সিনিয়র রিপোর্টার : অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয়, ব্যাংকের সুদহার কমে যাওয়া ও পাইকারির তুলনায় খুচরা বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় ডুবতে বসছিল সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিমিটেড। লোকসানের দ্বারপ্রান্তে থাকা প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ৫০ কোটি টাকা নিট মুনাফার পর চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে তা প্রায় ৭০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ৫১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

ডেসকোর কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৬৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৪ কোটি টাকা। ছয় মাসে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ৫১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

ডেসকোর কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যয়সংকোচন নীতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানের কারণে গেল অর্থবছরের শেষ দিকে মুনাফায় সফলতা পেয়েছে কোম্পানি। প্রাচুর্য থেকে মুনাফা তলানিতে নেমে আসার কারণ উদ্ঘাটন করে বাস্তবভিত্তিক কিছু পদক্ষেপ নেয়ায় গত বছরই মুনাফা আগের বছরের দ্বিগুণে উন্নীত হয়েছিল। চলতি বছরের শুরু থেকে একই নীতি গ্রহণ ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর কারণে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রথমার্ধে নিট মুনাফা ৪০ কোটি টাকার বেশি বেড়ে ৭০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।

ডেসকোর সচিব এসএম জামিল হুসাইন বলেন, বিদ্যুৎ ক্রয় ও পরিচালন ব্যয়ের বাইরে ডেসকোর ব্যয়ের বড় অংশ যায় আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সংযোগসহ অন্যান্য কাজে। গত অর্থবছর থেকেই এসব কাজে ব্যয়সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে কোম্পানি। প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দরপত্রে সতর্ক অবস্থার কারণে ডেসকোর অন্যান্য ব্যয় অনেক কমে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে শুধু আন্তর্জাতিক দরপত্রে ডলার বিনিময় বাবদ ৩০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছে।

জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে ২০০ কোটি টাকার বেশি থাকলেও ২০১৭ সালে কর-পরবর্তী মুনাফা মাত্র ১৭ কোটি টাকায় নেমে আসে। পরিচালন, প্রশাসনিক ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটি শিগগিরই লোকসানে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিভিন্ন মহল। তবে দ্রুত ব্যয়সংকোচন নীতি গ্রহণ করায় পরের বছর থেকেই সুফল পেয়েছে তারা। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে প্রায় তিন গুণ বেড়ে কর-পরবর্তী মুনাফা ৫০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। চলতি হিসাব বছরেও মুনাফার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে ডেসকো।

সর্বশেষ প্রকাশিত অনিরীক্ষিত অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ডেসকোর কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৬৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৪ কোটি টাকা। ছয় মাসে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ৫১ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭৬ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ৩৪ পয়সা।

কোম্পানিটির নিট রেভিনিউতে ১০ শতাংশের কম প্রবৃদ্ধি থাকলেও ব্যয়সংকোচন নীতি ও অন্যান্য আয় বৃদ্ধি ডেসকোর মুনাফায় উল্লম্ফন হয়েছে বলে ডেসকোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ডেসকোর নিট রেভিনিউ ২ হাজার ১৫১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৯৩৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

এ সময়ে বিক্রি বেড়েছে ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। তবে এ সময় কোম্পানির প্রশাসনিক ব্যয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কমে ১৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। গত বছর প্রথমার্ধে ডেসকোর প্রশাসনিক ব্যয় ছিল ১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ডেসকো সবচেয়ে ভালো ফল পেয়েছে আন্তর্জাতিক দরপত্রের বিপরীতে ডলার বিনিময়ে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটি এক্সচেঞ্জ গেইন বাবদ ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩২ কোটি ৯ লাখ টাকা। তবে ব্যাংকে রাখা এফডিআর বাবদ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা থাকলেও তা কমেছে ডেসকোর। চলতি বছরের অর্থবার্ষিকে সুদবাবদ কোম্পানির আয় হয়েছে ৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে এ কোম্পানি। সমাপ্ত হিসাব বছরে এর ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৭ পয়সা ও এনএভিপিএস ৪০ টাকা ১৩ পয়সা। ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরেও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সরকারের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিটি।

তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এর রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে সরকার ৬৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ, প্রতিষ্ঠান ২২ দশমিক ৩৯, বিদেশী দশমিক ২৮ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here