ডিএসইর চাকরিবিধি আইনসম্মত নয়

0
478
jibon -dse
জীবন চন্দ্র দাস

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লিমিটেডের চাকরিবিধি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯-এ নির্দেশিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রণীত হয়নি। এ কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৃষ্টিতে আইনগত বৈধতা নেই স্টক এক্সচেঞ্জটির নিজস্ব এ বিধিমালার।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক ডিএসইর অর্থ ও হিসাব বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের হঠাৎ চাকরিচ্যুতির পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

জানা গেছে, বিদ্যমান চাকরিবিধি প্রণয়নে ডিএসই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের ধারা ৩৪ ও এর উপধারা ৩-এ বর্ণিত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় এর আইনগত গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে মনে করছে বিএসইসি। এ কারণে নতুন করে চাকরিবিধি প্রণয়ন করতে হতে পারে স্টক এক্সচেঞ্জটিকে।

২০১০ সালে নিজস্ব চাকরিবিধি অনুমোদন করে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। তবে এর আগে অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুসরণ করে বিএসইসির অনুমোদন নেয়নি তারা। নির্দেশনা মোতাবেক অফিশিয়াল গেজেট নোটিফিকেশন আকারে তা প্রকাশও করা হয়নি। দেশের আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ২০১৩ প্রণীত হওয়ার পর তাদের চাকরিবিধি হালনাগাদ করে।

উল্লেখ্য, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের ধারা ৩৪ অনুসারে, নিজ পরিচালক-কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও কাজের পরিধি নির্ধারণ, ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্টদের শাস্তিসহ শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু ও স্টক এক্সচেঞ্জের অন্য অনেক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রবিধান তৈরির ক্ষমতা ভোগ করে স্টক এক্সচেঞ্জ। তবে এ ধারার উপধারা ৩-এ বলা হয়েছে, এ ধারার অধীনে প্রণীত সব প্রবিধান অফিশিয়াল গেজেটে প্রকাশ করতে হবে এবং এর পরই তা কার্যকর হবে।

প্রসঙ্গত, ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগপত্র জমার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অর্থ ও হিসাব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জীবন চন্দ্র দাসকে হঠাৎই চাকরি থেকে সরিয়ে দেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। এর পর থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশনের (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা করা) উদ্দেশ্য কতটা সফল হয়েছে— এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।

গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিস কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই জীবন চন্দ্র দাসকে চাকরিচ্যুত করায় ডিএসইর অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আরো কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হতে পারে বলেও জোর গুজব রয়েছে।

জীবন চন্দ্র দাসের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে চারটি বিষয়ের ব্যাখ্যা চেয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর ডিএসইর পর্ষদকে চিঠি দেয় বিএসইসি। জবাবে ডিএসই জানায়, নিজস্ব চাকরিবিধি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে ডিএসইর জবাবে বিএসইসি সন্তুষ্ট হতে পারেনি বলে জানা গেছে।

এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের স্বাধীন পরিচালকের নিয়মিত অফিসে আসা ও কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়টিও বিএসইসি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জের বিন্যস্তকরণের পর এর সুশাসন দেখভাল করা বিএসইসির দায়িত্ব বলে মনে করছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এর আগে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগপত্র ইস্যুতেও তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

চাকরিবিধির আইনি ভিত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ডিএসই কর্মকর্তারা বলেন, ২০১৩ সালে বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশনস, ২০০০ গৃহীত প্রবিধান সংশোধন করে ডিএসই, যেখানে পরিচালনা পর্ষদকে নিজ কর্মকর্তা-কর্মচারীসংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হয়। এক্ষেত্রে বিএসইসির অনুমোদন ও আলাদা করে গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই।

চাকরিবিধি প্রণয়নের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি সম্পর্কে স্টক এক্সচেঞ্জটির একজন পরিচালক বলেন, এ সম্পর্কে পর্ষদ অবগত ছিল না। ব্যবস্থাপনা বিভাগও এমন কিছু জানায় নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here