তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের ‘আমলনামা’

2
6313

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়া তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আবেদন শুরু হবে আগামী ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার। আবেদন চলবে ৩১ মার্চ মঙ্গলবার পর্যন্ত। তবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সুযোগ থাকছে ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

রাজধানীর বারিধারায় রোববার কোম্পানির নিজস্ব অফিসে কথা হয় এ্সিসট্যান্ট ম্যানেজার ইফতেখার আলম-এর সঙ্গে। তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়া ও কোম্পানির কর্মপরিধী-পরিবেশ নিয়ে একান্ত সাক্ষাতকারে উঠে আসে নানান বিষয়। কোম্পানি নিয়ে আলোচনার চুম্বক অংশ প্রথম পর্বে  কিছু তুলে ধরা হলো। সাক্ষাতকার নিয়েছেন –শাহীনুর ইসলাম।

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ নর্দান গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। এই গ্রুপ অব কোম্পানিতে রয়েছে মোট ৯টি প্রতিষ্ঠান। প্রত্যেকটি কোম্পানি চালু রয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো- নর্দান করপোরেশন লিমিটেড, নর্দান গার্মেন্টস লিমিটেড, নর্দান নিট লিমিটেড,  নর্দান য়্যাম লিমিটেড, ফ্যাশন এশিয়া লিমিটেড, হ্যাং ট্যাক নর্দান গার্মেন্টস লিমিটেড, ইনভাইরো প্যাক, প্রিন্টার্স এন্ড প্রিন্টস লিমিটেড ও তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

কোম্পানি পরিচালনার মূল দায়িত্বে আছেন তিনভাই। তারা হলেন- কোম্পানির সিইও মাহিম হাসান, পরিচালক নাহিম হাসান এবং রফিক হাসান। মা তসরিফা আহমেদ হলেন গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান।

দেশের অস্থিতিশীর পরিস্থিতিতে নর্দান গ্রুপ বেশ ভালো ব্যবসা করছে বলে দাবি করেন ইফতেখার। সার্বিক দিক বিবেচনায় ব্যবসা বেশ ভালো চলছে। কোম্পানি আইপিওতে আসতে ব্যয় করেছে ৩.১২ শতাংশ টাকা। যা ‘তুলনামূলক বেশি’ হলেও তিনি কোম্পানি লিস্টিং থেকে শুরু করে অন্য ব্যয় খুব বেশি নয় বলে দাবি করেন।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার শেয়ার ছেড়ে ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে। কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য এই টাকা বিনিয়োগকারীদের থেকে নেবে। ঋণ পরিশোধের জন্য নয়। দেখুন, অন্য কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণের চেয়ে ঋণ পরিশোধের জন্য বেশি টাকা নেয়। আমাদের কোম্পানি তা করছে না। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্যই করছে।

কোম্পানি ঋণ রয়েছে ৮ কোটি টাকা। যা অন্য কোম্পানির চেয়ে অনেক কম। কোম্পানির কর্মপরিবেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা দেশে টেক্সটাইল খাতের পরিস্থিতি অনেকের জানা। তবুও আমাদের কোম্পানির কোন কর্মচারীর বেতন বকেয়া নেই। যা নর্দান গ্রুপ অব কোম্পানির ঐতিহ্য।

তসরিফা ইন্ডস্ট্রিজ তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানী করে থাকে। কোম্পানির উৎপাদিত পণ্য জার্মান, জাপান, আমেরিকা ইউরোপের বেশ কিছু দেশে রপ্তানী করা হয়। তবে ইউরোপের অর্থনীতি বর্তমানে বেশ নাজুক, এমন পরিস্থিতে কোম্পানি নতুন বাজার তৈরিতে জার্মানীতে পণ্য রপ্তানী করছে।

আইপিও থেকে উত্তোলন করা টাকা দিয়ে গাজীপুরের মাওনা-শ্রীপুরে ডাইং ইউনিট স্থাপন করা হবে। কোম্পানির মূল উপাদান কাঁচামাল আসে প্রধানত চীন থেকে। অন্যান্য মালামাল আমদানী করা হয় বিভিন্ন স্থান থেকে। এছাড়া আরো কাঁচামাল দেশের বাজার ও ভারত থেকেও কেনা হয়ে থাকে।

তসরিফা গ্রুপের কারখানা, টঙ্গীর গোপালপুরে স্টেশনের পূর্ব পাশে মেইন রোডের সঙ্গে রয়েছে।

কোম্পানির ঋণ কম ও ব্যবসা ভালো করছে। তারপরেও কোম্পানি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সালের (৫বছর) মধ্যে ২০১১ সালে একবার ১:১. ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেয়া হয়। এরপরে কোম্পানি আর কোন লভ্যাংশ প্রদান করেনি। ২০১৪ সালে কোম্পানির তথ্যও উপস্থাপন করা হয়নি। (দ্বিতীয় পর্বে)

ডিভিডেন্ট না দেয়ার পেছনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের কোম্পানিতে ঋণ রয়েছে মাত্র ৮ কোটি টাকা। অন্যকোন কোম্পানির তুলনায় খুবই কম। দেশের অস্থির সময়ে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে নতুন করে ডিভিডেন্ট কোম্পানি দেয়নি, তবে নতুন প্রতিবেদন দেয়ার সময়ে ভালো মানের ডিভিডেন্ড দেয়া হবে। এটা আমি আপনাকে আশ্বস্থ করতে পারি। অন্য কোন কোম্পানির সঙ্গে এর তুলনা চলেনা।

প্রত্রিকায় প্রকাশিত PROSPECTUS নীচে দেয়া হলো।19_100বিএসইসি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১৬ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৬ টাকায় কোম্পানিটিকে শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে।

২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া অর্থ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৪৯ পয়সা। নেট এসেট ভ্যালু (এনএভি) হয়েছে ৩৪  টাকা ৪১ পয়সা ।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

আগামী পর্বে থাকছে : কোম্পানির তথ্য গোপন চিত্র, বিনিয়োগকারীর অর্থের নিরাপত্তা, ব্যবসার পলিসি ও লকিন শেয়ার নিয়ে আরো বিস্তারিত।

আরো তথ্য জানতে লিংক

2 COMMENTS

    • Dear Mainul Hossain Shawon,
      স্টক বাংলাদেশ কোন কোন ধরনের কোম্পানিকে প্রমোট করে না । যা সত্য তা লেখার চেষ্টা করে।
      আপনি বোধহয় নিউজটি বুঝতে ভুল করেছেন। এটা একটা সাক্ষাতকার যা কোম্পানির নিজস্ব অফিসে
      এ্সিসট্যান্ট ম্যানেজার ইফতেখার আলম-এর সঙ্গে আমাদের প্রতিবেদকের কথা হয়।
      এখানে প্রতিবেদকের বা আমাদের নিজস্ব কোন মতামত নাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here