ডিএসই পরিচালকদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং ও শেয়ার কারসাজির অভিযোগ

0
1036

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কয়েকজন প্রভাবশালীর পরিচালকের বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজি ও মানিলন্ডারিং-এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন ডিএসই বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট, দুইজন ডিএসই পরিচালক  ও বাকি দুই জন সাবেক প্রেসিডেন্ট। বিভিন্ন সময়ে তারা প্রভাব খাটিয়ে ডিএসইর ঠিকাদারদের টাকায় বিদেশ ভ্রমন, প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে শত কোটি টাকা আতসাৎ ও হুন্ডি ব্যবসা ও মানিলন্ডারিং-এর জড়িত বলে জানা গেছে। ডিএসইর এসব কর্তা ব্যক্তিদের নামে অভিযোগ এনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিনিনোগকারী মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক, এনবিআর এবং বিএসইসি’র নিকট পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ডিএসইর বর্তমান পরিচালক ও র‌্যাপিড সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হানিফ ভূইয়া মানি লন্ডারিং এর মাধ্যমে কানাডায় এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ধানমন্ডি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান খান হন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে অর্থ পাচার করছে। ডিএসই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী ক্ষমতা গ্রহনের আগেই হানিফ ভূইয়ার সঙ্গে যুক্তি হয়ে শেয়ার কারসাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হানিফ ভূইয়া প্রভাব খাটিয়ে ডিএসইর বিভিন্ন ঠিকাদাররের টাকায় বিদেশ ভ্রমন করেছেন। জেনারেটর কেনার নামে ডিএসইর ঠিকাদারদের টাকায় যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমন করলেও পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে ভারত থেকে নিম্মমানের জেনারেটর আমদানি করেছেন। ডিএসইর পার্চেস কমিটির উপর প্রভাব খাটিয়ে মিজানুর রহমান খান, হানিফ ভূইয়া, হা জা গোলাম রসুল, মিনহাজ মান্নান ইমন ক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা বিভিন্ন সময় ডিএসইর কেনাকাটায় প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজন্য এনবিআর ও দুদককে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, উল্লেখিত ব্যাক্তিরা বছরের পর বছর সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে। তাদের পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের আয়কর বিবরনীসহ সব সম্পত্তির হিসাব নিকাশ নেয়ার জন্য এনবিআরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, হানিফ ভূইয়া ব্যাংকের চেক চালিয়াতির সঙ্গেও জড়িত। দেশের প্রায় ২৫টি ব্যাংকের চেকবই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সাকুরা’র সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা। ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক মেশিন রিডেবল চেকের প্রবর্তন করলে তা জাপান থেকে ছাপিয়ে আনার শর্ত দেয়া হয় কোম্পানিটিকে। কিন্ত হানিফ ভূইয়া কোম্পানিটির মাধ্যমে চীন ও ভারত থেকে কম দামে ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে সরবরাহ করছে। বিষয়টিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় তদন্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২০১০ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারীর তদন্ত কমিটির প্রধান ইব্রাহীম খালেদ তার তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব ব্যাক্তির ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল তার মধ্যে রকিবুর রহমান ছিল অন্যতম। আর ব্যবসায়ীক দিক দিয়ে রকিবুর রহমান পাটনার হচ্ছেন হানিফ ভূইয়া। ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদনের ১৩৩ ও ১৪৩ পৃষ্ঠায় এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। কিন্ত সরকার তার বিরোদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন না করায় পরবর্তীতে রকিবুর রহমান, শাকিল রিজভী ও হানিফ ভূইয়া বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কারসাজির মাধ্যমে বাজার থেকে শত কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। হানিফ ভূইয়া অল্প সময়ে ডিএসইর পরিচালকসহ বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি ঢাকা ক্লাবসহ প্রায় শতাধিক ক্লাবের মেম্বর হয়েছেন।
এ বিষয়ে হানিফ ভূইয়া এ রিপোর্টারকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্ রনোদিত। আমি দীর্ঘদিন ধরে শেয়ার ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ত নয়। অভিযোগের তদন্ত বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে এসব অভিযোগ তদন্ত করা প্রয়োজন তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। বরং আমি তাদের সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহায়তা করবো। কোন একটি গ্রুপ তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যই এ ধরনের অভিযোগ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here