দেশ গার্মেন্টসের বিক্রি কম, মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন

0
485

স্টাফ রিপোর্টার : বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি দেশ গার্মেন্টস লিমিটেডের বিক্রি কমছে। ২০১৫ সালে প্রায় ৪৪ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করলেও দুই বছরে তা ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ কমে ৩৭ কোটিতে নেমে এসেছে। তবে ব্যয় কমিয়ে মুনাফা চার গুণেরও বেশি বাড়িয়েছে কোম্পানিটি।

এদিকে পুনর্মূল্যায়িত সম্পত্তি, প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির অবচয় ধার্য না করায় সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান।

দেশ গার্মেন্টসের ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ম্যাবস অ্যান্ড পার্টনার্স জানিয়েছে, দেশ গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ তাদের সম্পদ পুনর্মূল্যায়নজনিত উদ্বৃত্ত হিসাব করার সময় সম্পত্তি, প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির অবচয় ধার্য করেনি, যা বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস)-১৬-এর লঙ্ঘন।

এছাড়া স্থায়ী সম্পদের হালনাগাদ রেজিস্টার বই অনুপস্থিত থাকায় ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির উল্লেখ করা সম্পত্তি, প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির তথ্যাদি যাচাই করতে পারেনি নিরীক্ষক।

আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালের পর থেকে কোম্পানিটির নিট মুনাফায় উচ্চ প্রবৃদ্ধি বিরাজমান। এ সময়ের মধ্যে শুধু প্রথমবার ২০১৪-১৫ হিসাব বছরেই তাদের বিক্রি আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছিল।

এরপর গত দুই হিসাব বছরেই বিক্রি নিম্মমুখী। রফতানি ও সাব-কন্ট্রাক্ট মিলিয়ে ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে দেশের প্রথম রফতানিমুখী তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি ছিল ৪৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ২০১৩-১৪ হিসাব বছরে যা ছিল ২৬ কোটির ঘরে। তবে ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে বিক্রি ৪১ কোটির ঘরে এবং ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে তা ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ঘরে নেমে আসে।

তবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে গত অন্তত ৫ বছর ধরে গ্রস মুনাফায় প্রবৃদ্ধি দেখাতে সক্ষম হচ্ছে কোম্পানিটি। অন্যান্য খরচ নিয়ন্ত্রণের সুবাদে সর্বশেষ দুই হিসাব বছরে তাদের করপরবর্তী মুনাফা ৮৩ লাখ থেকে ৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ স্টক ও ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে দেশ গার্মেন্টসের পরিচালনা পর্ষদ। বছর শেষে তাদের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬ টাকা ৫৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর যা ছিল ৪ টাকা ৯৭ পয়সা। ৩০ জুন এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৯ টাকা ৮ পয়সা।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে এসে কোম্পানিটির ইপিএস কমতে দেখা গেছে। আগের বছর জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ১ টাকা ৯৪ পয়সা ইপিএস দেখালেও এ বছর প্রথম প্রান্তিকে তা ১ টাকা ৬৭ পয়সায় নেমে এসেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৭৫ পয়সা।

ডিএসইতে সর্বশেষ ২৪৯ টাকা ৩০ পয়সায় দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার লেনদেন হয়। মুনাফায় উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত স্বল্পমূলধনি কোম্পানিটির শেয়ারের দর ৮৫ থেকে ৪০০ টাকার ঘরে উন্নীত হয়। তবে গত আড়াই মাসে তা ২৫০ টাকার নিচে নেমে আসে।

১৯৭৭ সালে যাত্রা করা দেশ গার্মেন্টস শেয়ারবাজারে আসে ১৯৮৯ সালে। এর পরিশোধিত মূলধন ৬ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। রিজার্ভ ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৫৮ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৫ দশমিক ৯৮ এবং বাকি ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে।

সর্বশেষ অনুমোদিত নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর এ শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ৪৩ দশমিক ৭৪, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ৩৭ দশমিক ৩২।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here