দেশের উন্নয়নে পুঁজিবাজার নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব প্রয়োজন

3
519

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারকে দেশের অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসতে হলে ভালো ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে। সরকার তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছে। তার পরও কস্ট বেনিফিট অ্যানালাইসিস করে সিংহভাগ বড় কোম্পানির উদ্যোক্তারা তালিকাভুক্তি এড়িয়ে চলছেন। অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারকে কাজে লাগাতে হলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়গুলোকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় মঙ্গলবার অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা এ মত দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান এ সময় বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় কোম্পানিগুলো কমপ্লায়েন্স আর বহুজাতিকরা অধিক ডিসক্লোজারের ভয়ে তালিকাভুক্ত হতে চায় না।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআর সম্মেলন কক্ষে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটকে কেন্দ্র করে গতকাল রাজস্ব কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের আলোচনার একটি অংশ ছিল পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক।

থিংক ট্যাংক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যান্য সূচকের তুলনায় পুঁজিবাজার অনেক পিছিয়ে আছে। বাজারটিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য আমাদের আরো অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা, সেসব কোম্পানিতে ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগ উত্সাহিত করা, তালিকাভুক্তিতে অনীহা দূরীকরণে পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান

ব্যক্তির উদ্বৃত্ত অর্থ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সঞ্চয়পত্রে সম্পদশালী ব্যক্তির বিনিয়োগের সুযোগ কমিয়ে তাদের জন্য পুঁজিবাজারে ভালো ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা উচিত। উচ্চসুদের সঞ্চয়পত্র শুধু স্বল্প ও মাঝারি আয়ের মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগপ্রবাহ বাড়বে। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদে ভালো কোম্পানির শেয়ার ধারণে উত্সাহ দিতে তাদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর আরোপিত কর তুলে দেয়ারও প্রস্তাব করেছেন তিনি।

দেশে অনেক ভালো কোম্পানি রয়েছে, যারা পুঁজিবাজারে আসতে চায় না। অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করের ব্যবধানটি আরো বাড়ানো হলে তারা তালিকাভুক্তির কথা ভাবতে শুরু করবে। এছাড়া আর্থিক সেবা ও টেলিকম খাতে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির করপোরেট করের ব্যবধানটি অনেক কম, যা বাড়ানো দরকার বলে মত দেন অধ্যাপক আবু আহমেদ।

অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ব্যবসা ভালো করলেও তারা বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব কম শেয়ার বাজারে ছাড়ছে। বাজারে এসব কোম্পানির সংখ্যা বাড়লে এবং তারা তুলনামূলক বেশি শেয়ার অফলোড করলে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন এবং বাজারও প্রাণবন্ত হবে।

তালিকাভুক্তিতে অনীহার নানা কারণ নিয়ে আলোচনার পর এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমার পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় অনেক কোম্পানি কমপ্লায়েন্সের ভয়ে শেয়ারবাজার পর্যন্ত আসতে চায় না। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কমপ্লায়েন্সকে ভয় পায় বলে মনে হয় না, তবে অধিক ডিসক্লোজারকে তারা ঝামেলা মনে করে। ডিসক্লোজারে স্থানীয় অনেক বড় কোম্পানিরও অনীহা রয়েছে।

শেয়ারবাজারকে অর্থনীতির অন্যান্য সূচকের সঙ্গে এগিয়ে নিতে এনবিআর সব পক্ষের দেয়া প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে জানিয়ে এর চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবতাগুলো মাথায় রেখে তালিকাভুক্তি আর বিনিয়োগ কীভাবে উত্সাহিত করা যায়, তা নিয়ে আমরা চিন্তা করছি। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আমাদের আলোচনা হচ্ছে।

পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে কী পরিমাণ শেয়ার ছাড়লে কেমন কর সুবিধা দেয়া দরকার— এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ আহ্বান করেন এনবিআরের করনীতি বিভাগের প্রথম সচিব শব্বির আহমেদ। এ সময় অন্যান্য দেশের বিধান পর্যালোচনা করে স্ল্যাবভিত্তিক কর ছাড়ের পক্ষে মত দেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসির ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশীদ লভ্যাংশ আয়ের ওপর বহুস্তরের কর ব্যবস্থা বিলোপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় এনবিআরের শুল্কনীতির সদস্য ফিরোজ শাহ আলম, ভ্যাটনীতির সদস্য রেজাউল হাসান, আন্তর্জাতিক করের সদস্য হাবিবুর রহমান আকন্দ, আয়কর নীতির সদস্য কানন কুমার রায়সহ সংস্থাটির অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ অংশ নেন।

3 COMMENTS

Rahat শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here