ত্রিমূখী সম্ভাবনায় হাইডেলবার্গ সিমেন্ট

0
1241

রাহেল আহমেদ শানু : বহুমূখী সম্ভাবনার ভেতর দিয়ে আবর্তিত হচ্ছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিমেন্ট উৎপাদক কোম্পানি হাইডেলবার্গ। বহুজাতিক এসব কোম্পানি উন্নয়নমূখী দেশগুলোতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। তাই বিশ্বের উন্নয়নশীল অন্যদেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও উৎপাদন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনার মুখে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট।

বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনীতির ধারা অব্যহত থাকায় বিদেশি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাউথ এশিয়ান কান্ট্রিজ এসএমই সামিট পুরস্কারপ্রাপ্ত কোম্পানিটি ৮৬ কোটি টাকায় মেঘনা এনার্জি লিমিটেড অধিগ্রহণ করছে। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে ৯৩ কোটি টাকা বিনিয়োগে আরো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কারখানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে ইতালির সিমেন্ট কোম্পানি ইতালসিমেন্টি এস.পি.এ- এর ৪৫ শতাংশ শেয়ার কিনেছে জার্মান কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। বহুজাতিক কোম্পানিটির এতে বাংলাদেশে সম্ভাবনা আরো অনেক বাড়ছে।

মেঘনা এনার্জি লিমিটেড অধিগ্রহণ : হাইডেলবার্গ সিমেন্টকে ৮৬ কোটি টাকায় মেঘনা এনার্জি লিমিটেড অধিগ্রহণে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোম্পানিটির সরবরাহ করা এই তথ্য চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। অনুমোদনের পরে দুটি কোম্পানির কর্তৃপক্ষ শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অনেক দুর এগিয়ে নিয়েছে এবং শিগগিরই আসছে ঘোষণা।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহকারী বেসরকারি খাতের ছোট দেশি কোম্পানি মেঘনা এনার্জির ৯৯.৯৯ শতাংশ শেয়ার ৯১ কোটি সাত লাখ ৫০ হাজার ২২০ টাকায় কিনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অনুমোদন চেয়েছিল বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট।বাংলাদেশ ব্যাংক মেঘনা এনার্জির ৪০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৭টি শেয়ার (৯৯.৯৯ শতাংশ) অধিগ্রহণের জন্য ৮৬ কোটি ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬১০ টাকা বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়ে চিঠি দিয়েছে।

আর এই পাইকারি লেনদেন সম্পন্ন করতে এই টাকার মধ্য থেকে মাত্র ৫ কোটি ১০ হাজার ৫৮৯ টাকা হাইডেলবার্গ সিমেন্ট সেন্ট্রাল ইউরোপ ইস্ট হোল্ডিংস বিভি, নেদারল্যান্ডসের নন-রেসিডেন্ট ব্লকড টাকা অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরে কোম্পাটিকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে নতুন প্লান্টের উৎপাদন : উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কারখানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে বিদ্যমান প্লান্টের সঙ্গে একটি নতুন গ্রিডিং মিল স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় দেড় গুণে উন্নীত করবে কোম্পানিটি। নতুন কারখানা স্থাপনে প্রায় ৯৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট।

কাঁচপুর প্লাটে নতুন গ্রিডিং মিলটি স্থাপিত হলে কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতায় নতুন করে ৪ লাখ ৭২ হাজার টন পিসিসি সিমেন্ট যোগ হবে। বিদ্যমান কারখানায় বছরে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টন সিমেন্ট উৎপাদন করতে পারবে কোম্পানিটি। নতুন উদ্যোমে কারখানা সম্প্রসারণের কাজ গত বছরের অক্টোবর মাসে শুরু হয়েছে।

জানতে চাইলে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের কোম্পানি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিমেন্টের বিদ্যমান বাজার সম্প্রসারণের জন্যই নতুন কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় দেড় গুণে উন্নীত হবে। প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের বিষয়টি পরে জানানো হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯২ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ অর্থায়ন কোম্পানির নিজস্ব ফান্ড থেকে নির্বাহ করা হবে বলে জানিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। তবে নতুন প্রকল্পের উৎপাদন শুরুর সময়সীমা জানায়নি কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

ইতালির সিমেন্ট কোম্পানি ক্রয় : ইতালির সিমেন্ট কোম্পানি ইতালসিমেন্টি এস.পি.এ- এর ৪৫ শতাংশ শেয়ার কিনছে জার্মান কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে ২০১৬ সালের ৩০ মে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কমিশন হাইডেলবার্গকে অনুমোদন দিয়েছে।

ইইউ কমিশন জানায়, ইতালসিমেন্ট অধিগ্রহণের ব্যাপারে হাইডেলবার্গকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল। তাদের বলা হয়েছিল, মার্জ (একীভূত) হওয়ার পর বেলজিয়ামে এই কোম্পানির ব্যবসা আরও সুরক্ষা করতে হবে। হাইডেলবার্গ এই শর্ত মেনে নিয়েছে। হাইডেলবার্গ  বেলজিয়ামেও তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে।

ইইউ আরো জানায়, মার্জ হওয়ার পর সমন্বিত কোম্পানিকে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির সঙ্গে বেশি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে না। এর ফলে ইউরোপের বাজারে সিমেন্ট ও কনক্রিট পণ্যের দাম বাড়বে বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বেলজিয়ামে ইতালিসিমেন্টির ব্যবসা রক্ষায় হাইডেলবার্গ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাতে সে শঙ্কা কেটে যাবে।

ইতালসিমেন্টি ইতালিভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বে কোম্পানিটির অবস্থান ৫ম। বিশ্বে ২২টিরও বেশি দেশে কোম্পানিটির ব্যবসা রয়েছে। হাইডেলবার্গসিমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইতে এই অধিগ্রহণ চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। চুক্তির পর হাইডেলবার্গ হয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিমেন্ট উৎপাদক েপ্রতিষ্ঠান।

শেয়ার ধারণের চিত্র প্রকাশ

সিমেন্টর মান ভালো হওয়ায় চট্টগ্রামের মুরাদপুর-লালখান বাজার ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহার করা হয় রুবি সিমেন্ট। এ জন্য হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড (এইচসিবিএল) এবং ম্যাক্স-র‌্যাংকেন জয়েন্ট ভেঞ্চারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। 

হাইডেলবার্গ সিমেন্ট লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৬ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৬ টাকা ৬৯ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য হয়েছে ৯৮ টাকা ৯৬ পয়সা।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৫৬ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ৫০২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৬০ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ২৬ দশমিক ৭৩ প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশী ধারণ করা শেয়ার ১ দশমিক ৪৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here