ডিএসইর এজিএমে ৩ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

0
97

স্টাফ রিপোর্টার : পরিচালনা পর্ষদের ঘোষণা করা ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) ডিএসই থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে ডিএসইর চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের সুদীর্ঘ পথচলায় আমরা আমাদের পূর্বসূরীদের দেখানো পথ ও স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই আগামীর পথে। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধনায় স্টক এক্সচেঞ্জ আজ এই গৌরবময় অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে, তাদের আমরা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি।

‘একই সাথে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এ যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আর যারা এখনো আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের আসু সুস্থতা কামনা করছি’ বলেন ইউনুসুর রহমান।

এ সময় তিনি মুজিববর্ষ উপলক্ষে ডিএসইর নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে-

> নবনির্মিত ডিএসই টাওয়ারের লেভেল-১ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন।
> আধুনিক ও তথ্যসমৃদ্ধ মুজিব কর্নার স্থাপন।
> বিশ্বের বিভিন্ন স্টক এক্সচেঞ্জ ও ফেডারেশন অব এক্সচেঞ্জসহ (ডব্লিউএফই) পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বিশ্বদরবারে সোনার বাংলা গঠনে ‘পুঁজিবাজার ও বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক স্বপ্ন’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনার অনুষ্ঠানের আয়োজন।
> বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণাকর্ম, ইতিহাস এবং সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে ২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে উত্তরীয় প্রদান।
> একটি মূল্যবান সচিত্র গ্রন্থ প্রকাশ।
> দেশব্যাপী স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আশা করছি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ডিএসইর নবনির্মিত ভবন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, মুজিব কর্নার ও আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আমরা মুজিববর্ষ উদযাপনের কর্মসূচি সম্পন্ন করব।

তিনি বলেন, অনেক উত্থান-পতনের পর পুঁজিবাজার আজ আস্থা ও গতিশীল বাজারে পরিণত হয়েছে। এই গতিশীলতার পেছনে রয়েছে বর্তমান সরকারের পুঁজিবাজার বিষয়ক নীতিসহায়তা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক ভূমিকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, স্টক এক্সচেঞ্জের নিরলস প্রচেষ্টা, বাজার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের একাগ্রতা ও নিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ও প্রজ্ঞা।

এর ফলশ্রুতিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন এক হাজার পাঁচশ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির চিত্র ও পরিবেশ বিনিয়োগবান্ধব, যার ফলে বাংলাদেশ আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পাবে- বলেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

সভায় বক্তব্য রাখেন মো. শহীদুল্লাহ সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ আনোয়ার হোসেন, শ্যামল ইকুইটি ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাজেদুল ইসলাম, এনএলআই সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহেদ ইমরান, মডার্ন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা নূর-ই-নাহরীন, ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ সাদেক, রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রশিদ লালী, প্রুডেনশিয়াল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদুল হক, বুলবুল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস শাহুদুল হক বুলবুল এবং গ্রিনল্যান্ড ইকুইটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম রাজিব আহসান।

ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন পরিচালক মো. রকিবুর রহমান এবং নবনির্বাচিত পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here