দর সংশোধন, তবুও বহুজাতিকে সম্ভবনা

0
621
বিশেষ প্রতিনিধি : বেশি লভ্যাংশ প্রদান ও করপোরেট ঘোষণার প্রভাবে সম্প্রতি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তবে সপ্তাহের শেষ দিনে বহুজাতিক বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর সংশোধন হয়। তুবও চলতি সপ্তাহে সম্ভবনার আলো দেখতে পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
অন্যদিকে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি ঘিরে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। লভ্যাংশ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং কোম্পানি একীভূত হওয়ার সংবাদে সাম্প্রতিক সময়ে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোয় বিদেশীদের পাশাপাশি স্থানীয়দের বিনিয়োগও বেড়েছে। বিশ্বে সিমেন্ট খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি হোলসিম ও লাফার্জের একীভূতকরণ হওয়ার সংবাদে লাফার্জ সুরমার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হয়। যা আগামীতে আরো সম্ভবনার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে বহুজাতিক ও বড় মূলধনি কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল বেশি। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও সম্প্রতি বাজারে শেয়ার কেনা বাড়িয়েছেন। তাদের ঝোঁকও বহুজাতিক কোম্পানি ঘিরে।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনে ব্রড ইনডেক্স কমলেও নির্বাচিত সূচক বেড়েছে। আগের সপ্তাহের চেয়ে লেনদেনেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে গেল সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩১ দশমিক ৬৩ শতাংশ ছিল শীর্ষ ৫ কোম্পানির। দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব ধরনের সূচক কমে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, আগের বছরের চেয়ে এবার বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করায় কিছুদিন ধরে বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশী বিনিয়োগকারীর আগ্রহের কারণে গত এক বছরে এসব শেয়ারের অধিকাংশের দর দু-তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এদিকে চাহিদা বাড়তে থাকায় এরই মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ার যৌক্তিক মূল্যের চেয়ে বেশি দরে কেনাবেচা হয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা দেশীয় মৌলভিত্তির কোম্পানির দিকে ঝুঁকছেন।
আর আগের বছরের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ প্রদান এবং করপোরেট ঘোষণার প্রভাবে সম্প্রতি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে এ ধরনের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর সংশোধন হয়।
গেল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইএক্স সূচক কমে ৩২ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট, এদিন লেনদেন হয় ৪৬১ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ। পরের কার্যদিবস সূচক বাড়ে ১৯ দশমিক ৫ পয়েন্ট, লেনদেন হয় ৫০৫ কোটি টাকার। মঙ্গলবার সূচক কমে ২১ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট এবং লেনদেন হয় ৬২৭ কোটি টাকার। বুধবার সূচক বাড়ে ৭ দশমিক ৪২ পয়েন্ট এবং লেনদেন হয় ৫৩৭ কোটি টাকা। শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সূচক কমে ১ দশমিক ৬ পয়েন্ট এবং লেনদেন হয় ৪২১ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে ৩০১টি কোম্পানির মোট ৩৮ কোটি ৭৮ লাখ ৯৮০টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়; যার বাজারদর ছিল ২ হাজর ৫৫১ কোটি ৭১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৭টির, কমেছে ২৩১টির, ও অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির দর।
ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৮ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫৯২ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৭৫ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে। সিএসইতে গেল সপ্তাহে ২৫২টি কোম্পানির মোট ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজার সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ২১০ কোটি ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ১৯৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৮টির দর।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলো হলো— গ্রামীণফোন, লাফার্জ সুরমা, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, পদ্মা অয়েল, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার ফার্মা, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল ও যমুনা অয়েল।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলো হলো— হাইডেলবার্গ, রেকিট বেনকিজার, এবি ব্যাংক, গ্রামীণফোন, গোল্ডেন সন, আইসিবি এএমসিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, বাটা সু, রেনাটা, গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন ও ম্যারিকো বাংলাদেশ।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর হ্রাস পাওয়া কোম্পানিগুলো হলো— নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, রহিমা ফুড, মার্কন্টাইল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, মাইডাস ফিন্যান্স, নর্দার্ন জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স ও রূপালী ইন্স্যুরেন্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here