‘নতুনত্ব সবসময় সুন্দর’

0
1532

পুঁজিবাজার আবারো সুস্থ ধারার দিকে ফিরবে। তবে মানসিকভাবে সুস্থ্যতার জন্য যতোটা প্রয়োজন তা পেতে অনেক সময় লাগবে। অন্যদিকে ডিএসই’র নতুন সফটওয়্যার সম্পর্কে অনেকের যে ধারণা হয়েছে, তা আসলে ঠিক নয়।

নতুনত্ব সবসময় সুন্দর। মানুষ অভ্যাস্ত হলেই এর ব্যাপক সাড়া পড়বে। এমনটাই মনে করছেন এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) মোহাম্মদ শাহেদ ইমরান।

NLI CEO.. Shaahed Imran (12)ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড। ২০১৪ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের নতুন হিসাব খোলা, শেয়ার কেনা-বেচা ও ব্যবসা পরিচালনায় সীমিত আকারে ঋণ প্রদান করে থাকে এনএলআই সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্টানটির কর্তৃপক্ষের সুদুর দৃষ্টিভঙ্গি, অফিসের কর্ম পরিবেশ ও বিনিয়োগকারীদের বাজার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়ায় স্বল্প সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সাফল্যের ধারায় রয়েছে।

রাজধানীর মতিঝিলে সম্প্রতি কোম্পানির অফিসে কথা হয় সিইও মোহাম্মদ শাহেদ ইমরান -এর সঙ্গে। দেশের উভয় পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, সুস্থ্যতা, ডিএসইর নতুন সফটওয়্যার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মপরিধী-পরিবেশ নিয়ে একান্ত সাক্ষাতকারে নানান বিষয় উঠে আসে। আলোচনার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো। সাক্ষাতকার নিয়েছেন – শাহীনুর ইসলাম।

স্টক বাংলাদেশ : ডিএসই’র নতুন সফটওয়্যার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তবে সে প্রত্যাশার কিছু অংশ মিলেছে। আপনার দৃষ্টিতে কেমন-

শাহেদ ইমরান : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সফটওয়্যারে খারাপ কিছু দেখি না। আমি এক সময়ে কম্পিটারে যে উইন্ডোজ ব্যবহার করতাম। তা আমার জন্য সে সময়ে ঠিক ছিল। এখন আমার সামনে রয়েছে ২০০৭ উইন্ডোজ, এরপরে চলে আসছে ২০০৯। পেছনেরটা নিয়ে তখন আর চিন্তা করিনা।

কথা হচ্ছে- ডিএসইর এই সফটওয়্যারে পুরনোটার চেয়ে ফ্যাসিলিটি অনেক বেশি। এখন একজন বিনিয়োগকারী মার্কেটকে অনেক ভালোভাবে দেখতে পারছে।

তবে কিছু বিষয় আছে- মার্কেটকে আমি আগে যেভাবে দেখতে পেতাম এখন সেভাবে আর পাচ্ছিনা। সমস্যা হলো- আমরা নতুন এই সফটওয়্যার সম্পর্কে খুব বেশি জানিনা। সীমাবদ্ধতা আমাদের, এই সফটওয়্যার সম্পর্কে আরো জানলে- তখন আমরা খুব ভালো করবো।

স্টক বাংলাদেশ : অনেকের অভিযোগ রয়েছে- যা চাওয়া হচ্ছে, তা এখানে নেই। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গে ভালো প্রভাব ফেলছে না। আপনার দৃষ্টিতে কেমন –

শাহেদ ইমরান : যার যার এটা দৃষ্টি ভঙ্গির ব্যাপার। আসলে এখানে তা নয়। আমাদের জানার সীমাবদ্ধতা থেকেই আমরা এটা বলছি, অভিযোগ করছি। এখানে বিষয় হলো- বিভিন্ন রকমের ডাটা আপনি চাইলে একটা পেজে নিয়ে আসতে পারেন। চাইলে আপনার প্রয়োজনে পেজটা তৈরি করেও নিতে পারেন। এটা আগে ছিলনা।

আপনার কি প্রয়োজন? তা আপনি নিজে তৈরি করে নিতে পারছেন। একই সঙ্গে আপনি আপনার পেজে কি রাখবেন আর রাখবেন না। তা একান্ত নির্ভর করছে আপনার ওপর। এখন কথা হলো- এই ক্রিয়েশন কতোজন করেতে পারে?

এই ক্রিয়েশন যখন ধীরে ধীরে সবাই শিখে যাবে, তখন সাড়া পড়েছে। দেখবেন, এটাতে আমরা যখন অভ্যাস্ত হয়েছি, ফের নতুন কিছু সংযোজন করা হলে আবার আমরা আফসোস করবো। আগেরটাই ভালো ছিল। আমি বলবো- একটু ধৈর্য্য ধরেন, এটাই ভালো ফল দেবে।

shaad imranস্টক বাংলাদেশ : সফটওয়্যারে কোন ঘটতি বা নতুন কিছু সংযোজন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। যা সংযোজন বা বিয়োজন করা হলে বাজার এবং বিনিয়োগকারীর চিন্তার ক্ষেত্রকে আরো প্রসার করবে-

শাহেদ ইমরান :  ডিএসইর সফটওয়্যারে এখন বাজারে ঢুকলে পূর্ণাঙ্গ বাজারকে আপনি দেখতে পারছেন। কয়েকদিন আগে অভিযোগ ছিল, স্কল নেই কেন? এতে ট্রেডারদের সমস্যা হচ্ছে। এখন কিন্তু তা যোগ করা হয়েছে, আর অভিযোগ নেই। এই স্ক্রল কি উপকারে আসে, তা অনেকের জানা নেই। তবে স্ক্রল থাকলে বোঝা যায় জীবন্ত, ট্রেড চলছে।

তবে সেলার এবং বায়ার দেখানোতে একটু সমস্য হচ্ছে। তা হলো- ১০টা একই সঙ্গে ‘একুমলেট’ করে দেখানো যেত, তাহলে বোঝা যেত প্রেসার কি পরিমাণ রয়েছে? আগে বোঝা যেত- আমার সেল প্রেসার-বাই প্রেসার কি পরিমাণে আছে। এখন একসঙ্গে এক্সুয়ালটা বোঝা যাচ্ছেনা। তবে আমার বায়ার-সেলার দেখা যাচ্ছে। তবু বলবো এটা আগেরটার চেয়ে অনেক ভালো।

স্টক বাংলাদেশ : মার্কেট ভালো যাচ্ছেনা, তবুও আশাবাদী। আমরা সকলে সন্তোষজনক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে বহুদূর যেতে চাই। আপনার দৃষ্টিতে কোন সাজেস্ট রয়েছে- যা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে নেবে, বাজারকে গতিশীল করবে-

শাহেদ ইমরান : এই সময়ে বাজার খারাপ হবে এটা খুব স্বাভাবিক। কেননা, দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো নয়। গত ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকিংখাত তাদের হিসাব নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করেছে এবং এখনো করছে।  ইতোমধ্যে অনেক ব্যাংক বেশ প্রফিট করেছে। তারা ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করবে। ১০ টাকায় শেয়ার কিনে ১০ পাসেন্ট লভ্যাংশ পাওয়া খারাপ কিছু নয়। তবে অনেক ব্যাংক ভালো করতে পারেনি। এটাও বাজারের ওপর একটা প্রভাব ফেলছে। তবে দেখবেন, ব্যাংক সেক্টরভালো করবে।

স্টক বাংলাদেশ : বিএসইসি আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্বল্পমূল্যের কোম্পানিরগুলোকে বেশ ছাড় দিচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ রয়েছে। তবু কোম্পানি অনুমোদন ক্ষেত্রে কোন বিষয়ের ওপর গুরুত্ত্ব দেয়া উচিৎ-

শাহেদ ইমরান : প্রথমে কোন সেক্টরে আপনি যাচ্ছেন। কেননা, আপনি যদি গার্মেন্টস সেক্টরে যান তাহলে দেশের এমন পরিস্থিতিতে ভালো করবে না। তবে বিএসইসি যদি চোখ-মুখ খোলা রেখে কাজ করেন, তাহলে কোনই সমস্যা হবে না। এসময় বিএসইসি একাউন্টস দেখতো না এখন কিন্তু দেখে। তারা দেখবে, কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট কি রকমের, কোম্পানির কর্তা কেমন? সর্বোপরি কমিশনকে সতর্ক হওয়ার কোন বিকল্প নেই।

স্টক বাংলাদেশ : যেসব প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে উধাও, তাদের বিরুদ্ধে বিএসইসি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কী নিতে পারে?

শাহেদ ইমরান : বাজারের টাকা যারা নিয়ে পালিয়েছে, অর্গানাইজেশন বন্ধ করে চলে গেছে, সরকার আইন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্যা নিতে পারে। সরকার তাদের সম্পদ ‘একোয়ার’ করে শেয়ারধারীদের টাকা পরিশোধ করবে- এটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে সরকারের কোন গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যেমে ওই কোম্পানিতে যা আছে, ব্যবস্থা নিয়ে তা বণ্টন করে দিতে পারে। সম্পদ নিলাম করলে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ যেমন শাস্তি পেল, অন্যদিকে শেয়ারধারীরাও তার টাকার নিশ্চয়তা পেল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here