তিন আইপিও ‘শুষে নিচ্ছে তরল মানি’

1
5853
শাহীনুর ইসলাম : মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দুটি প্রতিষ্ঠানের আইপিও আবেদন ৮নভেম্বর, রোববার থেকে শুরু হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ইনফেরমেশন টেকনলজি কনসালটেন্টস লিমিটেডের (আইটিসি) আবেদন এখনো শেষ হয়নি। ২ নভেম্বর শুরু হওয়া আইপিও চাঁদা উত্তোলনের সময়সীমা রয়েছে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত।
ইতোমধ্যে এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ও ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফিন্যান্স ফান্ডের রোববার থেকে আইপিও আবেদন শুরু হয়েছে। ফান্ড দুটির আবেদন চলবে আগামী ১৬ এবং ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত। দুটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার থেকে নেবে দু’শ কোটি টাকা।
মন্দার বাজারে ৩টি প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে ২১২কোটি ‘শুষে নিচ্ছে তরল মানি’। আইপিও প্রবাহ নিয়ে একথা বলেন বিডিবিএল সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী মাহফুজার রহমান। একসঙ্গে ৩টি আইপিও আগমনে অনেক মন্তব্য এবং বিনিয়োগকারী দেখছেন ভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গিতে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের মন্তব্যে সোহলে রানা লিখেছেন

‘Sohel Rana নভেম্বর ৭, ২০১৫ at ২:১১ অপরাহ্ন

2 tai ke mutual fund? tai jodi hoy taholay…….
Vul korao mutual fund a apply korbo na.’

মাহবুব লিখেছেন ‘mahbub নভেম্বর ৫, ২০১৫ at ৪:০৮ অপরাহ্ন

I CANT IMAGINE 3 IPO SAME TIME.. !!??? AND TOTALLY STUPIDITY AS A MUTUAL FUND TO LET THEM TAKE MONEY FROM PUBLIC. SHAME SHAME!! SO MANY BANK CANT PROFIT AS THEY ARE EXPECTED …. OK. LETS SEE WHATS DO THEY’
তৌফিক লিখেছেন,  ‘Tawfik নভেম্বর ৫, ২০১৫ at ৩:২৪ অপরাহ্ন
Small investors are not that stupid to burn their money in Mutual Funds. So both these Mutual Funds shall face very bad fate in IPO.’
রয়েছে আরো অনেকের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। তিনটি কোম্পানি শুষে নিচ্ছে পুঁজিবাজারের তরল টাকা।
এ সম্পর্কে বিএসএমএল ইনভেসমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. রিয়াদ মতিন বলেন, বিএসইসি বুঝে-শুনেই অনুমোদন দিয়েছে। কেননা আইপিও আসার প্রয়োজন রয়েছে। তবে বাজারে ১হাজার বা ১৫শ’ কোটি টাকার লেনদেন হলে কারও কথা ছিল না।
রিয়াদ মতিন বলেন, যারা আইপিওতে আবেদন করে, তারা সেকেন্ডারি মার্কেটে খুব একটা লেনদেন করেনা। যে কারণে এ নিয়ে বাজারে প্রভাব পড়বে না মনে করেন তিনি।
বাজার মন্দা পরিস্থিতিতে ‘একসঙ্গে দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অংশগ্রহণ ভালো দেখায় না। একটি হলে ভালো হতো’ বলেন এ এফ সি ক্যাপিট্যাল লিমিটেডের সিইও মাহবুব এম মজুমদার। তিনি বলেন, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর মতো সুবিধাজনক অবস্থানে আমাদের দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর অবস্থান নয়।
পরামর্শক হিসেবে মাহবুব এম মজুমদার বলেন, আইপিও চলমান প্রবাহ, এটাকে বন্ধ করা যাবে না। আগের দিনের কিছু ফান্ড খারাপ করেছে। এক্ষেত্রে দেখতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত ফান্ডগুলোর কোন কর্তৃপক্ষ এটাকে ব্যবহার করছে কিনা। দেখে-শুনে এবং বুঝে বিনিয়োগে যেতে হবে। যেহেতু এ সময়ে ফান্ডগুলোর অবস্থা ভালো নয়।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ইউনিট পেতে এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডে আবেদনের শেষ সময় ১৬ নভেম্বর এবং ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফিন্যান্স ফান্ডে আবেদন ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত সব বিনিয়োগকারী করতে পারবেন।
ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফিন্যান্স : প্রতিষ্ঠানটির আইপিও আবেদন আগামী ৮ই নভেম্বর শুরু হয়ে ১২ই নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। আইপিওর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ১৫ কোটি ইউনিট ছাড়বে। প্রতিটি ইউনিটের মূল্য ১০ টা হিসেবে পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করবে ১৫০ কোটি টাকা। সংগৃহীত অর্থে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ বাবদ ব্যয় করা হবে।

বিডি ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ফান্ডের স্পন্সর। বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিজিআইসি) এর ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ফান্ডের কাস্টডিয়ান (জিম্মাদার) হিসেবে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।

এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি : প্রতিষ্ঠানটির আবেদন আগামী ৮ই নভেম্বর শুরু হবে। চলবে ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানটি আইপিওর মাধ্যমে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বাজারে ৫ কোটি ইউনিট ছাড়বে।

যার মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০টি ইউনিটে। অর্থাৎ প্রতিটি আইপিও অবেদনে শেয়ারহোল্ডারদের ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। আর এর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে স্ট্রাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং স্পন্সর হিসেবে রয়েছে লেকচার পাবলিকেশন্স লিমিটেড। বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিজিআইসি) প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এর কাস্টডিয়ান (জিম্মাদার) হিসেবে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।

ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালটেন্টস লিমিটেড :  প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন ২ নভেম্বর, সোমবার শুরু,  চলবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রবাসি বাংলাদেশিরা এ সময়ে আবেদন করতে পারবেন।

ইনফরমেশন টেকনোলজি আইপিওর মাধ্যমে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বাজারে ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ছাড়বে। যার মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০টি শেয়ারে। অর্থাৎ প্রতিটি আইপিও অবেদনে শেয়ার হোল্ডারদের ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। আর এর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি।

1 COMMENT

  1. দেশের শেয়ার বাজারের অবস্থা মোটেই ভাল না। সুস্বাস্থ্যর কোম্পানীগুলোর শেয়ার দর ক্রমান্বয়ে কমছে। অন্যদিকে রুগ্ন কোম্পানীগুলোর শেয়ার দর প্রতি দিন হুহু করছে বাড়ছে। অধিকাংশ মিউচ্যাল তহবিলের শেয়ার দর ফেইস ভ্যালুর অর্ধেক এর কম। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা ও শোচনীয়। নতুন কোম্পানীর বেলায় প্রথম ২/৩ দিন শেয়ার দর ভাল থাকে তার পরের অবস্থা শোচনীয়। এহেন অবস্থায় স্বল্প মূলধনী বিনিয়োগকারীদের অবস্থা বলার অপেক্ষা রাখে না।
    এমতাবস্থায় মিউচ্যাল তহবিল এর আইপিও আবেদন করা অত্যান্তঝুঁকিপূর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here