শ্যামল রায়ঃ  সম্প্রতি বড় ধরনের একটা কারেকশনের পর বাজার আবারও উর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে, এটা অবশ্যই পজিটিভ সাইন। আমাদের একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, বাজারে এখন অনেকগুলো ফ্যাক্টর একসাথে কাজ করে, চাইলেই যে কেউ সহজেই মার্কেট ম্যানুপুলেশন করতে পারবে না।

কয়েকদিনের দরপতনে অনেকের মনে হয়ত একটু ভীতির সঞ্চার হয়েছে, তবে তাদের একটা বিষয় আমি স্মরন করিয়ে দিতে চাই। এখন এপ্রিল মাস। অনেক গুলো কোম্পানীর ডিভিডেন্ট ইতিমধ্যে এসে গেছে। আর কিছু আসার অপেক্ষায়। তাই মার্কেট তো একটু পড়বেই।

অতীতেও আমি বরাবরে লক্ষ্য করেছি, এই সময়টায় মার্কেট একটু পরে যায়- বলেছিলেন বলেছিলেন শেয়ার বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগ করছেন, এমন একজন বিনিয়োগকারী শাহ্‌ মোহাম্মদ আশিক। শেয়ার মার্কেটের সার্বিক বিষয় নিয়ে স্টক বাংলাদেশকে জানালেন তার বিনিয়োগ ভাবনার কথা।

শেয়ার মার্কেটের সাথে আমি জড়িত ২০০৭ সাল থেকে। লংকা বাংলা এবং আল আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজে আমি ট্রেড করছি দীর্ঘদিন ধরে। প্রথম দিকে হয়ত অতটা বুঝে ট্রেড করতাম না। পরে যখন বুঝলাম এই মার্কেটে না বুঝে শুনে বিনিয়োগ করাটা একেবারেই বোকামি তখন  থেকে মার্কেট নিয়ে জানার আগ্রাহ আমার বেড়ে যায়। প্রথম দিকে উইকিপিডিয়া, ইনভেষ্টোপিডিয়া বা এই রকম বিভিন্ন উৎস থেকে জানার চেষ্টা করতাম। কিন্তু সব কিছু বুঝে উঠতে পারতাম না। পরে স্টক বাংলাদেশের টেকনিক্যাল এনালাইসিস আমার জানার দরজা খুলে দেয়। এটা আমাকে যে কতভাবে সমৃদ্ধ করেছে তা বলে বুঝাতে পারবনা।

এখন আমি হুজুগে বিনিয়োগ একদম করিনা। একটা স্টক কেনার আগে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে এনালাইসিস করে তারপর কেনার চেষ্টা করি।  এই ক্ষেত্রে ফান্ডামেন্টাল এবং মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর শেয়ার গুলো আমার প্রথম পছন্দ। কেনার আগে অবশ্যই কোম্পানীর ইপিএস, পিইরেশিও, ন্যাভ, শেয়ারটা  কোন ক্যাটাগরির এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নেই। সবগুলো বিষয় একমত হলে তারপর ঐ স্টকটি আমি চুজ করি।

বাজারে এতগুলো কোম্পানীর শেয়ার আছে। একই সাথে সবগুলোর শেয়ার উঠা নামা করেনা। একটা বিষয়ে আমি বরাবরই এলার্ট কখনই স্ক্রীনের দাম দেখে শেয়ার বাই করিনা। অনেকেই বলে থাকেন। দাম কমছে এখনই শেয়ারটা কিনে ফেলুন। আমার স্ট্রাটেজি তা বলে না। দাম কমলেই কিনতে হবে এমন ভাবনাটা কেন? অনেকগুলো কারনেই একটি শেয়ারের দাম কমতে পারে। দাম কমার নির্দিষ্ট কারনটা জেনেই তবেই আমি ঐ শেয়ারটি বাই করতে পারি।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেকটা বিষয় আমাদের খেয়াল রাখা উচিৎ কোন স্টক থেকে কত পার্সেন্ট প্রফিট আমি নিতে চাই কিংবা কত পার্সেন্ট লস হলে শেয়ারটা আমি ছেড়ে দেব এটার টার্গেট আগেই সেট করা উচিত। অতি মুনাফার লোভে প্রলুব্ধ যেন আমরা না হয়ে যায়। কারণ এই লোভে পরেই বিনিয়োগকারীদের সর্বনাশ হয়ে যায়। মুনাফার দিকে যতটানা বেশি নজর দিব তার চাইতে লস যাতে কম হয় সেই দিকটাই বেশি করে খেয়াল করব। তাহলে লাভ একসময় হবেই।

বিসেক, ডিএসই, সিএসই এর দেখভাল নিয়ে আমার কোন কমপ্লেইন নেই। তারা সাধ্যমত চেষ্টা করছে। কিন্তু তারপরও কিছু দুষ্ট চক্র বিভিন্নভাবে সক্রিয় রয়েছে। আমাদের উচিত তাদের সম্পর্কে সচেতন থাকা। মাঝে মাঝেই শোনা যায়, বিভিন্ন সেনসেটিভ ইনফরমেশন লিকড হয়ে যাচ্ছে। তা যাতে না হয় বিসেক এর সারভিলেন্স টিমে সেদিকটা খেয়াল করা অত্যান্ত জরুরী। আর আমাদের ও উচিত রিউমারে কান না দেওয়া। বাজারে সবসময় অনেকগুলো রিউমার থাকে কিন্তু আমাদের উচিত তা সত্য মিথ্যা যাচাই করে গ্রহন বা বর্জন করা।

এই মুহুর্তে বাজারে বড় পেইডআপ ক্যাপিটাল যে সমস্ত কোম্পানীর শেয়ার খুব বেশি মুভ করছে না আমার বিশ্বাস এগুলো ভালো করবে। কেনার সাথে সাথেই দাম বাড়বে এমনটি না ভেবে কিছুটা সময় আমাদের অপেক্ষা করা উচিত। কমপক্ষে ৬০-৯০ দিন। আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গীও বদলাতে হবে।

আমাদের শেয়ার বাজারে ব্যাংকগুলোর একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। দেখা যায় ব্যাংক বাড়লে ইনডেক্স উর্দ্ধমুখী হয়। আবার ব্যাংক পড়লে ইনডেক্স ধরে রাখা খুব টাফ হয়ে যায়। এর কারণ হলো ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা অনেক। এসেক্টরের ম্যাক্সিমাম কোম্পানীর ই পি এস, পিইরেশিও অনেক  ভালো। তাই এই সেক্টরের মুভমেন্টের উপর সূচকের ওঠানামা অনেকটা নির্ভর করে।

শেয়ার বাজারে টেকনিক্যাল  এনালাইসিসের গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই বলে থাকেন টেকনিক্যাল এনালাইসিস বাংলাদেশ মার্কেটের জন্য খুব একটা কাজ করে না। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি হয় তারা এনালাইসিসটা খুব ভালো বোঝেননা। কিংবা বুঝেও লোভে পড়ে রুলসগুলো মানেন না। শেষে গিয়ে ধরা খান আর ব্লেইম করেন। কিন্তু আমার অবজার্ভেশন হলো এনালাইসিস একজন বিনিয়োগকারীকে আত্মবিশ্বাস এনে দেই আর এনালিসিস সবগুলো নিয়ম ফলো করলে তার লাভ কম হোক অন্ততঃ লস হবে না, এইটুকু গ্যারান্টি আমি দিতে পারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here