ডে নেটিং-এ গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে ডিএসই

2
2609

দিন শেষে সেটেলমেন্ট সংক্রান্ত বাধা দূরীকরনে ডে নেটিং-এ গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এতে বিনিয়োগকারীরা সহজে দিনের শেষে একই কোম্পানির শেয়ারের মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ পাবে। মঙ্গলবার ডিএসই শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ হাউজের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ জন্য একটি প্রস্তাবনা ডিএসই বোর্ডে উপস্থাপনের পর বিএসইসির কাছে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
বর্তমান পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থার উন্নয়নে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো যাতে বাজার থেকে শর্ত সাপেক্ষে মেয়াদী ঋণ (টার্ম লোন) উত্তোলন করতে পারে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএসই পরিচালক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান জানান, আমরা বৈঠকে কিভাবে বাজারকে ভাল অবস্থায় নিয়ে যেতে পারি সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ডে-নিটিং এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংক বিষয়, ব্যাংকের এক্সপোজার গণনা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যা বাজারকে ইতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করবে।

DSE  2016
জানা গেছে, মঙ্গলবার ডিএসইর শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ডিএসই’র প্রাক্তন সভাপতিদের সাথে ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যেসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দিন শেষে সেটেলমেন্ট সংক্রান্ত বাধা দূরীকরন, ব্যাংকের এক্সপোজার গণনা থেকে মার্কেটের সাথে সম্পৃক্ততাহীন বিষয় বাদ দেয়া, এক্সপোজার গণনার পরিবর্তিত সীমা ২১ জুলাই ২০১৬ এর পরে কমপক্ষে আরো দু’বছর বৃদ্ধির সরকারী ঘোষনার দ্রুত বাস্তবায়ন। এছাড়া বেল আউট ফান্ড গঠন, নন পারফরর্মিং আইপিও’র ক্ষেত্রে বাইব্যাক পলিসি প্রণয়ন, নিয়মিত বৈঠক আয়োজন, বহুজাতিক কোম্পানি এবং ভাল মৌলভিত্তিক কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসা। লভ্যাংশের উপর দ্বৈতকর প্রত্যাহার এবং কর কর্তনের প্রমাণপত্র প্রদান, আইপিও’র ক্ষেত্রে ইস্যু ম্যানেজারকে দায়বদ্ধ করার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। নতুন শাখা অফিস চালু এবং মোবাইল অ্যাপ এর জন্য বুথ চালু করার বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা আলোচনা করেছেন।
ডে নিটিং: এটি হচ্ছে একই দিনে একই কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচার (নেটিং বা সমন্বয়) সুবিধা। বিএসইসির ৫৩৪তম কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। সে সময় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোঃ সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, একই দিনে একই কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পাঠানো প্রস্তাবটিতে কমিশন সম্মতি জানিয়েছে। ওই বিষয়টি উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে ‘এ’, ‘বি’, ‘জি’ ও ‘এন’ ক্যাটাগরির একই শেয়ারে নেটিং করা যাবে। লেনদেনে এ সুবিধা দেয়া ফলে বিনিয়োগকারীরা একই দিনে একই কোম্পানির শেয়ার একবার বিক্রি করে আবার কিনতে পারতো। তবে এ ক্ষেত্রে শেয়ার ও অর্থ দুটোই ম্যাচিউরড (পরিপক্ব) থাকতে হতো। এর ফলে দুই পুঁজিবাজারে নেটিং সুবিধার আওতায় কোনো কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে ওইদিনই সমপরিমাণ মূল্যের অন্য কোনো সিকিউরিটিজ কেনার সুযোগ ছিল।  শুধু ‘জেড’ ক্যাটাগরি ছাড়া অন্য সব ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানি কিংবা মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে এ আর্থিক সমন্বয় সুবিধা ছিল বিনিয়োগকারীদের। তবে ডিএসইতে নতুন স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর নেটিং সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারী ও ট্রেকহোল্ডাররা নেটিং সুবিধা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আসছিল। বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব জায়গায়ই একই শেয়ার নেটিংয়ের সুবিধা রয়েছে, যার আওতায় লেনদেনে অংশগ্রহণকারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দিনে একাধিকবার কেনাবেচা (ডে ট্রেডিং) করে একটি শেয়ার থেকেই মুনাফা করতে পারে, যা বাজারের গতিশীলতা বাড়ানোর পক্ষে সহায়ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here