দক্ষ প্রফেশনাল ও বিনিয়োগকারী তৈরি করছে বিআইসিএম

0
433

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পুঁজিবাজারে আগ্রহী করে তুলতে ‘ইনভেস্টমায়েস্ত্রোজ’ নামের একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম)। সাক্ষাত্কারে সম্প্রতি প্রতিযোগিতার নানা দিক তুলে ধরেছেন বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট আবদুল হান্নান জোয়ার্দার।

বিআইসিএমের দায়িত্ব নেয়ার আগে এক দশক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের এ এমবিএ। আলোচনায় উঠে আসে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিনিয়োগ শিক্ষা ও স্কিলের গুরুত্ব। জানিয়েছেন নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও ভূমিকা সম্পর্কেও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন –মাহফুজ উল্লাহ বাবু, ছবি: কে. কে. নয়ন

  • আমাদের পুঁজিবাজারটি অর্থনীতির সঙ্গে এগোয়নি। আপনি কী মনে করেন এবং কেন?

একটি ইন্টারেস্টিং পরিসংখ্যান দিয়ে শুরু করি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পিউ রিসার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৮০ শতাংশের বেশি তরুণ মুক্তবাজার অর্থনীতি চায়। এ হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। এ তরুণরা এমন একটি অর্থনীতির কথা বলছে, যেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারের অংশগ্রহণ কম থাকে। বেসরকারি খাতই হয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি।

পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে উদ্যোক্তাদের শুধু নিজের মূলধন ব্যবহার করলেই চলে না। প্রবৃদ্ধির জন্য, ইকোনমি অব স্কেল অর্জনের জন্য তাদের বাড়তি মূলধন দরকার হয়। সারা বিশ্বেই দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থানের জন্য সবচেয়ে ভালো উৎস হলো পুঁজিবাজার। এ কারণে উন্নত অর্থনীতিগুলোর জিডিপি টু মার্কেট ক্যাপিটাল রেশিও দেখবেন অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের এখানে বিষয়টি উল্টো। এখানে জিডিপির বিপরীতে বাজার মূলধন খুবই কম। পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলনের প্রবণতাও কম। পাবলিক অফার থেকে উদ্যোক্তারা প্রতি বছর যে পরিমাণ মূলধন সংগ্রহ করেন, সেটি একেকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের চেয়েও কম।

এর কারণ ও উত্তরণ নিয়ে অনেক কথা হয়। আমি কারণগুলোকে সব স্টেকহোল্ডারের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি। প্রথমে আসবে উদ্যোক্তাদের কথা। যিনি পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলন করতে চাইছেন, তিনিই অনেক সময় যথেষ্ট ভরসা করতে পারছেন না। কেউ মনে করতে পারেন, এ বাজার ছোট, এখান থেকে এত মূলধন উত্তোলন করা কঠিন।

অনেকে হয়তো ভাবছেন, ইন্টারমিডিয়ারিরা যথেষ্ট দক্ষ না। তারা কোম্পানির ব্যবসায়িক অবস্থা ও সম্ভাবনার বিপরীতে যথেষ্ট প্রিমিয়াম এনে দিতে পারবে না। এছাড়া প্রায় সবাই ভাবেন, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে আমার ১৫-২০ দিন লাগবে। কিন্তু আইপিওর তহবিল হাতে আসতে বছর পেরিয়ে যাবে। আবার অনেকের হয়তো আশঙ্কা থাকে, আমাদের যে ট্র্যাক রেকর্ড তাতে বিনিয়োগকারীরা আমাদের ওপর কতটা আস্থা রাখবেন?

বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, তাদের কাছে অনেক উদ্যোক্তার বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। দক্ষতা ও সুশাসনের ট্র্যাক রেকর্ড সব উদ্যোক্তার সমান নয়। বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পান, সেটির ওপরও তাদের যথেষ্ট আস্থা থাকে না। নিরীক্ষকের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়েও তাদের মনে প্রশ্ন থাকে। তার ওপর এ প্রতিবেদন পড়ে, সেখান থেকে তথ্য বের করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে সেগুলো কাজে লাগানোর সক্ষমতাও আমাদের খুব কম বিনিয়োগকারীরই আছে। এ বাজারটি রিটেইল ইনভেস্টর ড্রিভেন, যাদের ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসিতে মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে।

এখানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তহবিলও যথেষ্ট বড় নয়। আবার সব প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট স্কিলড ফান্ড ম্যানেজার নেই। মার্চেন্ট ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে যে ফান্ড রয়েছে, তার একটি অংশ আবার গ্রাহকদের কথায় কেনাবেচা হয়। এগুলো কিন্তু বাজারের আচরণ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখে। আবার যে প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে যথেষ্ট ফান্ড রয়েছে, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ভালো ফান্ড ম্যানেজার রয়েছে, তারা দেখে বিনিয়োগযোগ্য সিকিউরিটিজের সংখ্যা খুব বেশি না।

তারপর আসি শেয়ারগুলো যেখানে লেনদেন হয়, সেখানকার অবস্থা সম্পর্কে। স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি, সেটলমেন্ট— এ তিনের মধ্যে সমন্বিত একটি রিয়েল টাইম গ্রস সেটলমেন্ট ব্যবস্থা চালু হয়নি। স্টক এক্সচেঞ্জ এখনো কাউন্টারপার্টি সেটলমেন্ট করছে, যা তার কাজ না। স্লো সেটলমেন্ট সাইকেলের কারণে এখানকার বাজারে যথেষ্ট লেনদেন হয় না, যা লিকুইডিটি কমিয়ে দেয়।

আরেকটি দুর্বলতা প্রডাক্ট ডাইভারসিটিতে। আমরা এখনো পুরোপুরি ইকুইটিনির্ভর পুঁজিবাজার নিয়ে এগোচ্ছি। এটি বিনিয়োগকারী, ইন্টারমিডিয়ারি, ইস্যুয়ার কারো জন্যই ভালো নয়। মাছ বাজারের কথাই চিন্তা করুন না। আপনি কারওয়ান বাজারের মতো একটি বড় বাজারে গেলে সব ধরনের মাছ পাবেন, একই প্রজাতির বিভিন্ন ওজনের মাছ সেখানে পাওয়া যাবে। কিন্তু একটি ছোট বাজারে আপনার হাতে অপশন খুব কম। বড় বাজারে ক্রেতা, বিক্রেতা, বাজার কর্তৃপক্ষ সবারই স্বাচ্ছন্দ্য ও সক্রিয়তা বেশি। আমাদের পুঁজিবাজারে ইকুইটি, বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে। বন্ডের লেনদেন নেই বললেই চলে।

মিউচুয়াল ফান্ড নিয়েও অনেক বিনিয়োগকারী হতাশ। এ তিন প্রডাক্টের বাজারকে সক্রিয় করার পাশাপাশি এখানে ইটিএফ, কমোডিটি, ডেরিভেটিভ চালু হয়ে গেলে দেখবেন বাজার অনেক এগিয়ে গেছে। এরপর আসবে পুঁজিবাজারের আন্তর্জাতিক সংযুক্তির কথা। আমাদের বাজারে বিদেশীরা কেনাবেচা করবেন, আমরা তাদের বাজারে লেনদেন করব। এগুলো হলে পুঁজিপ্রবাহ অনেক বাড়বে। এজন্য কারেন্সি কনভার্টেবিলিটি দরকার হবে।

আশা করছি, এর সবই হয়ে যাবে। স্টেকহোল্ডাররা এসবের উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু দেখতে পাচ্ছি, সমস্যা হিসেবে থেকে যাচ্ছে, বিনিয়োগ সম্পর্কিত জ্ঞান আর স্কিলের ঘাটতি। সাড়ে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে হলে বিনিয়োগকারী, ইন্টারমিডিয়ারি, সেলফ রেগুলেটেড প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কারোরই বর্তমান নলেজ আর স্কিল লেভেলে পড়ে থাকলে চলবে না।

ধরুন, স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ডেরিভেটিভসহ অন্যান্য প্রডাক্ট চালু করল, আমাদের পুঁজিবাজারের আন্তর্জাতিক আদান-প্রদানও অনেক বেড়ে গেল। কিন্তু আমাদের ইন্ডাস্ট্রির মানুষগুলো জানলই না কীভাবে এসব প্রডাক্ট স্ট্রাকচারিং করতে হবে, কীভাবে এগুলো কেনাবেচার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রফেশনালদের স্কিল যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি বিনিয়োগকারীদের লিটারেসিতেও উন্নতি প্রয়োজন। এ কারণেই বিআইসিএমের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের জন্ম।

  • বিআইসিএম প্রতিষ্ঠার এক দশক পূর্ণ হলো। কেমন চলছে আপনার প্রতিষ্ঠান?

বিআইসিএম ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও কার্যত এর যাত্রা ২০১০ সালের শেষ দিকে। প্রথম রিক্রুটমেন্ট হয় ২০১৪ সালে। প্রথম দুই বছর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে মূলত আমরা পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছি।

বিনিয়োগ শিক্ষার বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা ও নিঃশর্ত সমর্থনের কারণে বিআইসিএম এখন একটি স্ট্রাকচার্ড প্রতিষ্ঠান। সরকারের রাজস্ব বাজেটের আওতায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। বিআইসিএমের ৩০ কোটি টাকার এনডোমেন্ট ফান্ড গঠন হয়েছে। সরকার এরই মধ্যে এখানে ২০ কোটি টাকা দিয়েছে। আমাদের শিক্ষকরা এখন উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। ফিরে এসে ক্লাস নিচ্ছেন। আগামীতে শিক্ষকের সংখ্যাও আরো বাড়বে।

বিআইসিএম অবকাঠামোগত সক্ষমতায়ও এগিয়েছে। ইনস্টিটিউটে একসঙ্গে ৩০০ শিক্ষার্থী বা প্রশিক্ষণার্থী ক্লাস করতে পারেন। আমাদের লাইব্রেরিটিতে ১২ হাজারের বেশি বইয়ের সম্ভার হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোও ভালো। আমরা দূরশিক্ষণ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছি, যার আওতায় চট্টগ্রামের প্রশিক্ষণার্থীরা ইন্টারেক্টিভ বেসিসে ঢাকা থেকে পরিচালিত ক্লাসগুলোয় অংশ নিতে পারছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই কর্মসূচির সহযোগিতায় আমরা ই-লার্নিং মডিউল ডেভেলপ করেছি, যেটি আগামী মাসে চালু হবে।

  • এখানকার শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীরা কতটা উপকৃত হচ্ছেন? কোর্সগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বলবেন…

তিন ধরনের কোর্স আমরা অফার করছি। একটি দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স, যেখানে মূলত ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের বাজার সম্পর্কে কিছু মৌলিক ধারণা দেয়া হয়। হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এ কোর্স করে উপকৃত হচ্ছেন।

খুব অল্প পরিসরের এ সুযোগে আমরা পুঁজিবাজার সম্পর্কে মৌলিক ধারণাগুলো দিয়ে তাদের বলার চেষ্টা করি আপনি নিজের কষ্টার্জিত টাকায় কোম্পানির শেয়ার কিনছেন। অর্থাৎ আপনি কোম্পানিটির মালিকানার অংশ কিনছেন। ভবনের একটি ইট না বা কোম্পানির একটি চেয়ার কিংবা টেবিল না। আগে তো একটি শেয়ার সার্টিফিকেট হাতে আসত। এখন সেটিও প্রয়োজন হয় না। তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন, যে কোম্পানির শেয়ার কিনছেন, সেটির কার্যক্রম আছে কিনা।

থাকলে তারা কী পণ্য বা সেবার ব্যবসা করে। সেগুলোর চাহিদা কেমন। উদ্যোক্তারা সৎ ও দক্ষ কিনা। সেখানে ভালো কর্মকর্তারা কাজ করেন কিনা। কোম্পানির ব্যবসা কি বাড়ছে, মুনাফা কি বাড়ছে, তারা কি আপনাকে লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা ও মানসিকতা রাখে?

আমরা বিনিয়োগকারীদের বলার চেষ্টা করি, আপনি বাজার থেকে হয় যৌক্তিক দামে কোম্পানিটির অ্যাসেট কিনবেন অথবা অ্যাসেট ভ্যালুর চেয়ে বেশি দামে ভবিষ্যতের আয়প্রবাহ কিনবেন। হিসাব-নিকাশ না করে কিনলে লোকসান হতে পারে। আবার ভালো কোম্পানির শেয়ার যদি অস্বাভাবিক উচ্চদামে কেনেন, তাহলেও লোকসান হতে পারে।

স্বর্ণ খুব মূল্যবান জিনিস, ভালো জিনিস। কিন্তু এর যৌক্তিক বাজারমূল্য বলেও একটি বিষয় রয়েছে। প্রতি আউন্স হাজার-বারোশ ডলার দামের স্বর্ণ যদি আপনি দেড় হাজার বা দুই হাজার ডলারে কিনে ফেলেন, আপনি জিতলেন না ঠকলেন? বিকল্প বিনিয়োগক্ষেত্রগুলোয় কী হারে মুনাফা হতে পারে বা পারত সেটিও মাথায় রাখার কথা আমরা বলি।

বিনামূল্যে দেয়া একদিনের এ প্রশিক্ষণ কোর্সটিতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। আর্থিক প্রতিবেদন পাঠ, বিভিন্ন রেশিও বিশ্লেষণ, মৌলভিত্তি ও বাজারদরের নানা দিকের মৌলিক লেসনগুলো সেখানে থাকে।

দ্বিতীয় যে কোর্সটি অফার করছি, সেটি হলো এক-ছয় সপ্তাহের সার্টিফিকেট কোর্স। সেখানে এ বিষয়গুলোর আরো খুঁটিনাটি শেখানো হয়। পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইন্টারমিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের যে কর্মকর্তারা গ্রাহকসেবার সঙ্গে যুক্ত, তারাই এখানে বেশি অংশ নিচ্ছেন। আরেকটু বিশদভাবে শিখে তারা প্রতিদিনের কাজে এগুলোর প্রয়োগ করছেন, তাদের গ্রাহকরা বেটার সেবা পাচ্ছেন, প্রতিষ্ঠানও লাভবান হচ্ছে।

তৃতীয় প্রোগ্রামটি, দীর্ঘমেয়াদি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ক্যাপিটাল মার্কেট। ইন্টারমিডিয়ারিগুলোর ম্যানেজমেন্ট লেভেলে কিংবা বিশ্লেষণী কাজে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা বা স্টক এক্সচেঞ্জের মতো সেলফ রেগুলেটেড প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা এ কোর্স থেকে লাভবান হচ্ছেন।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ বা মাস্টার্স প্রোগ্রামের সঙ্গে পিজিডি প্রোগ্রামটির পার্থক্য কোথায়?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের একাডেমিক পরিসরে অনেক কিছু পড়াচ্ছে। সেখান থেকে অনেক ভালো ছাত্রছাত্রী উঠে আসছেন, যারা পেশাজীবনে সাফল্যের সাক্ষর রাখছেন। তবে ইন্ডাস্ট্রিগুলো বরাবরই অ্যাপ্লায়েড ডিসিপ্লিনকে প্রাধান্য দেয়। বিশেষায়িত কর্মক্ষেত্র হওয়ায় পুঁজিবাজারের জন্যও অ্যাপ্লায়েড প্রফেশনাল কোর্সই বেশি উপযোগী।

একটি উদাহরণ দিই। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স বা এমবিএ প্রোগ্রামে আপনি ফিন্যান্স কিংবা অ্যাকাউন্টিং মেজর করলে আপনি সেগুলো খুব ভালোমতোই শিখবেন। তবে পুঁজিবাজারের ইন্টারমিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভালো করতে হলে আপনাকে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনকানুনগুলো ভালোমতো জানতে হবে, রেগুলেটরি বিষয়াদি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে, রিস্ক ম্যানেজমেন্টসহ অন্যান্য টেকনিক্যাল বিষয়েও সাউন্ড হতে হবে, সর্বোপরি কমিউনিকেশন স্কিলেও এগিয়ে থাকতে হবে। আমরা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রোগ্রামটি ডিজাইন করার সময় প্রায়োগিক দিকগুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছি। সমন্বিত জ্ঞান ও স্কিলের জন্যই এ ধরনের প্রোগ্রাম।

  • বিআইসিএমের এই অফার সম্পর্কে দেশের তরুণ স্নাতকরা কতটা জানেন?

যারা আগ্রহী, তারা জানেন। তবে ব্যাপকভাবে সব স্নাতকের কাছে আমরা এখনো আমাদের অফারগুলো পৌঁছে দিতে পারিনি। এতদিন আমরা নিজেদের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর্যায়ে ছিলাম। এখন একটি ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে যাওয়ায় আমরা আরো মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারব। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ইনপুট বাড়বে, আমাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মানও উন্নত হতে থাকবে।

সান্ধ্যকালীন পিজিডি কোর্সে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন। কিন্তু দিনে পাঠদান হয় যে প্রোগ্রামটিতে, সেখানে আসন ফাঁকা থাকে। আপনাদের মাধ্যমে আমি তরুণ স্নাতকদের জানাতে চাই, ৪০ হাজার টাকারও কম টিউশন ফি দিয়ে সরকার পরিচালিত বিআইসিএমে এক বছর মেয়াদি পিজিডি প্রোগ্রাম সত্যিই একটি ইউনিক অফার। প্রতি ক্রেডিটের জন্য ১ হাজার টাকার মতো ফি নিচ্ছি আমরা, দেশের যেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ প্রোগ্রামে ক্রেডিটপ্রতি এর অন্তত দশ গুণ ফি দিতে হয়।

  • বিআইসিএম ‘ইনভেস্টমায়েস্ত্রোজ’ নামের একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে বেশ আলাপ-আলোচনা চলছে। বিস্তারিত জানাবেন?

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুঁজিবাজার সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আমরা ইনভেস্টমায়েস্ত্রোজ আয়োজন করছি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এ উদ্যোগে আমাদের অংশীদার হয়েছে। আমরা চাই, যথাযথ শিক্ষা আর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণরা আগামীর পুঁজিবাজারে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করুক। এতে বিআইসিএম সম্পর্কেও মানুষ আরো বেশি জানবে।

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিষয়ে অধ্যয়নরতরা তিন-চারজনের একেকটি টিম করে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। এক প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক টিম নিবন্ধন করতে পারবে। ইনভেস্টমায়েস্ত্রোজের জন্য আমরা একটি ওয়েবসাইট ডেভেলপ করেছি, যার ডোমেইন www.investmaestros.com. নির্ধারিত ০১৭৪৬৫১৫৭৫৫ নম্বরে ৫০০ টাকা বিকাশ করে এ ঠিকানায় গিয়ে টিম রেজিস্ট্রেশন করা যাবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। ওয়েবসাইটে প্রতিযোগিতার বিস্তারিত নিয়মাবলি নিবন্ধনের সময়ই জানা যাবে। প্রথম ধাপে সম্পন্ন হওয়া অনলাইন পর্বে বিজয়ী ৩২টি দল সেমিফাইনাল রাউন্ডে উত্তীর্ণ হবে।

টিমগুলো বিআইসিএমে অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেবে। তাদের জন্য কর্মশালার আয়োজন করা হবে। তাদের বিশ্লেষণ, কেস প্রেজেন্টেশন দেখবেন বিচারকরা। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আটটি টিমকে ফাইনালে পাঠানো হবে। ফাইনালে বিজয়ী দল ১ লাখ টাকা প্রাইজমানি পাবে এবং এর সদস্যরা বিআইসিএমে ইন্টার্নশিপ ও ফ্রি সার্টিফিকেট কোর্স করার সুযোগ পাবেন। প্রথম রানারআপ টিম পাবে ৫০ হাজার এবং দ্বিতীয় রানারআপ টিম পাবে ৩০ হাজার টাকার প্রাইজমানি। সেমিফাইনাল রাউন্ডে যে টিমগুলো ঢাকার বাইরে থেকে বিআইসিএমে আসবে, তাদের যাতায়াত খরচ আয়োজকরা বহন করবেন। ১৬ অক্টোবর পুরস্কার বিতরণী ও গালা ডিনার অনুষ্ঠিত হবে।

আমি বলব, তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি চমত্কার ওরিয়েন্টেশন অফার করছে ইনভেস্টমায়েস্ত্রোজ। সারা বিশ্বেই এ ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক মেধাবী তরুণ উঠে আসেন। ক্রিকেট, গান, রন্ধনশিল্প, পারফর্মিং আর্টে এর অনেক ভালো উদাহরণ রয়েছে।

  • বিআইসিএমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাবেন…

বিআইসিএমের মূল উদ্যোক্তা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের ১০ বছর মেয়াদি যে উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে বিনিয়োগ শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বাস্তবায়নে বিআইসিএম কাজ করে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউটের শুরু থেকেই বিএসইসি অত্যন্ত সাপোর্টিভ রোল প্লে করে আসছে। কমিশন চেয়ারম্যান বিআইসিএমেরও পর্ষদ চেয়ারম্যান। বিএসইসির দুজন কমিশনার এবং একজন নির্বাহী পরিচালক আমাদের পর্ষদ সদস্য। পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডার ও একাডেমিক স্কলারদের বাইরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুজন সচিবও আমাদের পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত। সবার সমর্থন থাকায় আমি বিআইসিএম গঠনের উদ্দেশ্য পূরণ নিয়ে খুবই আশাবাদী।

পুঁজিবাজারের জন্য দক্ষ প্রফেশনাল ও বিনিয়োগকারী তৈরি করছে বিআইসিএম। আগামীতে এ কাজটিই আরো বেগবান করতে চাই আমরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যাফিলিয়েশনে যেতে পারলে আগামীতে আমরা অ্যাপ্লায়েড ফিন্যান্সে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু করতে চাই। এ প্রোগ্রামটির মূল উদ্দেশ্য হবে ইটিএফ, ডেরিভেটিভ, ক্রসবর্ডার ট্রেডিংয়ের মতো অ্যাডভান্সড কাজগুলোর জন্য আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে দক্ষ প্রফেশনাল গড়ে তোলা।

আরেকটি বিষয় জানানো হয়নি, আমরা উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার সম্পর্কিত জাতীয় কর্মসূচির চর্চাগুলোও আত্মস্থ করছি। এ বিষয়গুলো পুঁজিবাজারের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here