তৈরী পোশাক শিল্পের উন্নয়নে ইইউ-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ

0
471

ইউরোপিয় ইউনিয়নের ট্রেড কমিশনার ক্যারেল ডি গুট

এস বি ডেস্ক: বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার, তৈরি পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ যৌথভাবে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে। গত এপ্রিলে সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসে ১১০০ এরও বেশী মানুষের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোগটি নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ।

জেনেভাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশী প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর এই উদ্যোগ সম্পর্কে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইইউ। ইইউকে তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্যে নতুন শ্রম আইন প্রণয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।
Rana Plaza-2

সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসে ১১০০ জনেরও বেশী মানুষ নিহত হবার পর বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং বিদেশী ক্রেতারাও বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক নিয়ে নানা সংশয় প্রকাশ করছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেড কমিশনার ক্যারেল ডি গুটের সাথে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করে।

Rana Plaza- 1  Rana- 3

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিসহ, বাংলাদেশের গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও-র পরিচালক গাই রাইডারও ঐ বৈঠকে ছিলেন।

বৈঠকের পর ইইউ ট্রেড কমিশনার মি. গুট একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উদ্যোগটিকে তারা বলছেন, সাসটেইনিবিলিটি কম্প্যাক্ট এবং এটি তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং একই সাথে তাদের প্রতি যেন দায়িত্বশীল আচরণ করা হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য।

মি. গুট বলেন, এই উদ্যোগটিকে ভিত্তি ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে যেন ভবিষ্যতে রানা প্লাজার মতো ট্র্যাজিডি এড়ানো সম্ভব হয়। এই উদ্যোগে বাংলাদেশও সম্মতি দিয়েছে এবং ইইউর কাছে তারা বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিও। উদ্যোগেটিকে ভিত্তি ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে যেন ভবিষ্যতে রানা প্লাজার মতো ট্র্যাজিডি এড়ানো সম্ভব হয়। এই উদ্যোগে বাংলাদেশও সম্মতি দিয়েছে এবং ইইউর কাছে তারা বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

ক্যারেল ডি গুট, ট্রেড কমিশনার, ইউরোপিয় ইউনিয়ন দিয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এসব প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য সময়সীমাও বেধে দেয়া হয়েছে।

Rana- 5প্রথমত, শ্রমিক অধিকারকে আরো শক্তিশালী করে শ্রম আইনের সংস্কার করা হবে । যাতে শ্রমিকেরা ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা পায় এবং একসাথে তারা তাদের চাহিদাগুলো তুলে ধরতে পারে। একইসাথে বাংলাদেশ ২০১৩ সালের মধ্যেই একটি নতুন শ্রম আইন তৈরি করবে । এবং এই আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কিনা সেটি পর্যবেক্ষণ করবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও।

দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতিটি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ আরো ২০০ জন পরিদর্শক নিয়োগ করবে, যারা নিয়মিতভাবে কারখানা পরিদর্শন করে সেখানকার কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেখানে শ্রম আইন সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করবেন।

তৃতীয়ত, ২০১৪ সালের জুন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে ভবনের নিরাপত্তা এবং অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন করবে। এক্ষেত্রে কারিগরি দিকগুলো সমন্বয়ের জন্য আইএলও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।

এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেড কমিশনার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ যদি শ্রমিকদের রক্ষা করার জন্য ব্যবস্থা না নিতে পারে তবে ইউরোপের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়বে।

রানা প্লাজাসহ গার্মেন্ট খাতে নানা বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে আগেই বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইইউর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আইন সংস্কারসহ যেসব প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ দিয়েছে, সেগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেধে দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার দিকে ইইউ কড়া নজর রাখবে এবং এরপরই তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ইউরোপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here