সিনিয়র রিপোর্টার : দীর্ঘ ২৪ বছর বন্ধ থাকার পর আবারো চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টিল ওয়ার্কস লিমিটেড। গাজীপুরের টঙ্গীতে বৃহস্পতিবার কারখানাটি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে বছরে নয় হাজার টন রড উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা দেড় লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানিটির।

বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, ১৯৯৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বন্ধ হওয়ার পর মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে ২০১৬ সালে কারখানাটি পুনরায় চালুর অনুমোদন পায় সরকার। তবে দীর্ঘদিন অব্যবহূত থাকায় কারখানার যন্ত্রপাতি অনেকাংশেই নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে সংস্কার ও গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে গাজীপুরের টঙ্গীতে ১৭ বিঘা জমির ওপর স্থাপিত কোম্পানির মূল কারখানায় একটি ইউনিটে উৎপাদন শুরু করা হবে। পরবর্তী সময়ে আরো দুই মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির টঙ্গী ও তেজগাঁওয়ে অবস্থিত অন্য দুটি ইউনিটের উৎপাদনও শুরু করা হবে। কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চীন থেকে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রি-রোলিং উৎপাদন যন্ত্রাংশ এনে স্থাপন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঢাকা স্টিল চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে পণ্যের মান ধরে রাখতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভালো পণ্য থাকার কারণেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলেই নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন করতে পারে না। আইনি জটিলতার কারণে ঢাকা স্টিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, সব জটিলতা দূর করে কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়ন ও বিএসইসির তহবিল থেকে কারখানা সংস্কার হয়েছে। মানসম্মত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাজারে অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলেও আশাবাদী তিনি।

স্বাধীনতার আগে ব্যক্তিমালিকানায় থাকা ঢাকা স্টিল দেশের ইস্পাত খাতে নেতৃত্ব দিয়েছে। তখন এর অধীনে কোয়ালিটি আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি ও প্রান্তিক ট্রেডার্স নামে দুটি প্রতিষ্ঠান এমএস রড ও অ্যাঙ্গেল, সিআই (কাস্ট আয়রন) এবং এনামেলের তৈজসপত্র তৈরি করত। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির এক আদেশে প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রীয়করণের পর বিএসইসির অধীনে দেয়া হয়।

তবে প্রতিষ্ঠানটির মূল মালিকদের মামলার কারণে ১৯৯৩ সালে এটি বন্ধের নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। মামলায় চূড়ান্ত রায় না আসায় ২৪ বছর ধরে কারখানাটি বন্ধ থাকে। এরপর সরকারের বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুর উদ্যোগের আওতায় হাইকোর্ট থেকে কারখানা চালুর জন্য আগের মালিকদের বারবার নির্দেশনা দেয়া হলেও তারা ব্যর্থ হন।

পরবর্তী সময়ে বিএসইসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসাপেক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটি চালুর আদেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে ২০১৬ সালের শুরুর দিকে কারখানাটি চালুর উদ্যোগ নেয় বিএসইসি।

ঢাকা স্টিল ওয়ার্কসের এমডি মনিরুজ্জামান খান বলেন, দেশের রডের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প খাতকে শক্তিশালী করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০১৬ সালে ঢাকা স্টিল চালুর উদ্যোগ নেয় বিএসইসি। এরই মধ্যে কারখানা সংস্কার, পানি-বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগসহ আনুষ্ঠানিক অন্যান্য কাজও শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বল্প পরিসরে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে বছরে দেড় লাখ টন রড উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। দেশে রডের চাহিদা ভালো থাকায় বিএসইসির অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো এটিও মুনাফায় থাকবে বলে আমরা আশা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here