থ্রিজি নিলামে আয় ৪ হাজার কোটি টাকা

0
263

btrc- 1স্টাফ রিপোর্টার : তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন প্রযুক্তির (থ্রিজি) জন্য সরকারের বরাদ্দ ৪০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের মধ্যে নিলামে বিক্রি হলো মাত্র ২৫ মেগাহার্টজ। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই তরঙ্গ নিলামের মাধ্যমে সরকার পেল ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

থ্রিজি প্রযুক্তির জন্য ২১০০ ব্যান্ডের মোট ৪০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতে প্রতিটি ব্লকে ৫ মেগাহার্টজ করে মোট ৮টি ব্লকের জন্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের (তরঙ্গ) ফ্লোর প্রাইস ২ কোটি মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হলেও নিলামে দাম ওঠে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর নিলাম শুরুর আগেই ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয় ৭৭.৭৫ টাকা।

নিলাম শেষে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস সাংবাদিকদের বলেন, দেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় তরঙ্গ নিলাম। এ নিলামের মাধ্যমে পাঁচটি তরঙ্গ ব্লক বিক্রির মাধ্যমে সরকারের আয় হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৮১ কোটি টাকা। তবে অবিক্রীত তিনটি ব্লক অর্থাৎ ১৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের বিষয়েও পরবর্তীতে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

রোববার রূপসী বাংলা হোটেলে আয়োজিত এই নিলামে প্রথম ফেজে ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনে নেয় দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। আর দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ মেগাহার্টজ করে তরঙ্গ কিনে নেয় মোবাইল ফোন অপারেটর রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক।

অপারেটরদের প্রথম কিস্তিতে সরকারের মোট পাওনা টাকার ৬০ শতাংশ দিতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। বাকি টাকা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে হবে উল্লেখ করে সুনীল কান্তি বোস বলেন, আগামী ৯ মাসের মধ্যে অপারেটরদের দেশের সব বিভাগে থ্রিজি সেবা চালু করতে হবে। অন্যথায় তাদের ৫০ কোটি টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে।

নিলাম অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নিলাম পরিচালনা করেন থ্রিজির পরামর্শক আবদুল্লাহ ফেরদৌস। নিলাম প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় দুটি ধাপে। প্রথম ধাপে ১০ মেগাহার্টজ এবং দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ মেগাহার্টজ। প্রথম ধাপে অংশ নেয় শুধু গ্রামীণফোন। আর দ্বিতীয় ধাপে অংশ নেয় মোবাইল ফোন অপারেটর রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক। এতে ৪ ও ৫ নম্বর ব্লক বরাদ্দ পায় গ্রামীণফোন। আর ৬ নম্বর ব্লক এয়ারটেল, ৭ নম্বর রবি এবং ৮ নম্বর ব্লকটি বরাদ্দ পায় বাংলালিংক।

নিলাম শেষে গ্রামীণফোনের সিইও বিবেক সুদ বলেন, আমরা থ্রিজি চালু করার জন্য স্পেকট্রাম লাভ করে আনন্দিত। যত দ্রুত সম্ভব গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালু করা হবে।

বাংলালিংকের সিইও জিয়াদ সাতারা বলেন, আজ একটি স্মরণীয় দিন। আমরা থ্রিজির লাইসেন্সের জন্য স্পেকট্রাম পাওয়ায় এখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। দেশের বাজারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রচলন ও ব্যবহারে বাংলালিংক সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

থ্রিজি লাইসেন্স নিয়েই অপারেটররা চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি (ফোরজি) এবং লং টার্ম ইভ্যুলেশন (এলটিই) প্রযুক্তির সেবাও দিতে পারবে। আর এসব সেবা দেয়ার জন্য অপারেটরদের নতুন করে আর কোনো লাইসেন্স নিতে হবে না।

ইতিমধ্যে থ্রিজির আবেদন ফি নেয়া হয়েছে ৫ লাখ টাকা। প্রতি মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের (তরঙ্গ) জন্য গত ২৯ আগস্ট বিটিআরসিতে প্রতিটি অপারেটর ফ্লোর প্রাইস হিসেবে দুই কোটি মার্কিন ডলার পে-অর্ডার আকারে আর্নেস্টমানি জমা দিয়েছে। এখন লাইসেন্স নিতে অপারেটরদের দিতে হবে আরও ১০ কোটি টাকা, আর বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৫ কোটি টাকা। ১৫ বছরের জন্য দেয়া হবে এ লাইসেন্স। পরবর্তী সময়ে প্রতি পাঁচ বছরের জন্য নবায়নের সুযোগ থাকবে।

গত ১৪ অক্টোবর থেকে টেলিটক পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে থ্রিজি সেবা। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ সেবা চালু করলেও প্রতি মেগাহার্টজ ২ কোটি ১০ লাখ ডলার জমা দিয়েই লাইসেন্স নিতে হবে। এদিকে আর্থিক সমস্যার কারণে নিলামে অংশ নিতে পারেনি দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here