মুনাফায় ১৫৮ কোম্পানি

0
1287

ডেস্ক রিপোর্ট : চলতি হিসাব বছরের (২০১৮-১৯) প্রথম ছয় মাসে তালিকাভুক্ত দেশীয় উৎপাদন ও সেবামুখী খাতগুলোর অধিকাংশের নিট মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। শনিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ২০০ কোম্পানির মধ্যে ১৮৮টির প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৫৮টি মুনাফা করেছে। লোকসানে ৩০ কোম্পানি। বাকি ১২টি আর্থিক প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করেনি।

পর্যালোচনায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মুনাফায় থাকা ১৫৮ কোম্পানি নিট চার হাজার ২৯২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৭১ কোটি টাকা বা সাড়ে ১৮ শতাংশ বেশি। অবশ্য এর মধ্যে নয়টি আগের হিসাব বছরে লোকসান করেছিল প্রায় সাত কোটি টাকা।

এ ছাড়া লোকসানে থাকা ৩০ কোম্পানি নিট লোকসান প্রায় ২০৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আগের হিসাব বছরে কোম্পানিগুলোর মোট নিট লোকসান ছিল ১২৭ কোটি টাকা। অবশ্য এর মধ্যে আটটি ওই সময়ে সাড়ে ২০ কোটি টাকা মুনাফা করে। প্রকাশিত ইপিএসকে কোম্পানিগুলোর শেয়ার সংখ্যা দিয়ে গুণ করে নিট মুনাফা হিসাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত হিসাবের তুলনায় নিট মুনাফা সামান্য কমবেশি হতে পারে।

প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, মুনাফায় থাকা ১৫৮ কোম্পানির মধ্যে ১০৮টির ইপিএস বেড়েছে, কমেছে ৪৮টির এবং বাকি দুটির ইপিএস অপরিবর্তিত আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানি গত হিসাব বছরে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের কারণে সেগুলোর শেয়ার সংখ্যা বেড়েছে। এর পরও বেশির ভাগের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সমাপ্ত অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় সর্বাধিক বেড়ে প্রায় ২৪ গুণে উন্নীত হয়েছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এ কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা, যা ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে ছিল মাত্র ছয় পয়সা। টাকার অঙ্কে এর নিট মুনাফা এক কোটি থেকে বেড়ে সাড়ে ২৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চমক লাগানো মুনাফা বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যায় সাবমেরিন কেবলস কোম্পানি জানিয়েছে, আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির আয় ব্যাপক হারে বেড়েছে এবং পরিচালন ব্যয় সে হারে বাড়েনি।

ইপিএস বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল মুন্নু স্টাফলার্স। কোম্পানিটির গত হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে ইপিএস ছিল মাত্র ১ টাকা ৫৩ পয়সা, যা চলতি হিসাব বছরের একই সময়ে ১৮ টাকা ০৭ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে প্রায় ১১ গুণ।

মুনাফায় এমন উল্লম্ম্ফন বিষয়ে ব্যাখ্যায় কোম্পানিটি জানিয়েছে, নতুন মূলধনী যন্ত্রপাতি স্থাপনের কারণে উৎপাদন বেড়েছে। পাশাপাশি ক্রেতা চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আয়ও বেড়েছে। তা ছাড়া মেয়াদি ঋণ সমন্বয়ের কারণে ইপিএস ব্যাপক হারে বেড়েছে। ইপিএস বৃদ্ধিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে মুন্নু গ্রুপের আরেক কোম্পানি মুন্নু সিরামিক। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সমাপ্ত অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটি হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি ৮ টাকা ১৩ পয়সা নিট মুনাফা করেছে, যা গত হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৬৯ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে পৌনে পাঁচ গুণে উন্নীত হয়েছে।

ইপিএস বৃদ্ধিতে এর পরের অবস্থানে থাকা ওয়াটা কেমিক্যালের ইপিএস এক লাফে ১ টাকা ৩১ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৫৬ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। একইভাবে সেন্ট্রাল ফার্মার ইপিএস ১৫ পয়সা থেকে ৪৭ পয়সা হয়েছে। প্রিমিয়ার সিমেন্টের ইপিএস পৌনে তিনগুণ বেড়ে ৬২ পয়সা থেকে ১ টাকা ৭৪ পয়সা হয়েছে।

সর্বশেষ অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী আরও সাত কোম্পানির ইপিএস বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এর মধ্যে সায়হাম টেক্সটাইলের ইপিএস ৪৭ পয়সা থেকে এক টাকায়, এসকে ট্রিমসের ইপিএস ৬৮ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪৪ পয়সায়, ন্যাশনাল পলিমারের ইপিএস ৯৩ পয়সা থেকে ১ টাকা ৯৪ পয়সায়, মেঘনা সিমেন্টের ইপিএস ৩৫ পয়সা থেকে ৭৩ পয়সায়, এডভেন্ট ফার্মার ইপিএস ৫৭ পয়সা থেকে ১ টাকা ১৮ পয়সায়, ডেসকোর ইপিএস ৮৬ পয়সা থেকে ১ টাকা ৭৬ পয়সায় এবং পেনিনসুলা চিটাগংয়ের ইপিএস ৩২ পয়সা থেকে বেড়ে ৬৪ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।

এর বাইরে ৯ কোম্পানি গত হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে লোকসানে থাকলেও এ বছর মুনাফা করেছে। এগুলোর শীর্ষে ছিল বঙ্গজ লিমিটেড। কোম্পানিটি ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি ২৪ পয়সা লোকসান করেছিল। কিন্তু চলতি হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা মুনাফা করার তথ্য দিয়েছে। অবশ্য লোকসান থেকে মুনাফায় ফেরার কোনো ব্যাখ্যা জানায়নি কোম্পানিটি।

বঙ্গজের মতো স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক শেয়ারপ্রতি ২৪ পয়সা লোকসান থেকে ৮০ পয়সা মুনাফা করেছে। নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের গত হিসাব বছরের ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৬ টাকা ৪৫ পয়সা, এবার ১১ টাকা ৯ পয়সা মুনাফার তথ্য দিয়েছে। সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারপ্রতি লোকসান ৩৮ পয়সা থেকে ৬৩ পয়সা মুনাফা করেছে বলে জানিয়েছে।

ইনফরমেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্ধবার্ষিক হিসাবে শেয়ারপ্রতি ১৯ পয়সা মুনাফা করেছে, গত বছর একই সময়ে লোকসান করেছিল ১২ পয়সা। একইভাবে লোকসান থেকে মুনাফায় ফেরার তথ্য দিয়েছে ইনটেক অনলাইন, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল ও ফাইন ফুডস। সূত্র : সমকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here