দ্রুত ‘মার্কেট পজেটিভ’ হবে

2
6074

পুঁজিবাজার খুব দ্রুত তার অবস্থান ফেরত নেবে। অর্থনীতির পরিচালনমূখী প্রধান ভিত্তিগুলো এখন বেশ ভালোর দিকে অবস্থান নিয়েছে, দিনে দিনে আরো ভালোর দিকে যাচ্ছে। যুক্ত হচ্ছে এডিবির ২৫ কোটি ডলার ‘সো মার্কেট পজেটিভ’।

৫ বছর আগের পূরনো ছবির দিকে তাকান। যে কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজার সন্তোসজনক পর্যায়ে তার পূর্বের অবস্থান দখলে নেবে। অর্থনীতির চলমান বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা শেষে এসব কথা বলেন শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেডের সিইও মঈন উদ্দিন।

রাজধানীর মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে সম্প্রতি তিনি ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট বৃদ্ধি, আইপিও’র টাকায় কোম্পানির ঋণ পরিশোধ ও পুঁজিবাজার উন্নয়নে এডিবির ২৫ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন -শাহীনুর ইসলাম

স্টক বাংলাদেশ : পূর্বের পুঁজিবাজারের স্বচ্ছল গতি নিয়ে এখনো অনেক বিনিয়োগকারী দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। সেই দিনের পুঁজিবাজার এই সময়ের বাজারের মধ্যে আপনার দৃষ্টিতে বিশেষ পার্থক্য কি?

মঈন উদ্দিন : বিশেষ কিছু নয়। তবে সে সময়ে সবাই শেয়ার ব্যবসা করতো। ফান্ডামেন্টাল শেয়ার বা কোন শেয়ারে কি হবে; জানার প্রয়োজন ছিলনা। কারণ যেখানেই ধরেন, ধরলেই টাকা। এখন সেই মৌসুমী ব্যসায়ীরা বাজারে নেই। তবে আবার আসবে এবং ঝরেও যাবে।

স্টক বাংলাদেশ : ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা চলছে। বৃদ্ধি করা হলে বাজারে কেমন প্রভাব পড়তে পারে?

মঈন উদ্দিন : কিছু ব্যাংক আছে ইতোমধ্যে এক্সপোজার লিমিটের মধ্যে রয়েছে। আবার কিছু এর বাইরেও আছে। এই মুহূর্তে করা হলে একটা প্রেসার আসবে। কথা হলো- কি এডজাস্ট করা হবে?

ধরে নিই- মার্জিন ঋণে কেনা কোন শেয়ারে ৮০% ভেলু কমেছে। ওইখানে কিন্তু আপনি লিমিট সমতায় আনতে পারবেন না। আগে ব্যাংক দিত ২০০ টাকা, শেয়ার হোল্ডারধারীর ১০০ মিলে ৩০০ টাকায় শেয়ার কেনা হতো- ওই শেয়ারের মূল্য এখন ৫০ টাকা। এখানে ব্যাংকের ১৫০ টাকা এবং শেয়ারধারীর ১০০ টাকা নাই। যদি বিক্রি করা হয় তবে দায়ভার ব্যাংকের।

তবে কিছু কিছু কোম্পানি তাদের লস ইতোমধ্যে অনেক কাটিয়ে উঠেছে। যারা স্মার্ট, তারাই পেরেছে। তবে এক্সপোজার লিমিট দেয়ার সময় নির্দেশনা, কোন মনিটরিং, সার্ভারলেন্স আগে ছিলনা।

এখন যারা বসে আছে তারা শেয়ার সেল করে যে লিমিট কমাতে পারবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। অন্যদিকে এটার ব্যবহার যে ঠিকভাবে হচ্ছে তারও কোন গ্যারান্টি নেই। এজন্য ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানো দরকার। পলিসি লেভেলে এটার প্রতি যত্নশীল হওয়া দরকার।

তবে মজার ব্যাপার, নেগেটিভ ইকুইটিতে ইনভেস্টররা ট্রেড করেন না। তবে হাউসগুলো নিজেরা কন্ট্রোল নিয়ে ট্রেড করছে। এটা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ। তবে এতো কিছুর মধ্যেও ভালো করছে এবং করবে।

স্টক বাংলাদেশ : আইপিও’র টাকায় কোম্পানি ঋণ পরিশোধ এবং প্রিমিয়াম বন্ধে বিনিয়োগকারীরা বেশ প্রতিবাদী। তবুও আইপিও’র টাকায় ঋণ পরিশোধের জন্য বিএসইসি কোম্পানিগুলোকে অনুমোদন দি”েছ। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?

মঈন উদ্দিন : প্রত্যেক জিনিসের ভালোমন্দ দুটো দিক রয়েছে। তবে একটি কোম্পানি যখন ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় তখন সে থাকে ভারবাহী। অন্যদিকে পুঁজিবাজার থেকে যখন আইপিও মাধ্যমে টাকা নেয়, তার সে দুশ্চিন্তা আর তাকে না। তবে এজন্য বছরে একবার বিনিয়োগকারীদের কাছে যেতে হয়- শুধুমাত্র এজিএমে। এখানে ইনভেস্টরদের কাছে জবাবদিহি করতে হয় আমি এতো টাকা প্রফিট করেছি, এত টাকা লস করেছি। আগামীতে এই কাজ করতে যাচ্ছি। এখানে লাভের ওপর ভিত্তি করে ডিভিডেন্ড দেয়া হয়।

তবে ব্যালেন্স শিটে যদি ইঞ্জিনিয়ারিং করে আনিং ১ টাকা দেখানো হলো ৫ টাকা। আর এসব দেখার জন্য লোক বা প্রতিষ্ঠান আছে। আপনি ব্যবহার করছেন কিভাবে, সেটাই হচ্ছে আসল কথা।

তবে এখানে আইনি কিছু জটিলতা রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় যাচাই করবে রেগুলেটর। নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোম্পানির ৫ বছরের রেকর্ড ও বিনিয়োগের পরিমাণ করে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গত ৫ বছরের সাফল্য মূল্যায়ন করলেই পাওয়া যাবে প্রতিষ্ঠানটি কেমন? তবেই আইপিও নির্বাচনের যোগ্যতা নির্ধারণ।  তবে ইতোমধ্যে নতুন গেজেট একটি নতুন মাত্রা। এখনতো দুই স্টক এক্সচেঞ্জ যাচাই করে ‘নো অবজেকশন’ দিলে আইপিও পাবে। এখন ভালো কিছু আসবে।

স্টক বাংলাদেশ : পুঁজিবাজার উন্নয়নে এডিবি ২৫ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা হচ্ছে। এবিষয়ে আপনার মতামত-

মঈন উদ্দিন : পুঁজিবাজার উন্নয়নে এডিবি ডলার সহায়তা অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এর আগেও তারা দিয়েছিল। তবে সহায়তার জন্য উন্নয়ন খাতের অনেক শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে উন্নতি হবে। এটা আসা মানে পুঁজিবাজার তার পূর্বের চেহারা ফেরত পাবে।

৫ বছর আগে আমাদের পুঁজিবাজারে যে উন্নয়ন হয়েছে। যে ফান্ডিং করছে- বাজার মুভ করবেই। কারণ ৫ বছর আগের চিত্রটা একবার দেখেন, এমনই ছিল। বিএসইসি, ডিএসই ও সরকার বাজার উন্নয়নে বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিংয়ে পাঠায়। সো মার্কেট পজেটিভ হবে।

2 COMMENTS

Ripon শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here