নতুন কম্পানি আইনে স্থিতিশীল হবে পুঁজিবাজার

0
606

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে প্রতারণা কমাতে নতুন আইন বেশ প্রভাব রাখবে। আইনটি পাশ হলে শেয়ার পুনঃক্রয় সুবিধা চালু হবে। স্থিতিশীল হবে শেয়ারবাজার। একই সঙ্গে একক বা যৌথ মালিকানা কম্পানি গঠন ও পরিচালনা সহজতর হবে।

একই সঙ্গে বিদ্যমান কম্পানি আইনে নানা কারণে যেমন হাইকোর্টের অনুমতি নেয়ার দরকার হয়, নতুন আইন পাস হলে উদ্যোক্তাদের এত বেশি আদালতনির্ভর হতে হবে না। যে কারণে স্থিতিশীল হবে পুঁজিবাজার বলে অনেকে মনে করছেন।

বাংলাদেশে বেতন কম হওয়ায় কম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য শেয়ার বরাদ্দের ধারা রয়েছে নতুন আইনের খসড়ায়। এটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ সরকারের মেয়াদেই আইনটি পাস হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নতুন কম্পানি আইনে যেসব বিষয় সংযোজন-বিয়োজন হচ্ছে এবং তার প্রভাব নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়েছে, নতুন আইন কার্যকর হলে শেয়ারে প্রতারণা কমবে, বাজার স্থিতিশীল হবে। কম্পানি নিবন্ধন থেকে শুরু করে তা পরিচালনাও সহজতর হবে।

নতুন কম্পানি আইনের ১১০ নম্বর ধারায় পরিচালকের নন-ক্যাশ (অ-আর্থিক) লেনদেনে সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা বলা হয়েছে। এটি হলে পরিচালকদের লাভবান হওয়ার জন্য এখন যে নন-ক্যাশ লেনদেনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিল হবে। এতে কম্পানি লাভবান হবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া নতুন আইনে একজন পরিচালকের সর্বোচ্চসংখ্যক দায়িত্ব পালনের সীমারেখা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এ ধরনের সীমারেখা থাকলে করপোরেট সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার কমবে। শেয়ারবাজারে যথেচ্ছ অংশগ্রহণ সংক্রান্ত অপব্যবহারও রোধ হবে।

নতুন আইনে শেয়ার পুনঃক্রয়ের (বাই-ব্যাক) সুযোগ থাকছে। শেয়ার পুনঃক্রয় বলতে মূলত শেয়ারবাজারে যখন কোনো কম্পানির শেয়ারের দরপতন হতে থাকে, তখনই ওই কম্পানি বাজার থেকে তার নিজস্ব শেয়ার কেনে। ফলে সাধারণ শেয়ার ক্রেতারা ক্ষতির মুখোমুখি হয় কম। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে শেয়ার পুনঃক্রয়ের সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশে বিদ্যমান কম্পানি আইন-১৯৯৪ অনুযায়ী শেয়ার পুনঃক্রয়ের কোনো সুযোগ নেই।

২০১০ সালে শেয়ারবাজার ধসের পর দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে শেয়ার পুনঃক্রয় ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়। নতুন আইনে এ-সংক্রান্ত ধারা যুক্ত হয়েছে। এটি হলে একটি কম্পানি বাজারে দরপতনের সময় তার নিজের শেয়ার কিনতে পারবে বা নিজের শেয়ার কেনার জন্য কাউকে আর্থিক সহায়তা দিতে পারবে। প্রস্তাবিত আইন পাস হলে শর্তসাপেক্ষে পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোনো কম্পানি তার বাধাহীন মজুদ, শেয়ার প্রিমিয়াম হিসাব বা অন্য কোনো শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অর্জিত আয় হিসাব থেকে তার নিজস্ব শেয়ার বা অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট শেয়ার কিনতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here