নতুন অনেক আইন হয়েছে, তবে বাস্তবায়ন কম

1
1043
স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা পৃথককরণের (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) পর পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পাশাপাশি অনেক গঠনমূলক উদ্যোগ নিয়েছে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ। এর মধ্যে কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে এবং কিছু বাস্তবায়নাধীন।
চলতি বছর এর সুফল দৃশ্যমান না হলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
বাস্তবায়নাধীন উদ্যোগগেুলো হচ্ছে- ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট জাতীয় সংসদে পাস, বিনিয়োগকারীদের মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সেবা দেওয়া, স্টক এক্সচেঞ্জের খসড়া লিস্টিং রেগুলেশন যাচাই-বাছাই ও সংশোধন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটি সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রণয়ন।
তালিকায় আরো রয়েছে- ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটের (ওটিসি) কোম্পানিকে মূল মার্কটে আনার নীতিমালা প্রণয়ন, ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে নতুন আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে চালু, বাংলাদেশ-চায়না-ইন্ডিয়া-মায়ানমার মিলে চীনে ‘প্যান এশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জ’ স্টক এক্সচেঞ্জ গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ৯০০ কোটি টাকা বণ্টন, ডেরিভিটিভস মার্কেট, ক্লিয়ারিং করপোরেশন ও কমোডিটি মার্কেট গঠন ইত্যাদি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মো. শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, এক বছরে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি ভাল রয়েছে। আগের বছরের তুলনায় বাজার মূলধন, সূচক ও কোম্পানির সংখ্যা অর্থাৎ বাজারের ব্যাপকতা বেড়েছে। তবে বিভিন্ন ইস্যুতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব বিরাজ করলেও সার্বিক দিক থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের উন্নয়নে নেওয়া কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে, কিছু প্রক্রিয়াধীন। তাই এক বছরের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে অনেকে মনে করতে পারেন কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমার মতে, স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসি যে সব উদ্যোগ নিয়েছে তা ভবিষ্যতে সুফল বয়ে আনবে। এ সুফল ভোগ করবেন বিনিয়োগকারীরা।
বিএসইসি : বিনিয়োগকারীদের মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। একইসঙ্গে ইন্টারনেটে লগ-ইন পদ্ধতিতে বিও হিসাবের তথ্য সেবা দেওয়া হবে। স্টক এক্সচেঞ্জের খসড়া লিস্টিং রেগুলেশন যাচাই-বাছাই ও সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অক্টোবরে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটি সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রণয়নের নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। এ ছাড়া ওটিসি মার্কেটের কোম্পানিকে মূল মার্কেটে ফিরিয়ে আনতে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যাপিটাল রাইজিং, রাইট ইস্যু, পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখে ঋণাত্মক পোর্টফোলিওগুলোকে সচল করার লক্ষ্যে মার্জিন ঋণ বিধিমালা, ১৯৯৯-এর ৩(৫) উপধারার কার্যকারিতা স্থগিতাদেশের মেয়াদ চতুর্থবারের মতো তিন মাস বাড়িয়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এদিকে ১ সেপ্টেম্বর ১০০ টাকার শেয়ারকে ১০ টাকা করে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বিল-২০১৪ জাতীয় সংসদে পাস হয়। আগস্টে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে নতুন আইপিও প্রক্রিয়ার পাইলট প্রোজেক্ট চালুর অনুমোদন দেয় বিএসইসি।

জুলাই মাসে বিএসইসিতে অফিস অব দ্য চিফ এ্যাকাউন্ট্যান্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে পরামর্শক হিসেবে সাময়িকভাবে মো. মনোয়ার হোসেনকে নিয়োগ দেওয়ার হয়।

বিএসইসির তদারকিতে মে মাসে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় আইসিবি। বিশেষ স্কিমের আওতায় সকল পাবলিক ইস্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের মেয়াদ ১ জুলাই ’১৪ থেকে ৩০ জুন ’১৫ পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করে বিএসইসি।

মার্চে ডেরিভিটিভস মার্কেট, ক্লিয়ারিং করপোরেশন ও কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করে বিএসইসি। এ মাসেই পুঁজিবাজারের উন্নয়নে পাঁচ বছরের (২০১৪-২০১৮) মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য ১৪ দফা কর্মপরিকল্পনা তৈরী করে বিএসইসি। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তা অনুমোদন দেওয়া হয়।

ফেব্রুয়ারি মাসে প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের ঘোষণার মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে বিএসইসি। তবে উদ্যোক্তা ও পরিচালক এবং পাঁচ শতাংশ বা তার অধিক শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষেত্রে তা বহাল রাখা হয়। এ মাসেই আইপিও, পুনঃগণপ্রস্তাব (আরপিও) ও রাইট ইস্যুর ক্ষেত্রে তহবিল ব্যবহার সংক্রান্ত প্রতিবেদন ফরেন এ্যাফিলেটেড নিরীক্ষক দিয়ে নিরীক্ষা করে পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যায়নসহ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দাখিলের নির্দেশনা দেয় বিএসইসি।

জানুয়ারি মাসে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরবর্তী সময়ে সুপ্রীম কোর্টের পরামর্শে হুমায়ুন কবিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিএসইসির অর্জন : অক্টোবরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক সংগঠন আইওএসসিও-এর মানদণ্ডে বিএসইসি ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়। আর এ মাসেই আইওএসসিওর উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত হন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ।

এপ্রিলে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চুক্তিভিত্তিক চাকরির মেয়াদ দ্বিতীয় দফা বাড়ায় সরকার। বিএসইসির চেয়াম্যান ড. খায়রুল হোসেন, কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামী ও আরিফ খানের চাকরির মেয়াদ আরও চার বছর বাড়ানো হয়েছে। আর কমিশনার আমজাদ হোসেনের মেয়াদ তিন বছর ১১ মাস অর্থাৎ আগামী ৩০ এপ্রিল ২০১৮ পর্যন্ত এবং মো. আবদুস সালাম সিকদারের দুই বছর ছয় মাস অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক : যে সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের ৫ শতাংশ সমপরিমাণ শেয়ার ধারণ করছেন, তাদের নতুন করে অনুমোদন নিতে হবে না বলে নভেম্বরে নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফেব্রুয়ারি মাসে সাবসিডিয়ারি কোম্পানির (অঙ্গ প্রতিষ্ঠান) হিসাবসহ পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা পুনঃনির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন বিনিয়োগসীমা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর অঙ্গ প্রতিষ্ঠানসহ সমন্বিত হিসেবে রেগুলেটরি ক্যাপিটালের ৫০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড : জুনের ২৫ তারিখে পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মওকুফ করা ঋণের সুদ মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঘোষণা দেয়।

আইপিও অনুমোদন : এক বছরে ১৮টি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়। কোম্পানিগুলো হলো- ফার কেমিক্যাল, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি, দ্য পেনিনসুলা টিচাগাং, তুং হাই নিটিং, খুলনা প্রিন্টিং প্যাকেজিং, ফারইস্ট নিটিং এ্যান্ড ডাইং, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, সাইফ পাওয়ারটেক, রতনপুর স্টিলস রি-রোলিং মিলস (আরএসআরএম), ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, খান ব্রাদার্স, হামিদ ফেব্রিক্স, ন্যাশনাল ফিডস, ইফাদ অটোস, সিএ্যান্ডএ টেক্সটাইল, জাহিন স্পিনিং, শাশা ডেনিমস ও ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন।

রাইট ইস্যু অনুমোদন : নভেম্বর পর্যন্ত রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পাওয়া ৭টি কোম্পানি হলো- ব্র্যাক ব্যাংক, জেনারেশন নেক্সট, ডেল্টা স্পিনিং, মাইডাস ফাইন্যান্স, আইসিবি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) ও ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক।

বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট এ্যাকশন : জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অস্বাভাবিকহারে শেয়ারে দর বাড়া ও কমার কারণে ওয়াটা কেমিক্যাল, সেপ্টেম্বরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও শাহজিবাজার পাওয়ার, এলআর গ্লোবাল, বাংলাদেশ রেটিং এজেন্সি লিমিটেড ও জেএমআই সিরিঞ্জের বিরুদ্ধে বিএসইসি প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় নভেম্বর মাসে সিলেট মেট্রো সিটি সিকিউরিটিজ হাউসের শামীম আহমেদ ও ফার্স্ট সিকিউরিটিজ সার্ভিসসের সাইফুর ইসলামকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট যে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বহিষ্কার ও জরিমানা করা হয়। এদিকে এ মাসেই ২০১০ ও ২০১১ সালে শেয়ার কারসাজির অভিযোগে মো. গোলাম মোস্তফাকে ৩ কোটি ও মো. মোসাদ্দেক আলী ফালুকে ১ কোটি টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।

অবৈধভাবে শেয়ার ব্যবসার দায়ে আগস্টে ডিএসইর জিএম খন্দকার আসাদউল্লাহকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিএসইসি।

ফেব্রুয়ারিতে লেনদেন চলাকালীন ইনস্ট্যান্টওয়াচ মার্কেট সার্ভিলেন্স সফটওয়্যারের রিয়েল টাইম ডাটা (তথ্য) ফাঁস হয়। পরে বিষয়টি তদন্ত করে তথ্য ফাঁস করার দায়ে সার্ভিলেন্স সফটওয়্যারের কনসালটেন্ট সিআইবিএল টেকনোলজি লিমিটেডের সহকারী ম্যানেজার তানভির আলমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সরকারি শেয়ার অফলোড : এক বছরে নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। যে সব প্রতিষ্ঠান বাজারে রয়েছে সেগুলো নতুন শেয়ার ছাড়েনি।

মিউচুয়াল ফান্ডের তালিকাভুক্তি : গত এক বছরে নতুন মিউচ্যুয়াল ফান্ড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা : ১৯ নভেম্বর মধ্যরাতে মতিঝিলে মধুমিতা ভবনের পাঁচ ব্রোকারেজ হাউস থেকে প্রায় আট লাখ টাকা চুরি হয়। হাউসগুলো হল— খুরশিদ সিকিউরিটিজ লিমিটিড, আল মুনতাহা ট্রেডিং, কাইয়ুম সিকিউরিটিজ, টোটাল কমিউনিকেশন সিকিউরিটিজ ও ওষাধি সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

ডিএসই ও সিএসইর উদ্যোগ : ডিসেম্বরে ডিএসইতে নতুন স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা হয়। স্বয়ংক্রিয় লেনদেন চালুর ফলে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে হাওলা চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিএসইতে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মো. ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন যোগ দিয়েছেন।

নভেম্বরে ডিএসই ক্লিয়ারিং হাউস গঠনের লক্ষ্যে কোরিয়া এক্সচেঞ্জের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ মাসেই ফাইন্যান্সসিয়াল স্টেটমেন্ট এ্যানালাইসিস কর্মশালার আয়োজন করে ডিএসই।

অক্টোবরে সিএসই শরীয়াহ ও বেঞ্চমার্ক নামে দুইটি নতুন ইনডেক্স (সূচক) চালু করে। এ মাসেই প্রথমবারের মতো সিএসই ইন্টারনেট ট্রেড ফেয়ারের আয়োজন করে। অপরদিকে, পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড সিকিউরিটিজ এ্যানালাইসিস কর্মশালা আয়োজন করে ডিএসই।

সেপ্টেম্বরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ডিএসই পরিদর্শন করে। মালদ্বীপ স্টক এক্সচেঞ্জ সিএসই পরিদর্শন করে। আর নতুন স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থার একাংশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসের (ওএমএস) ওপর তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করে ডিএসই। সহযোগিতা বাড়াতে এ মাসেই ডিএসইর সঙ্গে কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

আগস্টে বিভিন্ন হাউসের প্রতিনিধিদের নতুন আইপিও প্রক্রিয়ার ওপর মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয় ডিএসই। এ মাসেই কোরিয়া এক্সচেঞ্জ ডিএসই পরিদর্শন করে। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের টেকনিক্যাল এ্যানালাইসিসেরর ওপর কর্মশালা করে ডিএসই।

দু’টি সুখবর : জুন মাসে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য দু’টি সুখবর ছিল। একটি হচ্ছে, ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী স্টক এক্সচেঞ্জসমূহের ৫ বছরের কর অব্যাহতি এবং অপরটি লভ্যাংশ আয়ের করমুক্ত সীমা ১৫ হাজার টাকায় উন্নীতকরণ। এ মাসে সম্পদ ব্যবস্থাপক কার্যক্রমের ওপর প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করে ডিএসই। এ মাসেই বাংলাদেশ-চায়না-ইন্ডিয়া-মায়ানমার মিলে চীনে ‘প্যান এশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জ’ নামে একটি আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ স্টক এক্সচেঞ্জ চালু ও গঠন প্রক্রিয়ার অংশগ্রহণের জন্য চীনের কুনমিংয়ে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে ডিএসই ও সিএসই।

মে মাসে ব্রোকার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভিটিভসের ওপর কর্মশালার আয়োজন করে ডিএসই। এ মাসেই ইন্টারনাল অডিট, রিক্স ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড কন্ট্রোলের ওপর কর্মশালা করে ডিএসই। এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ডিএসই পরিদর্শন করে। ব্রোকাদের নিয়ে করপোরেট গভর্নেন্সের ওপর কর্মশালা আয়োজন করে ডিএসই। এ মাসে ডিএসই নতুন লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা টি+২ চালু করে।

মার্চ মাসে নতুন স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থা চালু করতে ম্যাচিং ইঞ্জিনের জন্য নাসডাক ওএমএক্স ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের জন্য ফ্লেক্সট্রেড সিস্টেমসের সঙ্গে চুক্তি করে ডিএসই। এ মাসে গ্লোব ফাইন্যান্স এ্যান্ড ক্যাপিটাল ও বিরালা ক্যাপিটাল এ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড নামে দুই বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ডিএসই পরির্দশন করে। আর বিনিয়োগকারীদের জন্য পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড সিকিউরিটিজ এ্যানালাইসিস কর্মশালার আয়োজন করে ডিএসই।

ফেব্রুয়ারিতে ডিএসইর ওয়েবসাইটে বাংলা সংস্করণ চালু করা হয়। এ মাসেই ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী ১২ সদস্যের ডিএসইর নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। এর আগে স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে থেকে বিচারপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান মিয়াকে ডিএসইর চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। আর ডিএসইর পরিচালক নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে চারজন স্টেকহোল্ডার নির্বাচন করা হয়। একইভাবে সিএসইর পরিচালক নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে চারজন স্টেকহোল্ডার নির্বাচন করা হয়। ওই দিনই বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করে স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে থেকে ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদকে সিএসইর চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। আর ১৬ ফেব্রুয়ারি সিএসইর ই-লাইব্রেরি উদ্বোধন করা হয়। এ সময় পুঁজিবাজারে তদারকি বাড়াতে অত্যাধুনিক সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার সংযোজন করে ডিএসই।

জানুয়ারি মাসে ডিএসইতে শরীয়াহ ইনডেক্স (সূচক) চালু করা হয়। একই মাসে ডিএসই ব্রোকারজ এ্যাসোসিয়েশন গঠন করে ও সভাপতি হিসেবে সাবেক সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু নির্বাচিত হন।

লেনদেন নিষ্পত্তিতে বিভ্রাট : ২৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশের (সিডিবিএল) সফটওয়্যারে দুপুর থেকে লেনদেন নিষ্পত্তিতে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ওই দিন সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত লেনদেন নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি।

১৩ এপ্রিল ডিএসইতে লেনদেন শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট পর কিছু ব্রোকারেজ হাউসের ট্রেডিং সার্ভার ও ট্রেডার ওয়ার্ক স্টেশন ডিএসইর মূল ট্রেডিং সার্ভার থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে ওই দিন সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত লেনদেন বন্ধ রাখে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এরপর দুপুর সোয়া ১টা থেকে সোয়া ৩টা পর্যন্ত লেনদেন করা হয়।

1 COMMENT

  1. লেখাটা ভালো ছিল। ধন্যবাদ লেখককে। অনেক কিছু জানতে পারলাম।
    তথ্য গুলো সালতামামী ২০১৪ নাম দিয়ে মাস অনুযায়ী দেয়া হতো তাহলে খুব ভালো হতো।
    আশা করি লেখক এই ব্যাপারটি খেয়াল রেখে সালতামামী ২০১৪ নাম দিয়ে আর একটি লেখা প্রকাশ করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here