তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের রফতানি কমায় মুনাফাও কম

0
419

স্টাফ রিপোর্টার : তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের রফতানি কমছে। যার প্রভাব দেখা যাচ্ছে মুনাফায়। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত (তৃতীয় প্রান্তিক) কোম্পানিটির রফতানি কমেছে ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর এ সময় মুনাফা কমেছে ৫২ দশমিক ৬২ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকেও শতভাগ রফতানিমুখী কোম্পানিটির বিক্রি ১৪ শতাংশের বেশি কমেছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রথম প্রান্তিকে নিম্নমুখিতার পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের মুনাফা বেড়েছিল। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে তা ধরে রাখতে পারে নি কোম্পানিটি।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ ২৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার পণ্য রফতানি করে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার পণ্য রফতানি হয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে রফতানি কমেছে ৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই ১৬-মার্চ ১৭) রফতানি হয়েছে ৮৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার পণ্য, যেখানে ২০১৫-১৬ হিসাব বছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৯৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার পণ্য। আগের তুলনায় চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে কোম্পানিটির রফতানি কমেছে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

রফতানি আয় কমায় কোম্পানিটির মুনাফায়ও ভাটা পড়েছে। চলতি ২০১৬-১৭ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কর-পরবর্তী মুনাফা ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা কমেছে।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অর্থাত্ প্রথম তিন প্রান্তিকে নিট মুনাফা ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে।

জানা যায়, ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকা সংগ্রহ করে তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ। এর মধ্যে ৬১ কোটি ৮৭ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮১ টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণে ও ১ কোটি ৯৯ লাখ ৩১ হাজার ৭১৯ টাকা আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয়নির্বাহে খরচ করার ঘোষণা দেয়া কোম্পানিটি।

আইপিওর প্রসপেক্টাস অনুসারে গত বছরের ১৬ এপ্রিল ভবন নির্মাণ ও পূর্ত কার্যক্রম এবং ১৬ আগস্ট যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপনের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। তবে নির্দিষ্ট সময়ে কারখানা সম্প্রসারণের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে এজিএমে বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদনসাপেক্ষে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ভবন নির্মাণ ও পূর্ত কার্যক্রম এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপনের জন্য সময়সীমা বাড়িয়েছে কোম্পানিটি।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ আইপিওতে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ৫৭ কোটি ১১ লাখ টাকা বা ৯২ দশমিক ৩০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে। আর ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা এখনো বাকি রয়েছে। অর্থাত্ কোম্পানিটির সম্প্রসারণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ। জুন ক্লোজিংয়ের বাধ্যবাধকতায় সে বছর ১৮ মাসে হিসাব বছর গণনা করে কোম্পানিটি। সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ওই ১৮ মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয় ৩ টাকা ৩ পয়সা।

ডিএসইতে রোববার তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ বা ১ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে সর্বশেষ ৩০ টাকায় লেনদেন হয়। গত এক বছরে শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৩০ টাকা ৩০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ২৮ টাকা ৭০ পয়সা।

২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১০৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৫২০।

এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৫৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২৬ দশমিক ৬২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ১৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here