নতুন ঋণ প্যাকেজে জাপানকে পাঁচ প্রকল্পের প্রস্তাব

0
425

govment- logoএসবি ডেস্ক : জাপান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। তাই জাপানের ৩৫তম ইয়েন লোন প্যাকেজে ৫ প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ জানানো হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এই অনুরোধপত্র পাঠানো হয়। জাপানকে সেই ধারাবাহিকতায় নতুন ঋণ প্যাকেজে যুক্ত করতে এ প্রকল্পগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, বিদ্যুত বিভাগের আওতায় কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিএল) মাতারবাড়ি কোল ফায়ারড পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রজেক্ট। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ইনক্লুসিভ সিটি গবার্নেন্স প্রজেক্ট। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) যৌথভাবে হাওড় ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড লাভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট। খবর : জনকণ্ঠ

ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এগ্রিকালচার ফাইন্যান্স প্রজেক্ট এবং বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং কর্ণফুলি গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ন্যাচারাল গ্যাস ইফিসিয়েন্সি প্রজেক্ট।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জাপান ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাপানের অবদান অনেক। আমাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এখনও কিছুই জানায়নি। জাপান সাধারণত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কোন কিছুই জানায় না।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে জাপান। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি নিরবচ্ছিন্নভাবে এদেশের অগ্রগতিতে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। ১৯৭২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ঋণ ও বিভিন্ন ধরনের অনুদান মিলে জাপান প্রদান করেছে মোট ৯৩২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

এর মধ্যে ঋণ হচ্ছে, ৫৯৫ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার এবং অনুদান ৩৩৬ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এককভাবে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী দেশ। তবে বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে সব উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাসমূহের মধ্যে দেশটির অবস্থান তৃতীয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপান বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণ, অনুদান, কারিগরি সহায়তা, ঋণ মওকুফ অনুদান সহায়তা, ঋণ মওকুফ অনুদান সহায়তা প্রতিরূপ তহবিল, ঋণ মওকুফ তহবিল এবং বৃত্তি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান করে। মূলত জাপান যেসব খাতে সহায়তা করে সেগুলো হচ্ছে, মানব সম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ, পরিবহন ও অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন, কৃষি ও সেচ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, যোগাযোগ, বিদ্যুত ও জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং শিল্প।

সূত্র জানায়, এ যাবত (২০১২ সাল পর্যন্ত) জাপানের কাছ থেকে ২০টি পণ্য সহায়তা ঋণ এবং ৭৮টি ঋণ চুক্তির বিপরীতে মোট ৫৭৯ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৬ কোটি ৯৮ লাখ মার্কিন ডলারের একটি সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিড চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। জাপানী ঋণ সহায়তায় বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ, টেলিযোগাযোগ, পল্লী উন্নয়ন, বিদ্যুত, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে মোট ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

অনুদানের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর জাপান সরকার বাংলাদেশকে অনুদান ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে থাকে। দারিদ্র্র্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাপান সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ উন্নয়ন, বিদ্যুত ও জ্বালানি এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন খাতের প্রকল্পে অনুদান সহায়তা দিয়ে আসছে।

বর্তমানে জাপানী অনুদান সহায়তার আওতায় ৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এ ছাড়া চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য জাপান সরকারের বিবেচনার জন্য মোট ১৭টি অনুদান সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব জাপান দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। ২০১২ সালে জাপানের জাইকার সঙ্গে ৩টি প্রকল্পে অনুদান চুক্তি করা হয়েছে।

কারিগরি সহায়তা অংশে বলা হয়েছে, কারিগরি সহায়তা ও মানব সম্পদ উন্নয়ন, বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, জাপান ওভারসিজ কো-অপারেশন ভলান্টিয়ারস (জেওসিভি) প্রেরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে জাপান সরকার বাংলাদেশকে দীর্ঘ দিন থেকে সহায়তা প্রদান করে আসছে। বর্তমানে (২০১২ সাল পর্যন্ত) জাপানী কারিগরি সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় ১৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

জাপান সরকারের আহ্বানের প্রেক্ষিতে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে ৪৪টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব জাপানের বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবগুলো বিবেচিত হলে আগামীতে কারিগরি সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঋণ মওকুফ অনুদান সহায়তার বিষয়ে বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালের ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত আঙ্কটার্ডের ট্রেড এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের অধিবেশনে উন্নয়নশীল দেশসমূহের ঋণ মওকুফ করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে মোতাবেক বাংলাদেশের স্বাধীনতা উত্তরকাল থেকে ১৯৮৮ সালের মার্চ পর্যন্ত জাপান সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে ঋণ গ্রহণ করেছে এবং মূলধন ও সুদ বাবদ যে অর্থ পরিশোধ করেছে, জাপান সরকার উক্ত সমুদয় অর্থ ডিআরজিএ হিসেবে বাংলাদেশকে ফেরত দিচ্ছে।

জাপান হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম বিষয়ে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্তৃক জাপান হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম (জেডিএস) শীর্ষক একটি প্রকল্প ২০০১ সাল থেকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here