শাহীনুর ইসলাম : দুটি নয়, ৭ টি বিমান আসছে। বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে ইস্যু ব্যবস্থাপক বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার চলতি মাসে (অক্টোবর) দিনক্ষণ নির্ধারণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগের দিনক্ষণ নির্ধারণ হলেই বিমান আসবে। উন্নত মানের ৭টি এয়ার বাস আসবে।

বিদেশি ৫টি কোম্পানির অর্থায়নে এসব এয়ার বাস দেশে আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ক্রমে আমরা বিমান আনবো। ইতোমধ্যে এয়ার বাস ক্রয়ের সব প্রক্রিয়া আমরা এগিয়ে রেখেছি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দিয়েছে। দিনক্ষণ নির্ধারণ হলেই বিমান আসবে।

তবে সবার আগে ৩২০ সিটের দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলের যোগ্য দুটি বিমান আসবে।

একান্ত সাক্ষাতকারে সম্প্রতি এসব কথা বলেন ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের এমডি ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী। আলোচনায় তিনি বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বহরে বিমান উড্ডয়নের বিভিন্ন সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন।

এয়ার বাস কিনতে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে তিনি স্টক বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের প্রতিনিধি দল বিমান দেখতে (পরিদর্শন) যাওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কমিশন প্রথম ধাপে যে ৪০০ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে, সেই টাকা উত্তোলনের দিনক্ষণ দ্রুত নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

৪০০ কোটি টাকা উত্তোলনের দিনক্ষণ নির্ধারণ হলেই আমাদের প্রতিনিধিদল বিমান পরিদর্শন করতে যাবে। ৫টি দেশ থেকে বিদেশি কোম্পানির অর্থায়নে এসব বিমান আসবে। এরপরে নতুন দিনে এবং নতুন রুপে বিমান আকাশেও উড়বে।

tscটিএসি এভিয়েশন নিয়ে নিন্দুকেরা যেসব নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তা অবান্তর উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যে মন্তব্য করছেন প্রতিত্তোর তারাই খুঁজে বের করবেন। তবে বিমান আসবে এবং নতুন রুপে উড়বে।

প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিমান সম্পর্কে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান স্টক বাংলাদেশকে বলেন, ইউনাইটেডের এখনো নিজস্ব ৯টি বিমান রয়েছে। এরমধ্যে টিপটপ পর্যায়ে রয়েছে ৬টি বিমান। একটি বিমান কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। বাকি বিমানগুলো সিচেক করা হলে সেগুলোও আকাশে উড়বে।

ব্যাবসা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে বিমান পরিবহন ব্যবসায় কোন কোম্পানি ভালো নেই। কারণ, সরকারি বিমান এবং বেসরকারি বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা বৈষম্য রয়েছে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বেসরকারি বিমান বেশ ভালো করছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ অনেকটা পিছিয়ে পড়ছে।

UNITED AIR, Caten-tafsirul-amin-21.09.16-1
ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে স্টক বাংলাদেশের প্রতিনিধি

ইউনাইটেড এয়ারের লোকসান সম্পর্কে ক্যাপ্টেন এমডি তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী লাখো বিনিয়োগকারীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, অনেকে বলেন, ইউনাইটেড এয়ার বাজার থেকে অনেক টাকা তুলে নিয়েছে তবে সে টাকা গেল কোথায়? প্রশ্নকারীদের উদ্দেশে বলছি, আপনি কি কখনো কোম্পানির এ্যানুয়াল রিপোর্ট খুলে দেখেছেন। কোম্পানির ঋণ কতো টাকা ছিল? কোম্পানির সম্পদ আগের তুলনায় কতোটা বেড়েছে?

প্রতিত্তোরে তিনি বলেন, বিদেশি এবং দেশি ঋণ ছিল ৬০০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে তা পরিশোধ করে মাত্র ২০০ কোটি টাকা রয়েছে। বিদেশি ঋণের ৯০ শতাংশ আমরা পরিশোধ করেছি। ইসলামী ব্যাংকের যে ঋণ ছিল তা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে কোম্পানির কার্যালয়ে বিভিন্ন সম্পদ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদপত্রে ‘সোয়া ৮শ’ কোটি টাকা তুলে ইউনাইটেড এয়ার ছেড়েছেন পরিচালকরা’ শিরোনামে কোম্পানি সম্পর্কে নেতিবাচক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এমন প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বুধবার রাতে বলেন, যিনি এসব লিখছেন তিনি কখনো কোম্পানির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন?

কোম্পানির শেয়ার নিয়ে প্রতিবেদনে যেসব তথ্য দেয়া করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। কোম্পানির লাখো বিনিয়োগকারীকে সঠিক তথ্য নির্ভরতা থেকে সরিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের সঠিক তথ্য পরিবেশনের আহ্বান জানান এমডি।

ব্যবসায় ধসের কারণ সম্পর্কে এমডি বলেন, সরকার হঠাৎ পরিচালকের ২% শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক করে। তখন শুরু হলো কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের মনে উৎকণ্ঠা। এসময় শুধু ইউনাইটেড এয়ার নয়, ২০১২ সালে দু’শতাধিক কোম্পানির উদ্যোক্তা শেয়ার ছেড়ে চলে গেছেন।

tsc avationশেয়ার ধারণের শঙ্কা এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে এমডি বলেন, এ কোম্পানির আমিও একজন শেয়ারধারী। কোম্পানির ব্যবসা ভালো হলে আপনাদের মতো আমিও লভ্যাংশ পাবো। তাই এখনো কোম্পানি ছেড়ে বসিনি। আমার আরো অনেক ব্যবসা আছে। দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও অন্যকোন ভালো ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারতাম। তা করিনি, এখন এয়ার ওড়ানোই আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ ব্যবসা বোঝেন। আমার সঙ্গে ব্যবসা করে কারো ক্ষতি হয়নি, হবেও না।

Screenshot_2
স্টক বাংলাদেশের চিত্রে প্রকাশ, বৃহস্পতিবার সকালে বেড়েছে শেয়ার হস্তান্তরের পরিমাণ।

লাখো বিনিয়োগকারীকে অভয় দিয়ে এবং আশ্বস্থ করে তিনি বলেন, ধৈর্য্য রাখুন। এয়ার নতুন রুপে উড়বে, আগের দিন ফিরে আসবেই। ব্যবসায় উত্থান-পতন রয়েছে এবং সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে আগে শেয়ারের বিনিময়ে দুটি বিমান কেনার কথা হয়েছিল, এখন তা বাড়িয়ে আমরা ৭ টি বিমান কিনবোা। আমাদের মোট বিমানের সংখ্যা হবে ১৯টি। নতুন রুপেই ইউনাইটেড এয়ারের সব বিমান উড়বে। বাংলাদেশে বিমানের সবচেয়ে বড় বহর হবে ইউনাইটেড এয়ারের।

Screenshot_1
কোম্পানির বিভিন্ন তথ্য সম্বলিক স্টক বাংলাদেশের গ্রাফ দেখুন

বিভ্রান্তি নিয়ে সাক্ষাতকারের প্রথম অংশ : টিএসসি নয়, ‘ইউনাইটেড এয়ারই উড়বে’: এমডি

আরো জানতে দেখুন স্টক বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রাফ : ওয়েবসাইট