তুলার দাম বৃদ্ধির আভাস

0
361

এগ্রিমানি : সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকা সত্ত্বেও ২০১৭-১৮ মৌসুমে বিশ্ববাজারে দাম কমবে তুলার। ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি (আইসিএসি) তুলার বাজারদর সম্পর্কে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে।

আইসিএসির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ মৌসুমে বিশ্ববাজারে প্রতি পাউন্ড তুলা গড়ে ৭৩ সেন্টে বিক্রি হতে পারে। এর মধ্যে পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। চলতি মৌসুমে বিশ্ববাজারে প্রতি পাউন্ড তুলার গড় দাম ৭৮ সেন্ট নির্ধারণ করে সংস্থাটি। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে তুলার দাম কমতে পারে পাউন্ডে ৫ সেন্ট।

আইসিএসি জানিয়েছে, আগামী মৌসুমে বিশ্বে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টন তুলার সরবরাহ থাকতে পারে। এর বিপরীতে পণ্যটি ব্যবহার হতে পারে ২ কোটি ৪৪ লাখ টন, যা চলতি মৌসুমের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। ব্যবহারের তুলনায় সরবরাহ কম থাকা সত্ত্বেও পণ্যটির দাম কমতে পারে।

গড় দামের পূর্বাভাসটি বিশ্ববাজারে পণ্যটি নিয়ে বেশকিছু অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রফতানি ও আবাদ বৃদ্ধির তথ্য তুলার বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, আগামী মৌসুমে দেশটির ১ কোটি ২২ লাখ একরে তুলা আবাদ হবে, যা চলতি মৌসুমের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে তুলা আবাদ হতে পারে আরো বেশি, ১ কোটি ৩০ লাখ একরে।

আইসিএসি জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে তুলা উত্পাদন বেশ ভালো হয়েছে। দামও ভালো অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিরা তুলা আবাদ বাড়িয়েছেন। তবে আগামী মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে আবাদ বাড়লেও তুলা উত্পাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছে আইসিএসি। এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলছে, চলতি মৌসুমের তুলনায় আগামী মৌসুমে তুলার উৎপাদন আনুপাতিক হারে কমতে পারে। এ কারণে আবাদ বাড়লেও পণ্যটির উত্পাদন খুব বেশি বাড়বে না।

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মৌসুমে সব মিলিয়ে ৩৮ লাখ টন (১ কোটি ৭৫ লাখ বেল) তুলার উত্পাদন হতে পারে। পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে পণ্যটির উত্পাদন এ হারেই হচ্ছে।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, আগামী মৌসুমে অন্যতম শীর্ষ উত্পাদক যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭০ লাখ টন তুলার মজুদ থাকবে। ২০১৭-০৮ মৌসুমের পর দেশটিতে এটিই হতে পারে পণ্যটির সর্বোচ্চ মজুদ।

এদিকে নিউইয়র্কে বর্তমানে প্রতি পাউন্ড তুলা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ দশমিক ৫৯ সেন্টে। মে মাসে সরবরাহ চুক্তিতে আগের দিন পণ্যটির দাম এর তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ কম ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উত্পাদন তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত পণ্যটির দাম কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

অন্যদিকে আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি পাউন্ড তুলা বিক্রি হয়েছে ৭৩ দশমিক ৮১ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে পণ্যটির দাম কমেছে দশমিক ২ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here