গ্রামীণফোন ডাটা ব্যবসায় এগিয়ে

0
489

স্টাফ রিপোর্টার : ডাটা ব্যবসার ওপর ভর করে ২০১৬ সালে বিক্রয় ও কর-পরবর্তী মুনাফায় ভালো ফলাফল দেখিয়েছে গ্রামীণফোন লিমিটেড। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে আগের বছরের তুলনায় কোম্পানিটির ডাটা ব্যবহার ১৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ ও বিক্রয় ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় ২০১৫ সালে কর-পরবর্তী মুনাফা কমলেও এবার তা ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্নত নেটওয়ার্ক সেবার কারণে ২০১৬ সালে গ্রামীণফোনের ডাটা ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এ সময়ে কোম্পানির ডাটা বিক্রি ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন সংযোগও বেড়েছে ১২ শতাংশ। পাশাপাশি রেভিনিউ অনুপাতে পরিচালন ব্যয় কমাতে কোম্পানির কৌশলগত নীতিও নিট মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

গ্রামীণফোনের সিইও পেটার ফারবার্গ বলেন, ২০১৬ সাল গ্রামীণফোনের জন্য একটি ব্যবসায়িক সাফল্যের বছর ছিল। ডাটা রাজস্বের ভালো প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ভয়েস খাতেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সসয়ে বায়োমেট্রিক যাচাই প্রক্রিয়া ভালোভাবে সম্পন্ন করে ৯০ শতাংশ স্থানে থ্রিজি সেবা পৌঁছে দিতে পেরেছি।

মূলত উন্নত নেটওয়ার্ক সেবা ও বিস্তৃতির কারণে এ সময়ে ডাটা প্রবৃদ্ধিতে সফলতা দেখা গেছে। ভবিষ্যতে আমরা এক বছর আগে হাতে নেয়া কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মূল্য সংযোজনের ব্যবস্থা করব।

আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৯ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০১৬ সালে ১১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার মোট রেভিনিউ দেখায় গ্রামীণফোন, যেখানে আগের বছর মোট রেভিনিউ ছিল ১০ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, আগের বছর যা ছিল ১ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা।

২০১৪ সালে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। সমাপ্ত বছরে গ্রামীণফোনের মোট বিক্রি ও মুনাফায় মূল ভূমিকা রেখেছে এর ডাটা বিক্রি। এ সময়ে ডাটা বিক্রি ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ, গ্রাহক ৫৬ দশমিক ১ ও ডাটা ব্যবহারের পরিমাণ ১৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর কোম্পানিটি নিজস্ব নেটওয়ার্কে ৮৮ লাখ ডাটা গ্রাহক যোগ করার ফলে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছেন।

সর্বশেষ বছরে ডাটা গ্রাহক বৃদ্ধির সঙ্গে নতুন সংযোগে (আন্তঃসংযোগ আয় ব্যতীত) বিক্রি বেড়েছে ১২ শতাংশ। গ্রাহকদের মিনিট ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ার ফলে এ সময়ে কোম্পানির ভয়েস বিক্রি বেড়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। কোম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীর হার ২ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে ২০১৬ সাল শেষে এর মোট গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮০ লাখে।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, আয় বাড়াতে ২০১৬ সালে ২ হাজার ১১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে কোম্পানিটি। এসব বিনিয়োগের মধ্যে অধিকাংশই ডাটাকেন্দ্রিক বা থ্রিজি ও টুজির অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়। পাশাপাশি সর্বশেষ বছরে সরকারকে ৫ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার রাজস্ব দিয়েছে বলেও জানায় কোম্পানিটি।

গ্রামীণফোনের সিএফও দিলীপ পাল বলেন, গ্রামীণফোনের ডাটা ব্যবসা সম্প্রসারণ ও পরিচালন দক্ষতার কারণে সর্বশেষ হিসাব বছরে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বিক্রয় প্রবৃদ্ধির বিপরীতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ব্যয় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ও পরিচালন দক্ষতা কোম্পানিকে ভবিষ্যতে লাভজনক থাকতে সহায়তা করবে।

এদিকে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের ৯০ শতাংশ চূড়ান্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে গ্রামীণফোন। আগের ৮৫ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশসহ মোট লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭৫ শতাংশ। বছর শেষে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৬ টাকা ৬৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৪ টাকা ৫৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ২৪ টাকা ৮৬ পয়সা। ২০১৫ হিসাব বছরে ১৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পান কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

লভ্যাংশ, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য ২০ এপ্রিল সকাল ১০টায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করবে জিপি। রেকর্ড ডেট ২২ ফেব্রুয়ারি।

গতকাল ডিএসইতে সর্বশেষ ৩০৫ টাকা ১০ পয়সায় কোম্পানিটির শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে এ শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ২২৪ টাকা ৫০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ৩০৯ টাকা।

২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জিপির অনুমোদিত মূলধন ৪ হাজার কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২, যার মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারী ২ দশমিক ৪০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২ দশমিক ৪১ শতাংশ শেয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here