তালিকাচ্যুতির গুঞ্জনে ডজন কোম্পানি!

1
1880

সিনিয়র রিপোর্টার : রহিমা ফুড ও মডার্ন ডাইং কোম্পানি দুটিকে চলতি বছরের ১৮ জুলাই তালিকাচ্যুত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। দুটির তালিকাচ্যুতির পরে আরো ১৪টি কোম্পানির ‘পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলে’ তালিকাচ্যুতি করার আভাস মিলেছে। 

ডিএসইর পক্ষ থেকে দুই ধাপে ১৪টি কোম্পানিকে চিঠিও দেয়া হয়েছে।৫ বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে পারছে না এমন কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে, আইনানুসারে তালিকাচ্যুতির উদ্যোগ নেয়া হবে’ বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন

সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর যেসব কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ আছে বা লভ্যাংশ দিচ্ছে না, সেগুলোকে ‘জঞ্জাল’ হিসেবে দেখছেন তারা।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তালিকাভুক্ত অন্তত ১৬ কোম্পানির উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ আছে। আংশিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আছে আরও কয়েকটি। আর গত পাঁচ বছরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়নি এমন কোম্পানি অন্তত সাতটি। আবার উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু থাকলেও অন্তত পাঁচ বছর লভ্যাংশ দেয় না এমন কোম্পানি আছে আরও সাতটি।

তালিকাভুক্তি প্রবিধান (লিস্টিং রেগুলেশনস) অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম অন্তত তিন বছর বন্ধ থাকলে কিংবা টানা পাঁচ বছর শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দিলে, সেগুলোকে তালিকাচ্যুত করতে পারে স্টক এক্সচেঞ্জ।

উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ সেগুলো হলো- বিচ্‌ হ্যাচারি, বিডি ওয়েল্ডিং, সিএনএ টেক্সটাইল, দুলামিয়া কটন, এমারেল্ড অয়েল, গোল্ডেন সন, জুট স্পিনার্স, কেএন্ডকিউ, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক্ক, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, সমতা লেদার, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।

এ ছাড়া আংশিক ব্যবসায়িক বা উৎপাদন কার্যক্রমে আছে- বিডি অটোকার, বিডি সার্ভিসেস, ঢাকা ডাইং, ইমাম বাটন ও মেট্রো স্পিনিংয়ের।

আর গত পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিগুলো হলো- বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, দুলামিয়া কটন, ইমাম বাটন, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, জুট স্পিনার্স, কেএন্ডকিউ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক্ক, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সমতা লেদার, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, শ্যামপুর সুগার মিলস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, শাইনপুকুর সিরামিক্স ও ঝিলবাংলা সুগার মিলস।

জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন আরো বলেন, ব্যবসায় নেই বা লভ্যাংশ দিচ্ছে না এমন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে রাখার অর্থ হচ্ছে নতুন বিনিয়োগকারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা। এর অবসান হওয়া প্রয়োজন। দেরিতে হলেও ডিএসই এ প্রতারণা থেকে বের হতে কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, যে বাজারে মরা গরুর মাংস বিক্রি হয়, সে বাজারে প্রকৃত ক্রেতা যান না। শেয়ারবাজারও তেমনই। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহায়তা অব্যাহত থাকলে শেয়ারবাজারকে জঞ্জালমুক্ত করতে সময় লাগবে না বলে জানান তিনি।

পেছনের খবর : ১২টি কোম্পানির কর্মক্ষমতা যাচাই করবে ডিএসই

1 COMMENT

  1. তালিকা চ্যুতির গুঞ্জনে ডজন কম্পানি।যে বাজারে মরা গরুর মাংস বিক্রি হয় সে বাজারে প্রকৃত ক্রেতা যায় না।কিন্ত মরা গরুর মাংস বাজারে প্রবেশ করে কি করে? তা বোধগম্য নয়।ভোক্তার অধিকার সংরক্ষনের জন্য সরকার দ্বারা বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান আছে।শেয়ার বাজারে তেমনি নিয়ন্ত্রকপ্রতিষ্ঠান BSEC এবং DSE। শেয়ার বাজারের কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। মোট শেয়ার বিরাশি কোটি আশি লাখ আটানব্বই হাজার চারশত আশি।এর উদ্যোক্তারা ধারন করছেন মাত্র তিন কোটি চুয়াল্লিশ লাখ আটচল্লিশ হাজার আটশত ছিয়ানব্বই। উদ্যোক্তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থ BSEC এবং DSE কে ফাকি বা আন্ধকারে রেখে কিভাবে সব মধু খেয়ে মধুবিহীন চাক সাধারন বিনিয়োগকারিদের কাধে চাপাল?তাহলে সরষের ভিতরেই ভূত!তালিকাচ্যুতি হলে উদ্যোক্তাদের তেমন ক্ষতি হবে না।সাধারন বিনিয়োগকারি মাঠে মারা যাবে।এই কম্পানির মালিকানা পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩.৩০-৩.৬০টাকায়। অর্থ কোম্পানিটি healthy নয়।আবার তালিকাচ্যুতি মানে লাপাত্তা হওয়া। আবার বছরের পর বছর ভাল ভাল নিউজ প্রকাশ করে আসছে।কিন্তু শেয়ার healthy হয়নি।বরং unhealthyহয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here