ডাচ-বাংলাকে ভুয়া প্রচারণা বন্ধের নির্দেশ

0
1597

ডেস্ক রিপোর্ট : শিক্ষার্থীদের ১০২ কোটি টাকার বৃত্তি দেওয়ার প্রচারণা চালালেও বাস্তবে তা দিচ্ছে না ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। এই কারণে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে গণমাধ্যম ও বিলবোর্ডে ভুয়া প্রচারণা বন্ধ করতে ব্যাংকটিকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক চিঠির মাধ্যমে মঙ্গলবার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে যথাযথ নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনাদের ব্যাংক এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির যে ব্যবস্থা চালু করেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রদত্ত বৃত্তির পরিমাণ সম্পর্কে ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই আপনাদের শিক্ষাবৃত্তি বিষয়ক বিজ্ঞাপনসমূহ দ্রুত সংশোধন করে এ বিভাগকে অবহিত করার পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি’ সম্পর্কিত বিজ্ঞাপনসমূহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, প্রিন্ট মিডিয়া ও বিলবোর্ড প্রচারের ব্যয় নির্বাহের জন্য এবং ভৌত অবকাঠামো বিনির্মাণে পৃথকভাবে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন প্রকল্পে অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরে ‘পরিসমাপ্তি সনদ’ গ্রহণ করার বিধান রেখে এমওইউ স্বাক্ষর করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করার জন্য পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বিজ্ঞাপনে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে একটু ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছিল। তাই তাদের ভুল তথ্য সংবলিত বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস তাবরেজের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

এই বিষয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহজাদা বসুনিয়া বলেন, এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধান করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠানো ব্যাংকটির সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৪ সাল শেষে ব্যাংকটি এ পর্যন্ত শিক্ষা খাতে বৃত্তি দিয়েছে ৭০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২১ হাজার ৪২৬ জনকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আমরা ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২০১৬ সালের পরে এ প্রকল্পের বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১০২ কোটি টাকা।

প্রচারণায় একটু তথ্যের স্বল্পতা আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিলবোর্ড বা বিজ্ঞাপনে সব কথা লেখা যায় না, তাই সেখানকার তথ্য দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হতে পারেন। এটা কোনো প্রতারণা নয় বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় স্পন্সরদের প্রাপ্য লভ্যাংশ থেকে এ বৃত্তির টাকা প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের পরে যে ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হবে তার শতকরা ৫০ ভাগ ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে ব্যাংক জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মূলত ৬টি ক্যাটাগরিতে গরিব, অসহায় ও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু শিক্ষা খাতে মোট সিএসআর কার্যক্রমের ৩০ শতাংশ ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। আর এটা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই করার কথা। তাই এখানে প্রচারণার কিছু নেই। কিন্তু ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রচারণার নামে দেশের মানুষকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here