দ্বিমুখী নীতি, কমছে না সুদ হারের ব্যবধান

0
423

এস বি ডেস্ক : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বিমুখী নীতির কারণে কমছে না সুদ হারের ব্যবধান (স্প্রেড)। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের শিল্পোদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৫টি ব্যাংক স্প্রেড ৫ শতাংশ পয়েন্টে নামিয়ে আনা সংক্রান্ত নির্দেশনা মানেনি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংকগুলো ঋণে বেশি সুদ নেয়ায় শিল্পোদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। ফলে কমে যাচ্ছে বিনিয়োগ। আর অতিরিক্ত সুদ গুনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিল্পখাতে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপর একটি নির্দেশনা। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসএমই খাতে আমানত ও ঋণের সুদ হার ব্যবধান বাড়লেও কোনো সমস্যা নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকতা বলেন, ‘সুদ হার নীতি দুই রকম হওয়ার কারণে কিছু কিছু ব্যাংক অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। বিআরপিডির জারি করা ওই নির্দেশনার কারণে সুদের হার কমছে না। এ কারণে অনেক উদ্যোক্তা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে পারছেন না। ’

তিনি মনে করেন, অন্যান্য ঋণের মতো এসএমই ঋণেও সুদ হারের ব্যবধান (স্প্রেড) ৫ শতাংশ পয়েন্টে নামিয়ে আনার নির্দেশনা থাকলে সুদ হার কমে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যে সব ব্যাংক এসএমই ঋণ নামে বেশি ঋণ দিয়েছে তাদের স্প্রেড বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৩ সালের জুন শেষে ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে গড়ে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিলেও ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো গড়ে ১৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করেছে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী  বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা, গ্যাস ও বিদ্যুতের স্বল্পতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশে এমনিতেই নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যাংক সুদ গুনতে গিয়ে তারা নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে সংকট বাড়বে।’ এতে শিল্পায়নের প্রবৃদ্ধিও হ্রাস পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণের সুদ হার কমানোর লক্ষ্যে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে ২০১৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে তা কার্যকর করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দেয়। এছাড়া জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করে গভর্নর বলেছিলেন, মার্চের মধ্যে নির্দেশিত সীমার মধ্যে স্প্রেড হার নামিয়ে না আনলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু এ ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি পরবর্তী সময়ে আর কার্যকর হয়নি। তাই নির্ধারিত সময়ের ৩ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও ২৫ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশিত সীমার তুলনায় এ সময়ে স্প্রেড ৫ শতাংশের বেশি রয়েছে- বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংক, বেসরকারি সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক এবং বিদেশি মালিকানার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংকও এইচএসবিসি ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাংকের স্প্রেড ব্যবধান নির্দেশিত সীমায় নামিয়ে আনতে প্রতিনিয়তই ব্যাংকগুলোকে তাগাদা দেয়ায় আগের চেয়ে গড় ব্যবধান কমেছে। যারা এ নির্দেশনা মানছে না তাদের শিগগিরই আবারও সতর্ক করা হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here