তিন জেলার খামারিরা পাচ্ছেন দেশী মুরগির নতুন জাত

1
6313
এস বি ডেস্ক : দেশী জাতের গলাছিলা ও পাহাড়ি মুরগির উত্পাদনশীলতা বাড়াতে গবেষণা কার্যক্রমে সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)। মাঠপর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য টাঙ্গাইল, নওগাঁ ও দিনাজপুরের খামারিদের এসব জাতের মুরগি দেয়া হবে। মাঠপর্যায়ে সফলতার পর বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম শুরু হবে। নতুন উদ্ভাবিত মুরগি দেশী জাতের মুরগি থেকে তিন গুণ ডিম ও দ্বিগুণ মাংস উত্পাদন করতে সক্ষম হবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তরা আশা করছেন।

বিএলআরআই সূত্র জানায়, দেশের পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিজস্ব জাতের গলাছিলা মুরগি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতের মোরগ-মুরগির ওপর গত ২০০১ সাল থেকে গবেষণা চলছে। তবে ২০০৩ সাল থেকে মূলত মুরগির ওপর জোর দেয়া হয়। ২০১০ সালে প্রথম সফলতা আসে। সে সময়ে বিদেশী জাতের সঙ্গে ক্রস ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে শুভ্রা নামের একটি জাত উদ্ভাবন করা হয়। আর চলতি মাসে মুরগির উত্পাদনশীলতা নিয়ে সফল গবেষণা শেষ হয়েছে। বাছাইকৃত পদ্ধতি বা ধাপে ধাপে উন্নয়নের মাধ্যমে পাওয়া এ জাতটি টাঙ্গাইল, নওগাঁ ও দিনাজপুরে বাছাইকৃত খামারিকে ৫০০-১০০০ মুরগির বাচ্চা দেয়া হবে।
স্বল্প খরচে অধিক লাভ ও রোগবালাই প্রতিরোধী জাতগুলো খামারিরা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের আওতায় আনতে পারলে ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে জানান বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট গবেষক ড. মো. নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী করে পোলট্রিশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে দেশী জাতের উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার পর দেশের সব খামারিদের কাছে এসব জাতের মুরগি দ্রুত পৌঁছে দেয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গলাছিলা জাতের মুরগি গ্রামাঞ্চলে সাধারণত বছরে ৫০-৬০টি ডিম দিয়ে থাকে। বিএলআরআই গবেষণার মাধ্যমে জাতটির বছরে ডিমের পরিমাণ ১৫০টি পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। ডিমের ওজনও বেশি। আগে এসব মুরগি প্রথম ডিম দিতে বয়স লাগত ২২ সপ্তাহ। এখন তা ১৮ সপ্তাহে ডিম দেয়া শুরু করেছে। ডিমের ওজন বেশ ভালো। একইভাবে সফলতা এসেছে গ্রামাঞ্চলে দেশী জাতের মুরগির ক্ষেত্রেও। মুরগিগুলো বছরে ১৩০টি ডিম দিচ্ছে এবং ছয় মাস বয়স থেকেই ডিম দিচ্ছে। অন্যদিকে দেশের পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ি জাতের মুরগির জাত উন্নয়নে সফলতা এসেছে। পাহাড়ি মুরগি আগে সেখানে ৮ সপ্তাহে ৩৭০-৩৮০ গ্রাম ওজনের হতো, এখন তা ৬০০ গ্রাম ছাড়িয়েছে।
এ বিষয়ে বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট গবেষক শাকিলা ফারুক বলেন, ‘পাহাড়ি জাতের মোরগ-মুরগি দ্রুত বর্ধনশীল, যা মাংসের জন্য পালন অধিক লাভজনক হবে। বাজারে দেশী মুরগির যেমন ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, তেমনি দামও ভালো পাওয়া যায়।’

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here