নজরদারি বাড়ছে বন্ড সুবিধায়

0
277

সিনিয়র রিপোর্টার : বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে কঠোর হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে বন্ড সুবিধার প্রাপ্যতায়। বাড়ছে নজরদারি। এতে বন্ডের অপব্যবহার কমে আসবে বলে মনে করছে সরকার।

জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে বন্ড কমিশনারেটের অধীনে ৬৬২৯টি বন্ড লাইসেন্স রয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে প্রায় ১ হাজার ৭শ বন্ড লাইসেন্স ব্লক করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু এসব করে বন্ডের অপব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এনবিআরের এক জরিপে বলা হয়েছে, বন্ডের অপব্যবহারে বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

সম্প্রতি বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে মাসটেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। কিন্তু এতে থেমে নেই বন্ডের অপব্যবহার।

এ ছাড়া বন্ডের অতিরিক্ত সুবিধা নেয়ার জন্য অনেক সময় এসব ব্যবসায়ীরা তাদের সম্পদ বাড়িয়ে দেখান। এ ছাড়া যে পরিমাণ পণ্য বন্ড সুবিধায় আমদানি করতে পারবেন তার চেয়ে বেশি আমদানি করতে এলসি খোলেন। এই কৌশলেই সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেন তারা।

সূত্র জানায়, আসন্ন বাজেটে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের পথ বন্ধ করতে যাচ্ছে এনবিআর। এবার বন্ড সুবিধায় আমদানি করতে এলসি খোলার আগেই তার প্রাপ্যতা যাচাই-বাছাই হবে। এতে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার অনেক কমবে।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অন্য ব্যবসায় এ অর্থ ব্যবহার করে। এতে বন্ড কমিশনারেট বা শুল্ক গোয়েন্দার কিছু করার থাকে না। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে কৌসলে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বন্ডের এই অপব্যবহার নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যানও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

সূত্র আরো জানায়, চলতি মাসে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করার কারণে জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়েছে বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানকে। এ ছাড়া বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান নজরদারির মধ্যে রয়েছে। বন্ডে আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির বিষয়ে প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা নেবে বন্ড কমিশনারেট।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, বন্ডের প্রাপ্যতা এর বিষয়ে কড়াকড়ি এলে অনেকাংশে কমে যাবে বন্ডের অপব্যবহার। তবে বন্ড সুবিধা যারা পাচ্ছেন তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে এই বিষয়টি নিশ্চিত করে এলসি খোলার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here