সিনিয়র রিপোর্টার : সাম্প্রতিক লোডশেডিংয়ের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে নতুনভাবে তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার। জরুরী ভিত্তিতে আগামী এক মাসের মধ্যে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই সরাসরি দর কষাকষি ও আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে ২২টি প্রস্তাব জমা পড়েছে। এদের প্রস্তাবিত উৎপাদন ক্ষমতা ৩ হাজার ৬৫৫ মেগাওয়াট। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশিরভাগই ফার্নেস অয়েল চালিত এবং কয়েকটি আছে ডিজেলভিত্তিক।

জানা গেছে, গত মে মাসে সারাদেশ তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়লে বিদ্যুতের চাহিদা ও ঘাটতির বিষয়টি নতুনভাবে নজরে আসে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে যাতে বিদ্যুৎ নিয়ে কোনো অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুতের বর্তমান ও ভবিষ্যত চাহিদাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জড়িত কোম্পানিগুলোর মধ্যে যাদের পারফরম্যান্স রেকর্ড ভালো তাদের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে কয়েকটি বিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়।

ওই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় অনানুষ্ঠানিকভাবে কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব জমা দিতে বলে। গত ২৫ জুন ঈদের ঠিক আগের দিন ছিল আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময়। তার আগে বিদ্যুৎ সচিব কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্য স্থান ঠিক করে দেন। এছাড়া বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্য সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে- সামিট গ্রুপ, ইউনাইটেড গ্রুপ, শাহজিবাজার, কনফিডেন্স পাওয়ার, বারাকা পাওয়ার, ডরিন গ্রুপের মতো পুরনো ও বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একই সঙ্গে খান ব্রাদার্সও নতুন করে ব্যবসা যোগ করতে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান হলেও আবেদনকারীর তালিকায় রয়েছে খান ব্রাদার্স। আবেদনকারীদের মধ্যে কয়েকটি কোম্পানি অথবা তাদের প্যারেন্ট কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিডল্যান্ড পাওয়ার যৌথভাবে ১৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে মিডল্যান্ড পাওয়ার এককভাবে প্রস্তাব করেছে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে বলে আবেদন করে।

বারাকা পাওয়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বারাকা পতেঙ্গার নামেে চট্টগ্রামের সাউথ পতেঙ্গায় ১১৫ মেগাওয়াটের একটি আবেদন জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে আরো ১১০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন আরো একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চট্টগ্রামের শিকলবাড়িতে স্থাপিত হবে। স্থাপনের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে বারাকা পাওয়ার লিমিটেড।

ডরিন পাওয়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ঢাকা নর্দার্ন পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেড মানিকগঞ্জে ২১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে চায়।

সামিট গ্রুপ গাজীপুরের কড্ডায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি পরিচালিত হবে ফার্নেস তেল দিয়ে। সামিট করপোরেশন এটি বাস্তবায়ন করবে। এর সঙ্গে তালিকাভুক্ত সামিট পাওয়ারের কোনো সম্পর্ক নেই।

ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ ময়মনসিংহে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তাব করেছে। এর সঙ্গে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির কোনো সম্পর্ক নেই।

কেরানীগঞ্জে ৫০০ মেগাওয়াট ও ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে যথাক্রমে অ্যাক্রন ও এপিআর।

দেশ এনার্জি প্রস্তাব দিয়েছে সিরাজগঞ্জে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের।

ওরিয়ন ও সামুদা পাওয়ারের প্রতিটি খুলনায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আলাদা প্রস্তাব দিয়েছে। ওরিয়ন শান্তাহারেও ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রিসিসন্স পাওয়ার চট্টগ্রামে ১৫০ মেগাওয়াট, মেগাওয়াট, এনার্জিপ্যাক ঠাকুরগাঁওয়ে  ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে চায়।

পাওয়ার সোর্স সিদ্ধিরগঞ্জে ১২০ ও দাউদকান্দিতে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহী।

কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর ও বগুড়ায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করেছে।

এগ্রিকো কক্সবাজারে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে চায়।

খান ব্রাদার্স নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহী। এর সঙ্গে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ কোম্পানি বা তার স্পন্সরদের মালিকানাধীন গ্রুপের কোনো সম্পর্ক নেই।

জানা গেছে, বরাদ্দপত্র পাওয়ার পর ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ শুরু করার জন্য ৬ মাস সময় পাবে। আর ফার্নেস তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সময় পাওয়া যাবে ৯ মাস। এমন স্বল্প সময়ের মধ্যে উৎপাদনে আসা বেশ কঠিন কাজ। কেবল দক্ষ ও অভিজ্ঞ কোম্পানির পক্ষেই হয়তো এটি সম্ভব হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here