সম্ভাবনা ও শঙ্কার ঘূর্ণিতে ৯টি কোম্পানি

0
5232

শাহীনুর ইসলাম : নতুন-পুরাতন মিলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৯টি ছোট এবং বড় কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ। এসব কোম্পানির অনেকটাই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ নিয়ে আশঙ্কা হলেও এরমধ্যে সম্ভাবনার ঘূর্ণিতে দুলছে কয়েটি কোম্পানি।

উৎপাদন বন্ধ থাকা নত‍ুন কোম্পানিগুলো হলো- সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড এবং এমারাল্ড ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড। এমারাল্ড ওয়েল নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও ভেতরে ব্যাপক সম্ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে সম্ভাবনার তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অবস্থান করছে। এখানে কলকাঠি নড়ছে, তবে বিশেষ কাজে না আসায় এখন পর্যন্ত গ্যাস সররবাহ করছে না সিলেট গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষ। তবে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড আশা করছে, দ্রুত হয়ে যাবে।

এমারাল্ড ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড ধুঁকে-ধুঁকে চলছে, কোম্পানি থেকে চাকরি ছাড়ছেন অনেকে। অন্যদিকে কোম্পানি বিক্রি হওয়ার খবর বাতাসে ভাসছে। তবে ক্রয়-বিক্রয়কারী কেউ এখনি মুখ খুলছে না। আভাস মিলেছে, কোম্পানিটি কিনছে এস আলম গ্রুপ। দর নির্ধারণ এবং এমডি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় বিড়ম্বনা।

পুরাতন কোম্পানিগুলোর মধ্যে গতবছরের এপ্রিল মাসে বিচ হ্যাচারি লিমিটেড এবং মে মাসে কে এন্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ হয়। এখন পর্যন্ত উৎপাদনে আসতে পারেনি কোম্পানি দুটি।

তবে বিচ হ্যাচারি লিমিটেড নিয়ে বাজারে কিছু কথা প্রচলিত আছে। কোম্পানিটিতে শতকোটি টাকার বিনিয়োগ করতে আসছে চীনা একটি কোম্পানি। বিনিয়োগের সত্যতা অনুসন্ধানে নামলে তা পাওয়া যায়নি। শেয়ার দর বৃদ্ধির এটি গুজব।

বিচ হ্যাচারি কোম্পানি লিমিটেডের গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এখনো চালু হয়নি, তবে কবে নাগাদ হবে সে কথাও বলা যাচ্ছে না। খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কোম্পানি -এসব কথা স্টক বাংলাদেশকে বলেন কোম্পানির সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম।

উৎপাদন বন্ধ তালিকায় আরো রয়েছে- মডার্ন ডায়িং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং, রহিমা ফুড করপোরেশন, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বিডি অটোকারস লিমিটেড।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার পরিবারের মালিকানাধীন মাল্টিমোড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কে এন্ড কিউ কোম্পানির উৎপাদান দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। কোম্পানির প্রধান দুটি ইউনিটের একটিতে ড্রাইসেল ব্যাটারিতে ব্যবহৃত কার্বন রড উৎপাদন করা হত। অন্য ইউনিটে উৎপাদন করা হতো আলকাতরা। কোম্পানির কর্তৃপক্ষ ব্যবসা পরিবর্তন করে উৎপাদনে আসার আভাস মিলেছে। তবে কবে নাগাদ হবে, তা জানা যায়নি।

মডার্ন ডায়িং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং লিমিটেডের উৎপাদন প্রায় ৬ বছর ধরে বন্ধ। ডিএসই প্রতিষ্ঠানটির ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণ এবং প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করলে এ তথ্য বেরিয়ে আসে। ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সব মেশিনারিও বিক্রি করা হয়েছে।

রহিমা ফুড কর্পোরেশন লিমিটেডের বিভিন্ন খরচ মেটাতে চুক্তিভিত্তিক রিফাইনিং ভিত্তিতে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়। পরে সবকিছু অনুকূলে না থাকায় সেটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, বলেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোয়েব।

তিনি বলেন, ভোজ্য তেলের দাম টন প্রতি প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার কমে গেছে। এ অবস্থায় এলসি করলে কোম্পানি প্রচুর লোকসানের সম্মুখীন হত। যে কারণে লোকসান এড়াতে উৎপাদন বন্ধ রেখেছি।

২০১৩ সাল থেকে নর্দার্ন জুটের ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে। উন্নতমানের সুতা উৎপাদনের জন্য বর্তমানে ফ্যাক্টরি ঢেলে সাজানোর কথা থাকলেও তা আর হয়নি। নতুন স্থাপিত যন্ত্রগুলোতে পরীক্ষামূলক উৎপাদন কাজ শুরু কথা বলা হলেও তা হয়নি।

মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের ১০ বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনে যান। এ সময় পরিদর্শক দল কোম্পানির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ দেখতে পান।

বিডি অটোকারস লিমিটেডের উৎপাদন ২০০১-০২ সাল থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র সিএনজি রি-ফুয়েলিংয়ে (ইউনিট-২) চালু রয়েছে। কোম্পানির ফ্যাক্টরি এবং প্রধান কার্যালয় ভাড়াও দেয়া হয়েছে। তবুও বাড়ছে শেয়ারপ্রতি দর।

ফ্লাইড বন্ধ তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড। কোম্পানিটির ৩টি বিমান নিয়ে দেশের অভ্যান্তরে চলতি মাসের শেষে ফ্লাইড চালুর কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে কোম্পানিটি ফ্লাইড অপারেশন চালুর সাময়িক অনুমোদন পেয়েছে। স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ ফ্লাইড চালু লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। চলতি মার্চ মাসে ১১টি দেশে অপারেশন চালাতে টিকেট কাউন্টার ও কিছু জনবল নিয়োগ করাও হয়।

তবে দিনক্ষণ নির্ধারণ হলেও চলতি মাসে বিমান উড়তে পারবে কিনা এনিয়ে সংশয় রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here