ডিএসইতে লেনদেনে বিস্ময়!

0
805
ডিএসইতে বৃহস্পতিবারের শেয়ার লেনদেনের চিত্রটি স্টক বাংলাদেশের গ্রাফে প্রকাশ

সিনিয়র রিপোর্টার : করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে দুই মাস পর পুঁজিবাজার সচল হলেও লেনদেন বিস্ময়করভাবে নেমেছে তলানিতে। ঢাকার পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বৃহস্পতিবার ৪২ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এর চেয়ে কম লেনদেন হয়েছিল ২০০৭ সালের ২৪ এপ্রিল। সেদিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

দুই মাস বাদে চালু হওয়ার পর প্রথম দিনে পুঁজিবাজারে উল্লম্ফন দেখা গেলেও তারপর থেকে টানা পড়ছে বাজার। বুধবার লেনদেন হয়েছিল ১৫২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হাসান বলেন, পুঁজিবাজারে শেয়ারের বিক্রেতা আছে, কিন্তু ক্রেতা নেই। হয় ক্রেতারা আরও কম দামে শেয়ার কিনতে চাচ্ছে অথবা এখন বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে না।

সার্কিট ব্রেকার দেওয়ার কারণে শেয়ারের দাম আর কমছে না। সার্কিট ব্রেকার দেওয়ার ফলে পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও লেনদেন কমে যাওয়ার রেকর্ড আছে। এর আগে পতন ঠেকাতে শেয়ারের দর পরিবর্তনের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সীমা বেঁধে দিয়েছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ডিএসইতে বৃহস্পতিবারের শেয়ার লেনদেনের চিত্রটি স্টক বাংলাদেশের গ্রাফে প্রকাশ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্ক আর টানা দরপতনের পর গত ১৯ মার্চ সার্কিট ব্রেকারের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়।

তাতে বলা হয়, ১৯ মার্চের আগের পাঁচ দিন প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের ক্লোজিং প্রাইসের গড় হবে ওই কোম্পানির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস। পাঁচদিনের গড় দামের নিচে কোনো শেয়ার লেনদেন হবে না।

দুই মাস বন্ধ থাকার পরে প্রথম লেনদেনে রোববার সূচক বেড়েছিল দেশের দুই পুঁজিবাজারে। পরের চারদিনই কমেছে সূচক।

বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১০ পয়েন্ট বা দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯৫৩ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট হয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৬ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১১ হাজার ২৩৭ পয়েন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ০৫ শতাংশ কম।

সিএসইতে ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা কম।

ডিএসইর অন্য দুই সূচকের মধ্যে বৃহস্পতিবার ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৩ দশমিক ০৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯১৫ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩২১ পয়েন্টে।

ডিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ৩০৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১টির, কমেছে ৩৬টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬২টির দর।

সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১০৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯টির, কমেছে ১৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৫টির। সাধারণ সময়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে চার ঘণ্টা লেনদেন হলেও করোনাভাইরাস সঙ্কটের কারণে বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ৩ ঘণ্টা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here