দুর্বল ব্যবস্থানায় কোম্পানির উৎপাদন কমছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী

0
510

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একের পর এক কোম্পানির উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা আসছে। কয়েকটি কোম্পানি ইতিমধ্যে তাদের পণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। দুর্বল ব্যবস্থানার কারণে কোম্পানিগুলো ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও এগুলো কোম্পানিগুলোর কোনো ভূমিকা থাকছে না। তাই কোম্পানিগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে বাইব্যাকের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করা জরুরি।

বিগত ৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে রহিমা ফুডের উৎপাদন। এছাড়া বিগত ৪ বছর ধরে মডার্ন ডায়িং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিংয়ের উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ডায়নামিক টেক্সটাইল, শ্রীপুর টেক্সটাইলের পর এবার পেট্রো সিনথেটিকস ও মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা এসেছে। পেট্রো সিনথেটিকস প্রডাক্টস লিমিটেডের বিলুপ্তির জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, ঋণের দায়ের জর্জরিত হয়ে মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্যাক্টরির যাবতীয় সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দখলে। কোম্পানির পক্ষ থেকেও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে কি না- এ নিয়ে খোদ মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজ কর্র্তৃপক্ষই সন্দেহ পোষণ করছে। এদিকে এসব কোম্পানি বিলুপ্ত হলে এর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনাদারদের দায় মেটানোর পর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যে কিছুই জুটবে না।

এদিকে যেখানে অন্য কোম্পানি লোকসানে পড়ার পরও পরবর্তীতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেখানে এসব কোম্পানির উৎপাদন বন্ধের ঘোষণার উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ। তাই বিষয়টি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পেট্রো সিনথেটিকস কোম্পানির উৎপাদন গত ১ মে ২০০৬ তারিখে নানা কারণে বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে কোম্পানির কোনো আয় না থাকায় ব্যয় শুধু বাড়তে থাকে। ফ্যাক্টরি, অফিস ও কর্মচারীদের আনুষঙ্গিক খরচ ইত্যাদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

অন্যদিকে উৎপাদনহীন অবস্থায় কোনো প্রকার আয় না থাকায় লোকসানের পরিমাণ দিনে দিনে বাড়তে থাকে। এছাড়া ঋণ, চক্রবৃদ্ধি হারে ঋণের সুদ ও অন্য দায়ও প্রতিবছর বাড়তে থাকে। ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির দায় সম্পদের চেয়ে তিনগুণ বেড়ে যায়। গত ২ জুন ২০১০ তারিখে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভায় কোম্পানি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী  পেট্রো সিনথেটিকস কর্তৃপক্ষ ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী হাইকোর্টে তাদের কোম্পানির বিলুপ্তির জন্য আবেদন করে।

গত ৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট কোম্পানির বিলুপ্তির আবেদন মঞ্জুর করে এবং কোম্পানির মেটার ২০১২-এর ১০নং হিসেবে কোম্পানির ফাইল লিপিবদ্ধ করে। এ কোম্পানির বিলুপ্তি হলে বিপাকে পড়তে হবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। কারণ কোম্পানির বিলুপ্ত হলে সর্বপ্রথম কোম্পানির দায়দেনা পরিশোধ করতে হবে। অতঃপর ঋণপত্রদারী উদ্যেক্তা পরিচালকরা তাদের পাওনা বুঝে নেবে। তারপর যদি কিছু থাকে তাহলে তা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পাবে।

এদিকে এ কোম্পানি যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তারচেয়ে তিনগুণ দায় রয়েছে, অর্থাৎ সম্পদ বিক্রি করেই দায় মেটানো যাবে না। এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৪২ লাখ টাকা। অন্যদিকে, পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অর্থাৎ পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ পরিশোধিত মূলধনের ৫ গুণ। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৪২ শতাংশ শেয়ার এ কোম্পানিতে আটকে রয়েছে।

কোম্পানির প্রোফাইলে দেয়া ৯১২২৪০৯ নম্বরটি শেলটেক কোম্পানির ও ৩২৫৬৩৮ নম্বরটিতে একটি ডিজিট কম রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানিতে যোগাযোগ করতে চাইলেও পারছে না।

এদিকে দীর্ঘদিন উৎপাদনে না থাকা, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহীত ঋণ ও চক্রবৃদ্ধি হারে সে সুদের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, মামলা সংক্রান্ত জটিলতা, কোম্পানির ফ্যাক্টরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দখলে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজ, ডায়নামিক টেক্সটাইল ও শ্রীপুর টেক্সটাইল কোম্পানি দেউলিয়া হতে যাচ্ছে।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই অনতিবিলম্বে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরতের উপায় বের করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here