সিনিয়র রিপোর্টার : ডুবছে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক লিমিটেড। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করায় ডুবছে কোম্পানিটি। কর্তৃপক্ষ ‘সিরামিক পণ্যের ডিজাইন স্থানান্তর’ করতে মেশিনারিজ কেনার তথ্য প্রকাশের পরে সম্ভাবনা বৃদ্ধির বদলে ডুবতে শুরু করে। তবে কবে নাগাদ কোম্পানি মুনাফামূখী এবং পূর্ণ উৎপাদন শুরু করবে তা অনিশ্চিত।

কোম্পানির উৎপাদন চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর বন্ধ করা হলেও ২৭ অক্টোবর কিছুটা চালু করা হয়েছে। তবে সক্ষমতা অনুযায়ী এখনো পূর্ণ উৎপাদনে ফিরতে পারেনি।

অন্যদিকে, সিরামিকস উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, ব্যবস্থপানা ব্যয় বেশি এবং অন্যান্য ব্যয়ের ভারে (ব্যাংক ঋণ ছাড়া) ডুবছে কোম্পানি। আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেশি দেখিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যে কারণে কোম্পানির প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর’১৬) প্রতিবেদনে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১.৭০ টাকা।

Screenshot_3স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান করেছে ১ টাকা ৭০ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১৩ পয়সা। এসময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৩ টাকা ১৯ পয়সা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাজীপুরের জয়দেবপুরে সিরামিকের কারখানায় ৬০০ শ্রমিক কর্মরত আছেন বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও শতাধিক শ্রমিক এখন কর্মরত আছেন। বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা এবং হঠাৎ ‘কোম্পানি লে অফ’ ঘোষণা করায় শ্রমিকরা কারখানা ছাড়েন। কারখানার সাবেক এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন তথ্য উপস্থাপন করেন।

Screenshot_1তিনি বলেন, দু বছর ধরে কারখানার মেইন চুল্লি অবস্থা খুব খরাপ ছিল। এটা ঠিক করতে অক্টোবরে দুই সপ্তাহের জন্য উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। বন্ধের সময়ে এরপরে অনেক কর্মচারি অন্য কোম্পানিতে জয়েন করে। স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের ভেতরে এখন নানান সমস্যা।

নতুন চুল্লিতে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে চুল্লি তৈরির পরেও এখনো ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করতে পারছে না। একই সঙ্গে গ্যাস সংকট প্রচুর এবং মাঝে মাঝে উৎপাদন বন্ধ হয় বলে জানান তিনি।

Screenshot_4যে কারণে বিদেশের বাজার হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Standerd Ceramic
আয়-ব্যয়ের চিত্র

স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রথম প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরলে চোখে পড়ে অব্যবস্থাপনার বিভিন্ন নমুনা। কোম্পানি গত এক বছরের যা আয় করেছে তা গত তিন মাসে ব্যয় হিসেবে দেখিয়েছে। যা বিস্ময়কর!

তথ্য বিশ্লেষনে দেখা গেছে, কোম্পানির ২০১৬ সালে মোট রেভিনিউ ছিল ৫৪,৪০৮ মিলিয়ন টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৫৭,০৫৭ মিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ আয়ের চেয়ে কোম্পানি ব্যয় করেছে ২,৬৫৯ মিলিয়ন টাকা। এর সঙ্গে আরো যুক্ত হয়েছে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয়, অফিস ভাড়া, শ্রমিক বেতনসহ আরো অনেক। গত এক বছরের আয় চলতি বছরের প্রথম (প্রথম প্রান্তিক) তিন মাসে ব্যয় হয়েছে। যা কোম্পানির অব্যবস্থাপনা, যা অনেক দূর্নীতিকেও হার মানায়!

২০১৫ সালে চিত্রে বা আগের বছরের ছিল ৫১, ৯০৫ মিলিয়ন টাকা। সব পরিশোধ করেও কোম্পানির কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ০.১৩ পয়সা। দুর্নীতিগ্রস্থ কোম্পানির পরিপূর্ণ উৎপাদন, বাণিজ্য এবং ব্যবস্থাপনা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে। যেসব কারণে বাড়ছে কোম্পানির আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ!

কোম্পানির আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ জানতে কোম্পানির সেক্রেটারি জামাল উদ্দিন ভুঁঁইয়ার সঙ্গে সোমবার দুপুরে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা সব স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছি। নতুন করে আপনাকে জানাতে পারবো না।

কোম্পানি উৎপাদন সম্পর্কে জানতে চাইলে ‘এ বিষয়েও আমরা যাকে জানানো তাকে জানিয়েছি’ বলে তিনি পরে আসতে বলেন।

Screenshot_5পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে আরো জানতে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক লিমিটেডের অফিসে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর হেলাল উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ‘স্যার না আসায়’ তার পরিবর্তে টেলিফোনে অপরপ্রান্ত থেকে একজন পরিচয় গোপন করে স্টক বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের কোম্পানির উৎপাদন চলছে। দু সপ্তাহের জন্য বন্ধ ছিল, পরে আবার চালু করা হয়েছে।

কোম্পানির ‘তিন মাসে কোম্পানির সর্বোচ্চ লোকসানের কারণ’ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজী হননি।

উল্রেখ্য, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ৩০ জুন’১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৬ পয়সা। আগের সময়ে একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৫০ পয়সা। কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৪ টাকা ৯০ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৪ টাকা ৩৬ পয়সা।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এবং রেকর্ড ডেট ঘোষণা করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here