তালিকাচ্যুতির পথে ১৩টি কোম্পানি

0
4583

স্টাফ রিপোর্টার : রহিমা ফুড ও মডার্ন ডায়িংয়ের পর আরো ১৩ কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুতির পথে রয়েছে। পাঁচ বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দেয়ার কারণে সম্প্রতি আট খাতের ১৩ কোম্পানির ‘পারফরম্যান্স পর্যালোচনা’র সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পর্ষদ।

কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক, আর্থিকসহ সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চিঠি দেবে এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। চিঠির জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিগুলোর তালিকাচ্যুতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, লিস্টিং রেগুলেশনের ৫১(১)(এ) ধারা অনুসারে কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ ধারা অনুসারে, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়া ছাড়াও টানা তিন বছর ধরে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, ঐচ্ছিকভাবে কোম্পানির অবসায়ন কিংবা টানা তিন বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা, টানা তিন বছর ধরে লিস্টিং ফিসহ অন্যান্য ফি প্রদান না করা এবং লিস্টিং রেগুলেশন কিংবা অন্য যেকোনো সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনে ব্যত্যয়ের কারণে কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জ যেকোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত করতে পারবে।

এসব বিষয় বিবেচনা করে জেড ক্যাটাগরির ৩০ কোম্পানির একটি তালিকা পর্যদের কাছে উপস্থাপন করে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এ তালিকা থেকে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিচ্ছে না এমন ১৩ কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পর্ষদ।

কোম্পানিগুলো হচ্ছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড ও জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেড, বস্ত্র খাতের দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড ও ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ব্যাংক খাতের আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড, ট্যানারি খাতের সমতা লেদার কমপ্লেক্স লিমিটেড, প্রকৌশল খাতের কে অ্যান্ড কিউ বাংলাদেশ লিমিটেড, বিবিধ খাতের সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ লিমিটেড, পাট খাতের জুট স্পিনার্স লিমিটেড, ওষুধ ও রসায়ন খাতের বেক্সিমকো সিনথেটিকস লিমিটেড এবং সিরামিকস খাতের শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড।

ডিএসই কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব কোম্পানির পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়ার পাশাপাশি উৎপাদনও বন্ধ আছে অনেক কোম্পানির। অথচ প্রায়ই এসব কোম্পানির শেয়ারদর কোনো কারণ ছাড়াই লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে। কারসাজি চক্রও এসব কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

জেড ক্যাটাগরির এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারের জন্য জঞ্জাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্টের জন্যও এসব কোম্পানি অনেকাংশে দায়ী। এ ধরনের কোম্পানি পুঁজিবাজারে থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। তাই প্রাথমিকভাবে আলোচ্য ১৩ কোম্পানিকে নোটিস দেয়া হবে। তবে পরবর্তীতে বাকি ১৭ কোম্পানির ক্ষেত্রে একই উদ্যোগ নেয়া হবে।

জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, পাঁচ বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়ার কারণে আমরা ১৩ কোম্পানির পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এজন্য প্রথমে নোটিশের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর সার্বিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে।

জবাব সন্তোষজনক না হলে, আইনানুসারে তালিকাচ্যুতির উদ্যোগ নেয়া হবে। রহিমা ফুড ও মডার্ন ডায়িংকে তালিকাচ্যুতির ক্ষেত্রে আগে থেকেই কোনো কিছু না জানানোর কারণে বিনিয়োগকারীরা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। এজন্য এবার আগে থেকেই আমরা ১৩ কোম্পানির পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করার বিষয়টি জানিয়েছি, যাতে সময় থাকতে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক হতে পারেন। আশা করি, বিনিয়োগকারীরা জাংক শেয়ার ও মৌল ভিত্তির শেয়ারের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যটি বুঝতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here