ড্রিম হোল্ডিংস ও ৩ ব্যাক্তির ৭৩ লাখ টাকা জরিমানা বহাল

0
269
BSEC- 1স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফু-ওয়াং ফুডসের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির দায়ে তিনজনকে জনিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি। শেয়ার দর কারসাজি ও সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর করা ৭৩ লাখ টাকা জরিমানা বহাল রেখেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা  বিএসইসি।
অভিযুক্ত আবু সাদাত মো. সায়েম আবদুল, মুবিন মোল্লা, মাহমুদা ইয়াসমিন ও ইয়াকুব আলী খন্দকারের ড্রিম হোল্ডিংসের উপর আরোপিত জরিমানা মওকুফের আবেদন নামঞ্জুর করেছে বিএসইসি। তবে অভিযুক্ত ৩জনের মধ্যে ২জন ইতোপূর্বে শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন- আবু সাদাত মো. সায়েম ও আবদুল মুবিন মোল্লা।

সায়েম ও মবিন মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ: ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের শেয়ার সংঘবদ্ধ লেনদেনের (সিরিয়াল ট্রেডিং) অভিযোগে আবু সাদাত মো. সায়েম এবং তার ভাই আবদুল মবিনমোল্লার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বিএসইসি। মামলার অভিযোগনামায় বলা হয়, ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর সময়ে সায়েম ও মবিন মোল্লা ‘সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের (ইএইচএল) শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি করে মুনাফা করেছে যা ১৯৬৯ সালের অর্ডিন্যান্সের ধারা ১৭(বি) (২) এবং (৫) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ওই বছরের ২৭ জুলাই থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আবু সাদাত মো. সায়েম এবং তার ভাই আবদুল মোবিন মোল্লার নিজ নিজ এবং যুগ্ম বিও হিসাবের মাধ্যমে এই কারসাজি সংঘঠিত হয়। ৮টি ভিন্ন বিও হিসাবে প্রতিদিন একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে এ শেয়ারের দর বাড়ানো হয়। ওই সময়ে বাজারে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের শেয়ারের মোট লেনদেনের প্রায় ২৫ শতাংশ এরাই সম্পন্ন করে। যা শেয়ারের উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

আলোচ্য সময়ে ইএইচএলের শেয়ার মূল্য গড়ে ৭৫০ টাকা থেকে প্রায় ১৩৪১-১৩৪৫ টাকায় উন্নীত হয়। অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে গড় মূল্যের মোট ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯২০টি শেয়ার ৪৮ কোটি ১৮ লাখ টাকায় ক্রয় করা হয় এবং ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৪০টি শেয়ার ২৫ কোটি ৮১ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে ১৬ দিনে প্রায় ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা মুনাফা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ভয়াবহ ধসের পর খন্দকার ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১১ সালের ২১ আগস্ট উল্লিখিত ৩ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে তৎকালীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

এদিকে, বিএসইসির ৪৮২তম নিয়মিত সভায় ৩ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানের জরিমানা মওকুফের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। কারণ, জরিমানা মুওকুফ সংক্রান্ত আবেদনের অনুকূলে বিবেচনাযোগ্য কোনো ভিত্তি না থাকায় তাদের আবেদন নামঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত সভায় গৃহীত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে কমিশনের ৪৬৪তম সভায় ফু-ওয়াং ফুডস লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির দায়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর ১৭ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে সেক্টর ২২ অনুযায়ী আবু সাদাত মো. সায়েমকে ৬ লাখ টাকা, আবদুল মুবিন মোল্লাকে ১২ লাখ টাকা, মাহমুদা ইয়াসমিনকে ৪০ লাখ টাকা এবং ইয়াকুব আলী খন্দকারের ড্রিম হোল্ডিংস লিমিটেডকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here