দ্বিতীয়ার্ধের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা

0
451
বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গভর্নর ফজলে কবিরসহ আরো অনেকে-

সিনিয়র রিপোর্টার : বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ খানিকটা কমিয়ে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের লক্ষ্য কমানো হলেও বাড়ানো হয়েছে সরকারি খাতের ঋণের লক্ষ্য। মূলত সরকারের বিভিন্ন বড় প্রকল্পের জন্যই এ সুযোগ রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে রিজার্ভ মুদ্রার (এম-১) লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়ে ধরা হয়েছে। এদিকে গত ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যের চেয়ে অনেক কম হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমেছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঘোষণা অনুযায়ী, মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সরকারি ঋণের প্রাক্কলন করা হয়েছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের ধারাবাহিকতায় নির্ধারণ করেছে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এর আগের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির। এ সময় ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের চেইঞ্জ ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক আল্লা মালিক কাজমী, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজি হাসান, ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজার এস কে সুর চৌধুরী, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি বছর দুবার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে থাকে। ছয় মাস অন্তর এই মুদ্রানীতি একটি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই মাসে এবং অন্যটি জানুয়ারি মাসে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু ডিসেম্বর শেষে দেখা যায়, এ খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যের চেয়ে অনেক কম হয়েছে; ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য অনিশ্চয়তার উৎকণ্ঠা এর একটি কারণ হয়ে থাকতে পারে।

এ ছাড়া আমানত ও ঋণ সুদহারের জোগান ও চাহিদাভিত্তিক ওঠানামায় সাম্প্রতিককালে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা বেসরকারি খাতে ঋণ জোগানের প্রবাহকে প্রভাবিত করছে কিনা- সেটি অর্থবর্ষের দ্বিতীয়ার্ধে স্পষ্ট হবে বলে জানান গভর্নর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here