপাদন শুরু করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও বিদ্যুৎতের কারণে সব আটকা রয়েছে।

উৎপাদনে ফেরা সম্পর্কে কথা হলে কোম্পানি সেক্রেটারি মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা নির্ধারিত সময় ফেব্রুয়ারির মধ্যে উৎপাদনে ফেরার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু নতুন কারখানায় বিদ্যুৎসংযোগ না পাওয়ায় এখনো ফিরতে পারছি না। পুরনো কারখানায় কাজ চলছে, নতুন সংযোগের জন্য আবেদনও করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, আশা করছি দ্রুত সংযোগ পাবো। সংযোগ শেষে কারখানায় সামান্য কিছু সংস্কার শেষে ঘোষণা দেব।

ইয়াকিন পলিমারের চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ারুল হক সম্প্রতি বলেন, শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহারে শুরু থেকেই সচেতন ছিল ইয়াকিন পলিমার। ভবন নির্মাণসহ কারখানার আনুষঙ্গিক কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চালু করা হলে কোম্পানির উৎপাদন-সক্ষমতা আরো ৩০ শতাংশ বাড়বে। পাশাপাশি পণ্যেও কিছু বৈচিত্র্য আসবে।

জানা গেছে, ব্যবসা সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতি ক্রয়, কারখানা ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য শেয়ারবাজার থেকে ২০১৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে ইয়াকিন পলিমার। এর মধ্যে কারখানার ভবন নির্মাণে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১৩ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানায় কোম্পানিটি।

ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আইপিও অর্থ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইয়াকিন পলিমারের। তবে নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। এদিকে ৩১ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেয়া আইপিও অর্থ ব্যবহার প্রতিবেদন অনুসারে, তখন পর্যন্ত আইপিও তহবিলের ৩১ শতাংশ অব্যবহূত ছিল।

শেয়ার ধারণের চিত্র প্রকাশ

১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের এ কোম্পানির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। রিজার্ভ ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক ৫২ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক ১৫  দশমিক শূন্য ৮৬ ও বাকি ৫৩ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

বৃহস্পতিবারের লেনদেন শুরুর চিত্র প্রকাশ

বুহস্পতিবার সকালে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর ১৮.৫০  টাকায় শুরু হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১১টার দিকেও একই দর লক্ষ্য করা গেছে। তবে গতকাল বুধবারের তুলনায় সামান্য দর কমেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here